» বছরঘুরে ইজতেমা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দু’পক্ষের!

প্রকাশিত: ২০. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বৃহস্পতিবার


মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার: গত বছর ২০১৯ সালেও ভারতের মাওলানা সাদ কান্দলভী’র অনুষারীরা জেলা ইজতেমার নামে মৌলভীবাজারে ইজতেমার আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। সেসময় মৌলভীবাজারের তৎকালিন জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জেলা প্রশাসনের পক্ষে ইজতেমা আয়োজনে অনুমতিও দিয়েছিলন। তখনকার জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম সেই ইজতেমা মাঠের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করার পর কওমীপন্থি আলেমদের নেতৃত্বে তাবলীগের অপর পক্ষের প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত ইজতেমা আয়োজন সম্পন্ন করতে পারেননি সাদপন্থীরা। ঐ সময় অনুমোদন বাতিল করে পুলিশ প্রশাসন মাঠ ত্যাগ করতে তাদের নির্দেশ দিলে আলোর মুখ দেখেনি সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমা। সেসময় তারা অনেক চেষ্টা তদবির চালিয়েও ইজতেমা আয়োজন সম্পন্ন করতে পারেনি। বছরঘুরে আবারো সেই একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দু’পক্ষই তাদের অবস্থানে ফের অটল।

জানা যায়, সাদপন্থী হিসেবে পরিচিত তাবলীগ জামাতের একটি অংশ আগামী ১৩-১৫ মার্চ ৩ দিনব্যাপী মৌলভীবাজার শহরের উপকন্ঠে উপশহর মাঠে জেলা ইজতেমা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাদের পক্ষ থেকে । বিষয়টি আঁচ করতে পেরে কওমীপন্থী আলেমদের নেতৃত্বে সাদ বিরোধী তাবলীগ জামাতের অপর একটি অংশ জেলা ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি না দিতে গত ১৮ ফেব্রæয়ারি দুপুরের দিকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

ঐদিন উলামা পরিষদ মৌলভীবাজার নামের সংগঠনের ব্যানারে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্তাপন করেন জেলার কওমী মাদারাসার উলামা মাশায়েখ ও তাবলীগ জামাতের সাথীরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উলামা পরিষদ এর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গিয়াস উদ্দিন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয় দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা বিশ^ব্যাপি সমাদ্রিত দাওয়াত ও তাবলীগের মূলনীতি বিচ্যুত কিছু ভাই মাওলানা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের লক্ষে ইজতেমার নামে “জেলা ইজতেমা” আয়োজনের পায়তারা করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে ১১.১১.২০১৯ তারিখে জেলার কওমি মাদরাসা, উলামা মাশায়েখ ও তাবলীগী সাথি জেলা ইজতেমার নামে কোন আয়োজনের অনুমতি না দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট লিখিত আপত্তি¡ জানানো হয়। এতদসত্বেও কোন ধরনের অনুমতি ব্যাতিরেকে বিভিন্ন স্থানে ইজতেমার নামে “জেলা ইজতেমার” আয়োজনের তারিখ ঘোষণা করে সাধারণ মুছল্লিদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০১৮ সালের পহেলা ডিসেম্বর টঙ্গি বিশ^ ইজতিমা মাঠে সাদ পন্থিরা হামলা চালিয়ে ৪ হাজারেরও বেশি তাবলীগী সাথি ও মাদরাসা ছাত্র-শিক্ষকদের আহত করে। এর থেকেই প্রতিয়মান হয় মাওলানা সাদের অনুসারীরা মূল তাবলীগ থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়ে হিং¯্র বাহিনীতে পরিণত হয়েছেন।এসব সন্ত্রাসী বাহিনী তাবলীগের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। সেহেতু জেলা ইজতেমা বা অন্যকোন নামে মাওলানা সাদের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচারের সুযোগ দানের কোন অবকাশ নেই।

২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে ও একই ভাবে “জেলা ইজতেমা” নামে সাদ পন্থীরা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। জেলার সকল উলামায়ে কেরাম ও তাবলীগী সাথিদের আপত্তির মুখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয় তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়ে তা বন্ধ করে দেন। মাওলানা সাদের অনুসারীদের জেলা ইজতেমার নামে কোন ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রদানে জোর আপত্তি রয়েছে। সাদ পন্থীদের এধরনের কোন অনুষ্ঠানে অনুমতি দেয়া হলে জেলার উলামায়ে কেরাম আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ইজতেমার অনুমতি না দেয়ার জন্য তারা জোর দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাওলানা শামছুজ্জোহা, মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মুফতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা শেখ আব্দুর রহিম, ক্বারী মাওলানা শামসুল হক, মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, মাওলানা সৈয়দ মুজাদ্দি আলী,মাওলানা সাদ আমীন, মাওলানা ক্বারী আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

এবিষয়ে জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন জানান, ইজতেমার অনুমতি বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি তবে পুলিশের রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতেএনিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

অপরদিকে সাদপন্থী হিসেবে পরিচিত তাবলীগের দ্বায়িত্বশীল মো. ময়নুল ইসলাম এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৮ বার

Share Button