শিরোনামঃ-


» বদরুন্নেছা হাসপাতালের বিরুদ্ধে কি ষড়যন্ত্র চলছে

প্রকাশিত: ০৭. অক্টোবর. ২০২০ | বুধবার

বিশেষ প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত একটি মহল । সম্প্রতি একজন প্রসূতি রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তারা তৎপর হয়েছে হাসপাতালের সুনাম নষ্ট করার জন্য।

কি ঘটেছিল সেদিন

মৃত রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ ও শোকাতুর অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তারা মুহূর্তের মধ্যে শ শ মানুষ জড়ো করে হাসপাতাল আক্রমণ করে । এ অবস্থার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৈরি ছিল না। স্টাফরা ভয়ে যার যার কক্ষে অবস্থান নেয় । পরে পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় ।
ঘটনা এখানেই শেষ নয় । পরদিন বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই প্রসূতি রোগীর মৃত্যু সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যা প্রচার করে । সে সব খবরে কোন ডাক্তার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বক্তব্য ছিল না । বরং বলা হয়েছে , হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে উধাও হয়ে গেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।

যে কারণে মৃত্যু হয়েছিল প্রসূতির 

এ ব্যাপারে হাস্পাতালের পক্ষ থেকে ডাক্তার যাকিয়া শহীদ খান বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর,২০২০, বুধবার বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতাল, মৌলভীবাজার এ একজন অন্তঃসত্বা রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম ভুল তথ্য সম্বলিত খবরাখবর প্রচারিত হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা সবার অবগতির জন্য প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরী মনে করছি।মিসেস লিলি বেগম, বয়স আনুমানিক ৩৮ বছর গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। ওনার ১৫ বছর বয়সী একটি সন্তান আছে, যার ডেলিভারি এই হাসপাতালেই হয়েছিল।
তিনি নিয়মিত চেক আপে আসতেন না।এটা তার বয়স, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।বাড়িতেও তিনি প্রেসার এবং ডায়াবেটিস চেকআপ করতেন না এবং ডায়াবেটিক খাদ্যতালিকা মেনে চলতেন না বলে অনেক আগেই তার অভিভাবকদের আমি বার বার সতর্ক করেছিলাম।
৩০ তারিখ একত্রিশ সপ্তাহের গর্ভ ও প্রসব ব্যাথা নিয়ে উনি সন্ধ্যার পর আমার চেম্বারে আসেন।দেখা যায়, রক্তচাপ ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনেক বেশি এবং তিনি প্রসব অবস্থার
এমন পর্যায়ে আছেন, যাকে আমরা চিকিৎসার পরিভাষায় এডভান্সড স্টেইজ বলি। ওনার অভিভাবকদের ওনার সার্বিক অবস্থা, সম্ভাব্য জটিলতা ইত্যাদি অবহিত করার পাশাপাশি ভর্তির আগেই ওনাকে প্রাথমিক ভাবে তাৎক্ষণিক ভাবে দুইটি প্রেসারের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর প্রবাসী স্বামীর সাথে যোগাযোগের পর তিনি ভর্তি হন।
রাত ৮.৩০ মিনিটে ভর্তির পর পুনরায় রক্তচাপ মেপে বেশি পাওয়ায় (২২০/১১০) তৃতীয় আরেকটি প্রেসারের ওষুধ শুরু করা হয়।উল্লেখ্য, এর মধ্যে রোগীর দুজন অভিভাবক এই অবস্থায় সিজারিয়ান ডেলিভারি চাইলে বর্তমান হাই প্রেসারে তা এনেস্থিসিয়া এবং অপারেশনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানাই।পরবর্তীতে তার জরায়ুমুখ পরীক্ষা করে ডেলিভারি আসন্ন, এ অবস্থায় তাকে লেবার রুমে( স্বাভাবিক প্রসবের জন্য নির্ধারিত কক্ষ) নিয়ে আসি।এখানে অল্প কিছু সময় অতিবাহিত হতে না হতেই ্তার সাডেন কার্ডিয়াক এরেস্ট ( হার্ট এটাক) হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আমি একজন আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ফোনে জানানোর পর দ্রুত উনি লেবার কক্ষে উপস্থিত হয়ে রুগীর জরুরি চিকিৎসা শুরু করেন এবং আমি সহ হাসপাতালের সার্বক্ষণিক মেডিকেল অফিসার ও অন্যান্যরা তাকে সাহায্য করি। বাইরে অপেক্ষমান রোগীর অভিভাবকদের ঘটনা জানানো হয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমাদের সকলের সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে উনি মারা যান এবং ১০.৫০ মিনিটে আমরা তাকে মৃত ঘোষণা করি।
এরপর হাসপাতালে কিছু বহিরাগতদের ইন্ধনে উত্তেজনাকর এবং মারমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কর্মচারী,নার্স, ডাক্তারসহ সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি স্থানীয় থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
সুতরাং, ভর্তির পর রুগী কোন চিকিৎসা পান নাই, ওনাকে জোর করে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে, মৃত্যুর পর ডাক্তার, নার্স সহ সবাই পালিয়ে গেছে- ইত্যাদি মর্মে যেসব সংবাদ প্রচারিত হয়েছে, তা সর্বৈব অসত্য এবং আমার কাছ থেকে প্রকৃত ঘটনা না জেনেই একতরফা ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতাল মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের প্রথম বেসরকারী হাসপাতাল, প্রায় একত্রিশ বছর ধরে সদক্ষতা,সততা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবায়,বিশেষ করে প্রসূতি ও নবজাতক সেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে।এটি শহরের একমাত্র বেসরকারি হাসপাতাল, যেখানে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা দুইজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সার্বক্ষণিক ভাবে রোগীদের সেবা প্রদান করেন।
প্রতিটি জীবন মূল্যবান। একজন চিকিৎসকের সর্বোচ্চ মেধা ও জ্ঞান দিয়ে রোগীকে সুস্থ্য করে তোলার চেষ্টা করেন। স্থানীয় কতিপয় ঈর্ষান্বিত,সুযোগসন্ধানী মহলের ইন্ধনে সেদিনের রোগীমৃত্যুর ঘটনাকে পুঁজি করে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাকে সম্পুর্ণ আড়াল করে বানোয়াট প্রচারণা চালায়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।
কে এই বদরুন্নেছা কেন এই ষড়যন্ত্র

বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বেগম বদরুন্নেছা মৌলভীবাজার শহরে গাইনী বিদ্যায় পারদর্শিতার জন্য নাম, যশ, অর্থ , খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছেন । নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন হাসপাতাল । তাঁর ছেলে ডাক্তার আব্দুল হাদী শাহীন । তিনি নিজেও জেলার একজন খ্যাতিমান গাইনি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ।তাঁর স্ত্রী ডাক্তার যাকিয়া শহীদ খান মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ দুই জেলার মধ্যে প্রথম গাইনি বিদ্যায় ডিজিও এবং এফসিপিএস ডিগ্রিধারী । বেগম বদরুন্নেছা বয়সের কারণে এখন আর সময় দিতে না পারায় এবং তাঁর পুত্র ডাক্তার আব্দুল হাদী শাহীন বিদেশে অবস্থান করায় হাসপাতালের হাল ধরেছেন যাকিয়া শহীদ খান । এই সুযোগটিকে কাজে লাগাতে চেয়েছে তাদের প্রতিপক্ষ । সততা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এই অঞ্চলের জনগণের স্বাস্থ্যসেবায়,বিশেষ করে প্রসূতি ও নবজাতক সেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে এসেছে এই হাসপাতাল ।এখানে দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা দুইজন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ রোগীদের সেবা প্রদান করেন। দালালের উৎপাত না থাকায় এখানকার পরিবেশ আর দশটা হাসপাতাল থেকে আলাদা ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৪ বার

Share Button