» বহুভাষার বইয়ের সমারোহ ঘটবে যে’ বহুভাষাবিদের নামে

প্রকাশিত: ২৪. অক্টোবর. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

বিনেন্দু ভৌমিক
বাংলাভাষায় দুইজন বহুভাষাবিদ আছেন যাঁরা তাদের বহুধাবিস্তৃত মনীষা, মেধা ও প্রজ্ঞার জোরে প্রথিতযশা হয়েছিলেন। তাঁদের সুনাম ও সুযশ ছড়িয়ে পড়েছিল দিক থেকে দিগন্তরে। তাঁদের একজন হলেন ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আর অন্যজন সৈয়দ মুজতবা আলী।

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ১৮ টি ভাষা জানতেন। আর সৈয়দ মুজতবা আলী- ৯টি। তাঁরা এই ভাষাগুলো শুধু জানতেনই না, এই সকল ভাষায় রচিত সাহিত্যরস ও দর্শনও উপভোগ করতেন সংশ্লিষ্ট ভাষারীতি ও শৈলীকে আত্মস্থ করেই। আর এটা তো সর্বজনবিদিতই যে একেকটা ভাষার বর্ণনা, তার উৎপ্রেক্ষা বা উপমার প্রয়োগকৃত ভাবার্থ কখনোই অন্য ভাষার শব্দাবলী দিয়ে হুবহু হৃদয়ঙ্গম করা যায় না। ধরুন JOHN DONNE’র সেই বিখ্যাত লাইন— ‘FOR GOD’S SAKE, HOLD YOUR TONGUE & LET ME LOVE.’
রবীন্দ্রনাথ এটা অনুবাদ করলেন—
‘দোহাই তোদের একটুকু চুপ কর,
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।’

অনুবাদটিও টানে, কিন্তু প্রথমটিতে যে আকুতি ও সমর্পণ আছে, দ্বিতীয়টিতে তা যেন তেমন করে নেই; অথবা আছে, কিন্তু প্রাণান্ত নিবেদনের কোথায় যেন ঠিক অাগেরটির মতো হয়নি।

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, কতটা উত্তীর্ণ ছিলেন ওই দুই বহুভাষাবিদরা যারা অন্যভাষার রূপমাধুরী অবগাহন করেছেন সেই সব ভাষার পুরোটাকেই আত্মস্থ করে।

আজ তাঁদেরই একজন, সৈয়দ মুজতবা আলী’র নামে পাঠাগার স্থাপন হবে, এটা কতখানি যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক, তা সহজেই অনুমেয়।

আচ্ছা, এই আকাশ-সংস্কৃতির যুগে পাঠাগারের কী খুব প্রয়োজন আছে যেখানে এক ক্লিকেই ডাউনলোড হয়ে যায় লক্ষ লক্ষ ক্লিপস্?

অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যার বলেছিলেন, একটা উপন্যাস পড়লে প্রকৃতি হুট করে চোখের সামনে আসে না, তাকে brainstorm করে কল্পনায় সাজাতে হয়। কিন্তু একটা ছবি বা চলচ্চিত্রে প্রকৃতি থাকে রেডিমেড। ওখানে ব্রেন খাটানোর কোনো ব্যাপার নেই। আর, সৃজনশীল থাকতে গেলে ব্রেনকে যে খাটাতেই হবে। সুতরাং এ বিবেচনায়ও বই পড়তেই হবে।

এবার একটু জিজ্ঞাসু হই, বই কি খালি কবি-সাহিত্যিকরাই পড়বেন? না, ধনবান হতে গেলেও বই পড়া বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দুই ধনীর গল্প বলি। ওয়ারেন বাফেট প্রতিদিন ৬০০ পৃষ্ঠা বই পড়তেন। দিনে ১০ ঘন্টারও বেশি। বিল গেটস বছরে পঞ্চাশটি। কী বুঝলেন? পয়সা কামাতে চাইলেও পড়তে হবে দেদারসে।

আর তারই জন্য কবি সৌমিত্র দেব ও তার পরিবারবর্গ মিলে তাদের মৌলভীবাজারস্থ বাসাটাকেই সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলবার মানসে যে আয়োজন করেছিলেন তার উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আনোয়ার চৌধুরী মহোদয় । তিনি সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন । প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন। উপস্থিত ছিলেন স্ব নামে খ্যাত এতদঞ্চলের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সুশীল নাগরিকবৃন্দ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৩০ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031