» বল কি এখন প্রধানমন্ত্রীর কোটে ?

প্রকাশিত: ০৭. নভেম্বর. ২০১৮ | বুধবার

মাহমুদা রহমান মুন্নী

বল কি এখন প্রধানমন্ত্রীর কোটে ? পরিস্থিতি দেখে তো তাই মনে হচ্ছে । গতকাল সংলাপ শেষে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম সে রকম ই ইঙ্গিত দিয়েছেন । তিনি বলেছেন ,“বল এখন প্রধানমন্ত্রীর কোটে। তিনি বিবেচনা করে যে সিদ্ধান্ত নেন, তার উপরই নির্ভর করে নির্বাচনটি কেমন হবে।”
দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী সিপিবির সভাপতি সেলিম আরো বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন।
সবাইকে এখন আসতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে । এক বার না হলে দু বার । কিন্তু সিদ্ধান্ত  হবে সংলাপের মাধ্যমেই । তাই আজ দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

বুধবার বেলা ১১টার পর গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে শুরু হওয়া এই সংলাপে দুই পক্ষেই ১১ জন করে অংশ নিয়েছেন।

ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের ২০ জনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও শরিকদের ২৩ নেতার সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপে সাত দফা দাবির বিষয়ে সমাধান না আসায় ‘সীমিত’ পরিসরে এই দ্বিতীয় দফার সংলাপ।

খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ভেঙে দেওয়া এবং ইভিএম ব্যবহার না করার দাবিও রয়েছে ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার মধ্যে।

সংলাপে অংশ নিতে গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদকে নিয়ে কামাল হোসেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবনে পৌঁছান।

আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মওদুদ আহমদ ৭ নভেম্বর উপলক্ষে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করে গণভবনে আসেন।

জেএসডির আসম আবদুর রব, আবদুল মালেক রতন, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না ও এস এম আকরামও রয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে ঢুকে লবি হয়ে ব্যাংকোয়েট হলে নির্ধারিত আসনে বসেন। বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংকোয়েট হলে প্রবেশ করলে শুরু হয় রুদ্ধদ্বার আলোচনা।

সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আনিসুল হক, দীপু মনি ও শ ম রেজাউল করিম।

এছাড়া শরিকদের মধ্যে আছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

কামাল হোসেন জোটের সাত দফা দাবি তুলে ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ‘সংবিধানসম্মত বিষয়ে’ আলোচনার জন্য ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গণভবনে আমন্ত্রণ জানান।

কিন্ত গত ১ নভেম্বর গণভবনে বহু আলোচিত সেই সংলাপ শেষে গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেন, এ আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান তারা পাননি। আর জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট নন।

এরপর গত ৪ নভেম্বর আবার সংলাপ চেয়ে কামালের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলে বুধবার বেলা ১১টায় ‘ছোট আকারে’ সংলাপের সময় দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।

মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, সংলাপে তাদের দাবি পূরণ না হলে ৮ নভেম্বর রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চ করবেন তারা। রাজশাহীতে ৯ নভেম্বর ঐক্যফ্রন্টের জনসভা হবে।

আর সমঝোতার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির এই নেতা।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনায় বসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তার সংলাপের ‘ফলাফল’ জানানোর কথা রয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪১ বার

Share Button

Calendar

May 2019
S M T W T F S
« Apr    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031