» বধ্যভূমিতে রক্তজবা ফোটে

প্রকাশিত: ১৬. জুলাই. ২০১৯ | মঙ্গলবার

শাহাদত বখ্ত শাহেদ

এই বধ্যভূমিতে কেউ আসেনা কোনদিন।
জানেনা কেউ এখানে সারি সারি গুলিবিদ্ধ লাশ শুয়ে আছে।
শুয়ে আছে আমার পিতা,পিতামহ।
আমার মা, দাদিমা,
শুয়ে আছে আমার কবি দাদা।
যিনি শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া দিয়ে
নিজ হাতে কবিতা পোস্টারে লিখে
গভীর রাত্রে অঘুমা শরীরে
পাড়ার গলি, বাজারের পরিত্যক্ত দেয়ালে সাটিয়ে দিতেন
প্রতিবাদের বাক্য।
যিনি কবিতার শব্দে জাগিয়ে দিতেন ঘুমকাতুরে মুক্তিকামী
মানুষদের।

যিনি শব্দে শব্দে মুখোশ খুলে দিতেন
স্বৈরাচার ইয়াহিয়া খানের চক্রান্তের।
তিনিও এখানে ঘুমিয়ে আছেন।
পরম শান্তিতে।

এখানে ঘুমিয়ে আছেন সাহসি সমির মিয়া।
যিনি দেখভাল করতেন দাদার আরতের ব্যবসা।
যিনি রাজাকারদের গলা টিপে ধরেছিলেন
আমাদের বংশধরদের বাঁচানোর জন্য।
শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারেননি তাদের।
দূর থেকে গুলি ছুড়ে তাকে ঝাঁঝরা করে
দিয়েছিল পাকসেনারা।

এই বধ্যভূমিতে কেউ আসেনি কোনদিন।
আমি আসি প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে।

আজ অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি এই জংলায়
সেখানে ফুঁটে আছে ছোট বড় ১৫ টি রক্তজবা ফুল।
মৃদু বাতাসে হেলে-দুলে কি যেন বলছে আমায়।
তাহলে এই ফুল গুলো কি আমার স্বজন।
বড় ফুলটি কি আমার পিতামহ,মাঝারি প্রিয় বাবা,মা।
সবচেয়ে উঁচু ডালে রক্তজবা সাহসী সমির মিয়া।

ছোটো গুলো কি কাকাতো ভাইবোন?

এই নির্জন বধ্যভূমি আপনারা যারা আসেননি তারা একটু আসুন
আসুন কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক। এসে দেখে যান বধ্যভূমির নীরব
আর্তনাদ ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৬ বার

Share Button

Calendar

July 2020
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031