» বসন্ত যখন লুটোপুটি খায় “মায়ের” চরণে

প্রকাশিত: ১০. মার্চ. ২০১৮ | শনিবার

 

বিশ্বজিত বিজিত

মুগ্ধতার সরল পাঠে ছোট বেলা থেকেই তিনি আমার ভীষণ শ্রদ্ধার।পুরো অবয়বে তিনি মা । চলনে -বলনে এই অধমের মতো অনেকেই তাঁকে মাতৃজ্ঞান করেন। কখনো তাঁকে বলা হয়ে উঠেনি,”মাসীমা” আমি আপনার গুণমুগ্ধ এক অর্থব সন্তান। যে শহরে আমার বেড়ে উঠা সেই শহরের সংস্কৃতির এক মহীরুহ তিনি।
সকলের ছায়া মাসী।শিল্পগুণের লেশ মাত্র আমার কখনো ছিলনা, তাই তাঁর কাছে ভিড়ার কোন সুযোগ আমার হয়ে উঠেনি।পথ চলতে,বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার সাথে দেখা হলেই সেই বিখ্যাত মধুর হাসি!মন ভালো হওয়ার মহৌষধ হতে পারে যে কারো কাছে মাসীমার হাসি। সত্যি বলছি,একটুও বাড়িয়ে বলছি না । আমার মা ও মাসীমার মাঝে আমি কোন তফাৎ খুঁজে পাইনা।দুজনের হাসি,চলনে-বলনে কোথায় যেন চমৎকার মিল । সেই মাসীমা কে যখন তাঁরই হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান,গজেন্দ্র লাল সংগীত সদন এর বন্ধুরা”বসন্ত আজ গুরুর দ্বারে”এই শিরোনামে অনুষ্ঠান আয়োজন করে সম্মাননা প্রদান করে,তখন খুশির সীমা ছাড়িয়ে যায়।এ মহিলাটি এরকম শত সম্মাননার দাবী রাখেন তার কাজের কারণে । সংস্কৃতির তথাকথিত বুদ্ধিজীবি যারা- তারা হয়ত এত সময় করে উঠতে পারেন নি।তাই যখন তাঁরই বিদ্যাপীঠের বন্ধুরা এমন আয়োজন করে তখন কার্যত মাথা নত হয়ে আসে শ্রদ্ধায়।ভালোবাসার।
কত ব্যন্জনাময় উপস্থাপনে একটি অনুষ্ঠান শৈল্পিক রূপ পায় যারা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন তারাই বলতে পারবেন!
কোরাসগুলো কত প্রাণময় ছিল তা প্রকাশে আমি নিতান্তই অক্ষম।শুধু এটুকু বলতে পারি শিল্পীরা মন দিয়ে গেয়েছেন,দর্শকরা প্রাণ ভরে উপভোগ করেছেন।
অনুষ্ঠান আর দর্শকের এমন মেল বন্ধন বহুদিন চোখে পড়েনি।কাল পরিক্রমায় এ অনুষ্ঠানটি বহুদিন মানুষের মনে জলছবি হয়ে ভাসবে।
বহুদিন পর প্রিয় সুজয় চৌধুরীর বাদন মুগ্ধতার শেষ সীমানা পেরোয়। গীটারে মুস্তাফিজুরহমান টিটু ভাই, আর কিবোর্ডে হাসান সাবলীল ছিল । যারা দেখেছেন তারা বলতে বাধ্য হবেন”অসাধারণ!

আহ!কতদিন পরে প্রিয়বর প্রত্যুষ তালুকদারের আবৃত্তি..মনটা খচখচ করে ছেলেটা যদি এশহরেই থাকত তবে কিছু একটা ঠিকই দাঁড়িয়ে যেত।
জীবন বড় দ্যোতনাময় তাই হয়ত এমন অনুরনণ।
ডঃ অনুপম পালের পরিবেশনা ছিল মনে রাখার মতো।
মঞ্চে কুসুম কলিদের বাসন্তী সাজ রঙিন আলোয় ছড়িয়ে পড়ছিল সারাটা মাঠ জুড়ে। আহ! মানুষের তৃপ্তির ঢেঁকুর ছিল আগামীর অনুপ্রেরণা।আজকের অনুষ্ঠান শেষে বুঝা গেছে দর্শক বন্ধ্যাত্বের দিন বুঝি ফুরালো।

যান্ত্রিক জীবনে ঝরাপাতার মতো সময় গুলো কোন সাঁকো তৈরী করেনা -আমিত্বের বাতাবরনে।কিন্ত বিগত হওয়া সন্ধ্যা,আধো রাত্রির অমৃতযোগে -অমৃতপান বহুদিন রসদ জোগাবে শিল্পবোধ সম্পন্ন মানুষের মনে।

তাইতো,হৃদয় নিংড়িয়ে মাসীমার জন্য মাতৃমন্ত্র উচ্চারিত হয় শুদ্ধ শ্লোকে…

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৪৮ বার

Share Button

Calendar

September 2018
S M T W T F S
« Aug    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30