» বয়ানে রামাদান ২৯

প্রকাশিত: ২২. মে. ২০২০ | শুক্রবার


– চৌধুরী হাফিজ আহমদ

আল- কোরআন এর জন্ম মাস বলে খ্যাত আমাদের মানব সভ্যতার উজ্জলতর , সফলতার , মুক্তির মাসের আজকে ২৯ দিন অতিবাহিত করছি । আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর প্রতি তাহার মেহেরবানীতে আমরা সিয়াম কিয়াম করতে পেরেছি আরও শুকরিয়া তিনি যে তাওফিক দিয়েছেন সবাইকে ইফতার ও সাহরী সুচারু রুপে আঞ্জাম দিয়ে অন্যকে সহায়তা করতে পেরেছি । দুরুদ ও সালাম মহানবী সঃ এর প্রতি যিনি মানব সমাজের মুক্তি দুত হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের জন্য রহমত হয়ে থাকবেন – আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ । কোরআন আমাদের কর্ম কাণ্ড অভজারব করে , আমাদের কর্ম গতিবিধি ব্যবসা লেন দেন ব্যবহার চরিত্র প্রতিদিন , কোরআন আমাদের পক্ষে বিপক্ষে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে , আমাদের জন্য সুপারিশ করবে – আমাদের আমল নামায় আল- কোরআনের উপস্তিতি থাকবে । দুনিয়াতে যেমন কোরআন কে মেনে চললে শান্তি সম্মান রিজক নিরাপত্তা বিপদ মুক্তি আসে তেমনি সর্বত্র আল- কোরআন জিবন্ত ও চলন্ত এক কিতাব । রামাদান ও প্রতিবার আসে খবর নিতে কে কি করেছে না করেছে , কে কে তাওবায় অটল আছেন কাহারা তাওবা করে ও আবার সেই আগের অন্যায় কর্মেই রত – সেই অনুযায়ী রামাদান রাহমত বরকত মাগফিরাত নাজাত বণ্টন করে । ক্কাদরের রাত্রে বিশেষ বিশেষ অফার দিয়ে আবার সাধারন ক্ষমা দিয়ে পুরস্কৃত করে , রামাদানের এই ক্ষমতা সয়ং আল্লাহ তায়ালা মনিটরিং করেন বলেই এই মাসের আরেক নাম হচ্ছে শাহরুল্লাহ – আল্লাহর মাস ।
আমরা যা ইবাদত করেছি আজ পর্যন্ত আল্লাহ যেন তা কবুল করে আমাদের কে তাহার গোলামিতে ই রাখেন দুনিয়া ও আখিরাতে তাই কামনা করছি , আবার ও রামাদান আসলে যেন আমাদের কৃত শপথে অটল দেখতে পায় । আমরা ইবাদত করব আমাদের সফলতা ও মুক্তির জন্য যা করব তাহাই পাব – কিন্তু ইবাদত করলেই যে জান্নাত পেয়ে যাব তা নয় , কেউ ই ইবাদতের জন্য জান্নাতে যেতে পারবেনা তা হবে একমাত্র আল্লাহর করুনায় । আজকের দিনের শেষে যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায় তা হলে কালকে আমরা পালন করব ঈদুল ফিতর , এবং এই রাত টি হতে পারে লাইলাতুল ক্কাদর , যে করেই হোক আমরা ইবাদত করতে কার্পণ্য করবোনা , ইবাদত মানেই হচ্ছে স্বচ্ছতা – সফলতা – মুক্তি । রামাদানের যখন ঈদের চাঁদ দেখা হয়ে তখন আমাদের আরেকটা করনীয় আছে আড় টা হচ্ছে ফিতরানা আদায় করা – ফিতরা মানে হচ্ছে ঈদের উপহার যা দিয়ে খাবার বা নাস্তা বুঝায় যা পারা পরশী দের হাক্ক, যা আদায় করা অবশ্য ই জরুরী , এঈ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সঃ থেকে নির্দেশনা রয়েছে স্পষ্ট করে তা দিতে হবে তাও ঈদের জামাতে যাবার আগে আগেই ,এই সাদাক্কায়ে ফিতর রাসুলুল্লাহ সঃ যা দিতে বলেছেন তা হচ্ছে খাদ্য দ্রব্য যার মধ্যে – আটা – খেজুর – গম – কিসমিস ইত্যাদি , তা না দিয়ে যুগের পরিবর্তনে এখন দেয়া হয় এর মুল্য সম টাকা , এই নিয়ে দেশে দেশে আলেম উলামারা নানা রকম কথা বলেন যার কোন ভিত্তি নাই এবং তা মানতে হবে বলে কোন নিয়ম নাই – তবে অবস্তার উপর ব্যবস্তা নিতে আপত্তি করা উচিত হবেনা , যত হাদিসে ফিতরানার কথা এসেছে তাহাকে আল্লাহ তায়ালা আবশ্যক করে দিয়েছেন তাহাই সত্য – এবং তাহা দিতে হবে প্রতিবেশী গরীব দুঃখী দের প্রতি , আমি এই ফিতরানা নিয়ে ব্যবসা করতে দেখি অনেক অনেক সংস্তা কে , এই বানিজ্যে এরা মানুষকে প্রতারনা ই করছে , যুগ যুগ থেকে একশ টাকা ই মুল্যমান ধরে ফিতরানা আদায় করা হচ্ছে , যব – আটা – খেজুর – কিসমিস এর মুল্য কি বৃদ্ধি পায়না ? তাই এই সব কথা না শুনে যেমনটি বলেছেন রাসুলুল্লাহ সঃ তেমনটি দেয়াই আমাদের কর্তব্য আর তা হচ্ছে ৩ – কে জি ৩০০ গ্রাম ` র মত কিসমিস কিংবা খেজুর – আটা র মুল্য পরিশোধ করা , স্মরণ থাকা চাই তা আদায় করতে হবে প্রত্যেক নারী পুরুষ বালেগ সবাইকে ।আল- ইসলামকে আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন সবার জন্য – অযথা বিতর্ক করে যাহারা প্যাঁচ লাগায় এরাই হচ্ছে ধান্ধা বাজ লোভী ব্যবসায়ী তাহারা ধর্মকে দিয়ে ও আখের ঘোচাতে চায় ।এদের থেকে সতর্ক থেকে নিজে কোরআন হাদিস পাঠে তৎপর হলেই এই সব ফিতনা বাজ রা ধুলায় মিশে যাবে । আল্লাহ তাই সবার জন্য পরা লেখা করা ফরজ করে দিয়েছেন , সবার জন্য এক ই সিলেবাস সবার জন্য এক ই ভাষায় এমন এক কিতাব দিয়েছেন যার কোন বিকল্প নাই । কোরআন পাঠে অনেক ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় – শাইতানের যত ফাঁদ আছে তাহা থেকে বাঁচা যায় সহজে , আর এই জন্য ই শিক্ষা সর্ব প্রথম ফরজ করে দেয়া হয়েছে , যখন শিক্ষা অর্জন করবে তখন কোরআন বুঝা সহজ হবে , কোরআন বুঝলে জীবন পরিচালনা ও সহজ হবে এবং আখিরাতে নিশ্চিত মুক্তি লাভ । আজকের রাত বাকী এই রাতকেই কাজে লাগালে পেয়ে যেতে পারি কাংখিত ক্ষমার মুক্তির প্রাপ্তির হাজার মাসের চেয়ে শ্রেস্ট রাত লাইলাতুল ক্কাদর । আমরা আমাদের সকলার জন্য ই ইবাদতে আলাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে তাওবা করি বিগত জিবনের গোনাহ মাফ করাই আগামী জিবনের সুখ শান্তি কামনা করে রামাদান কে এই বছরের মত বিদায় জানাই । অপেক্ষায় থাকি আবার রামাদান মাসকে বরণ করার জন্য , আনন্দ মুখর পরিবেশে বিদায় জানালে রামাদান আমাদেরকে ভুলবেনা , আমরা ও রামাদানের কৃত অভ্যাস ভুলবনা । যদি আমরা আমাদের পরিবর্তিত অভ্যাস কে আগামী ১১ মাস কাজে লাগাতে পারি তবেই বুঝতে পারব কতটুকুন সফলতা পেয়েছি – আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন আমাদের কে যেন সেই পার্থক্য টুকুন বোঝার তাওফিক্ক দেন , রামাদানের বয়ানে আমি চেষ্টা করেছি আল ইসলামের মধ্যে রামাদান যে একটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় , যা মানব জীবন কে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে সক্ষম – অভ্যাস পরিবর্তনে সক্ষম – অক্ষমদের সচল করতে সক্ষম – সমাজ রাষ্ট্র পরিবর্তনে সক্ষম । আল্লাহর কাছে চাই আল্লাহ যেন আমাকে আপনাকে হিদায়াতের পথে চালান – আলাহুম্মা আফিনি ফি বাদানী / বারাকাল্লাহু ফি ঈলমী ওয়া আমালি ওয়া হায়াতি / আল্লাহুম্মার জুক্কনি রিজকান হালালান তাইয়্যিবান / আল্লাহুম্মা আতমিম লানা নুরানা – আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি । আল্লাহুম্মাগফিরলি মাউতা ওয়া মাউতাল মুসলিমিন – রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরা । এই সব দু`আ আমরা প্রতিদিন করব , দু`আ এমন এক শক্তি যা ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়ক , আল্লাহর কাছে পৌছাতে একমাত্র বাহন ই হচ্ছে দু`আ – আল্লাহ কোন দু`আ ফিরিয়ে দেন না – আজ হোক কাল হোক এই দু`আ জবাব দিবেই দিবে – আমি আশাবাদী আশায় থাকি আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হবনা ইনশাহআল্লাহ ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৫৮ বার

Share Button

Calendar

July 2020
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031