» বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে ৩৮ লক্ষ তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে

প্রকাশিত: ২৪. ডিসেম্বর. ২০১৯ | মঙ্গলবার

কামরুজ্জামান হিমু

বজ্রপাতের প্রভাব কমাতে দেশব্যাপী তালগাছের চারা রোপন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে । এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ লক্ষ তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান । তিনি জানান ,এ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে । দুর্যোগ-বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলিতেও(এসওডি) বজ্রপাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আজ ঢাকায় স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে ব্র্যাক আয়োজিত “বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃায় এসব কথা বলেন । অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অতিঃ সচিব মোঃ মহসীন, বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার এন্ড ফ্লাড মডেলিং এর অধ্যাপক ডঃ এ কে এম সাইফুল ইসলাম এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মোঃ আব্দুল মান্নান ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,বজ্রপাত ব্যবস্থাপনায় আমাদের এখনও পরীক্ষিত মডেল নেই,যেমন আছে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রে । এই সীমাবদ্ধতা উত্তোরণের জন্য সরকার কাঠামোগত ও অ-অবকাঠামোগত দুই ধরনেরই সমাধান চায়। সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে গবেষনার ওপর । কেননা, বজ্রপাত নিয়ে সকল স্তরে অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। একমাত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমেই উত্তোরণের পথ পাওয়া যাবে। এই পর্যায়ে সরকারের ভবিষ্যত অগ্রাধিকার হচ্ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি ও জীবনহানি বৃদ্ধির কারণ নির্ণয়পূর্বক ঝুঁকিহ্রাসে করণীয় সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পদক্ষেপ গ্রহণ,বজ্রপাতে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য বইয়ে এ সংক্রান্ত প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্তকরণ,বজ্রপাতের আগাম বার্তা দিতে গবেষণা কার্যক্রম, আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ ও জনগণকে অবহিতকরণ,জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি ও প্রদর্শন, ভ্রাম্যমান সিনেমা প্রদর্শন, সচেতনতামূলক গান তৈরি করে গ্রাম পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো,বজ্রপাতে ক্ষতিহ্রাসে করণীয় বিষয়ে নির্দেশিকা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, বিল্ডিং কোডে বজ্রপাত বিষয়ে নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সমূহকে সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় বজ্রপাত বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করা।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর বজ্রপাতে প্রায় ২ থেকে ২৪ হাজার লোক মারা যায় এবং প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার লোক আহত হয়। পৃথিবীতে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০ বার বজ্রপাত হয় অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৮০ লক্ষবার বজ্রপাত হয়। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় ভেনিজুয়েলার মারাকাইবো লেকে যা গড়ে বছরে ৩০০ দিন। যাকে পৃথিবীর বজ্রপাতের রাজধানী বলা হয়। এক হিসাবে দেখা যায় ২০১১-২০১৮ সালে দেশে বজ্রপাতে কমপক্ষে ১৭৬০ জন মানুষ নিহত হয়। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে মাত্র ৪ দিনে বজ্রপাতে ৮১ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বাংলাদেশে বজ্রপাতে বিভিন্ন সময়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও অল্প সময়ে এত বেশি লোক কখনো মারা যায়নি। ২০১৮ সালে নিহত হয় ৩৫৯ জন মানুষ । বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃক Lightning Detection System স্থাপনে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৬ বার

Share Button

Calendar

April 2020
S M T W T F S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930