বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০১৯

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে
বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে রবিবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেকের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান লাল্টুর সঞ্চালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সাবেক ডীন আ ব ম ফারুক বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী মহান নেতা ছিলেন। বাঙালি মুক্তি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ গঠন করেন। বাঙালির স্বাধীনতা অর্জন, অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় এই দলটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রযেছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শোষিত-বঞ্চিত, নিপীড়িত, অত্যাচারিত ও সাধারণ মানুষের পক্ষে দলটি কাজ করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যতগুলো মহান অর্জন তা এই দলের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছে। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই দলটি অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রিয়ব্রত পাল বলেন, ব্রিটিশ শাসনের সময় থেকেই বঙ্গবন্ধু মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। এরপরে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটলে এবং দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারলেন যে, পাকিস্তানের জন্য লড়াই করলাম, এই পাকিস্তান বাঙালির উপকারে আসবে না। পরবর্তীতে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা দরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। বহু বিবর্তন ও পরিবর্তনের মাধ্যমে আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সত্তর বছরে পা রেখেছে। এই দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাফল্য রয়েছে আকাশচুম্বী। লেখক ও সাংবাদিক অজিত কুমার সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন দক্ষ, সৎ, যোগ্য, দূরদর্শী ও জনদরদী নেতা ছিলেন। তিনি ভাষাসংগ্রামী, স্বাধীনতা সংগ্রামী মহান নেতা ছিলেন। বাঙালির দুঃখে তিনি সবসময় ব্যথিত হতেন। বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সমতা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের জন্য তিনি ব্যাকুল ছিলেন। এই জন্য তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ গঠন করেন। এই দলের নেতৃত্বেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে ও আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজ অর্থনৈতিক মুক্তির যে সংগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, বহু উত্থান-পতন, সফলতা-ব্যর্থতা, চরাই-উতরাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থানে এসেছে। বার বার আওয়ামী লীগের উপরে আঘাত এসেছে কিন্তু সংগঠনপ্রেমিক মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন যুগিয়েছে, শক্তি দিয়েছে ও রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছে এদেশের আপামর জনগণ।
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বাকশালের মহাসচিব কাজী জহিরুল কাইয়ুম বলেন, বাকশাল একটি দর্শন। বাকশাল কোন একদলীয় শাসন ছিল না। বাকশাল ছিল শোষিত-বঞ্চিত, মেহনতী মানুষের কল্যাণে দ্বিতীয় বিপ্লবের অর্থনৈতিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের একটি সুস্পষ্ট কর্মসূচী। এটি প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকতো না এবং সুখে-শান্তিতে প্রতিটি মানুষ বসবাস করত ও বেঁচে থাকার অধিকার পেত। সুতরাং বাকশাল সম্পর্কে যারা অপপ্রচার চালায় তারা না বুঝেই এখনো মিথ্যাচার করছে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুই একমাত্র মহান নেতা যিনি একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় অনুপ্রাণিত করে স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। এই জন্যই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালি জাতির পিতা। বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর মতো জাতীয়তাবাদী নেতা খুব কমই আছেন। আমাদের সৌভাগ্য এই যে, বঙ্গবন্ধুর মতো একজন মহান নেতাকে পেয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রার সত্তর বছর পূর্তিতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সেই সাথে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতয় নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দলমত নির্বিশেষে সকলকে তাঁকে সহযোগীতার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মোঃ নাসিরউদ্দিন, খন্দকার মোঃ নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক, আবুল হোসেন, ড. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ আজিজুল হক, মোঃ নূরউদ্দিন, মুজাহিদুল ইসলাম শিমুল, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল হান্নানসহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের বিভিন্ন থানা ও ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  

http://jugapath.com