» বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চান তথ্যমন্ত্রীরা

প্রকাশিত: ০৫. নভেম্বর. ২০১৯ | মঙ্গলবার

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে একধাপ এগিয়ে নিতে চান তথ্যমন্ত্রীরা ।
ঢাকায় সচিবালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদকার সৌজন্য সাক্ষাতে এলে এক ঘন্টাব্যাপী বৈঠকের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: মুরাদ হাসান, তথ্যসচিব আবদুল মালেক, ভারতের হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলীসহ দু’দেশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আমি দক্ষিণ এশিয়া পরিবেশ সহযোগিতা কর্মসূচির সম্মেলনে যোগদান করতে ঢাকায় এসেছি, যা কাল থেকে শুরু হবে। যেহেতু আমি একইসাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সে কারণে বাংলাদেশের মাননীয় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছি।’

‘আমরা তথ্য ও সংস্কৃতির অনেকগুলো বিষয় যেমন টেলিভিশন ও বেতার সম্প্রচার, চলচ্চিত্র শিল্প খাতে দু’দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধিকল্পে আলোচনা করেছি’ উল্লেখ করে প্রকাশ জাভাদকার বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশ টেলিভিশন এখন সমগ্র ভারতে ফ্রি ডিশের মাধ্যমে দেখা যায়। একইভাবে বাংলাদেশও ভারতের ডিডি চ্যানেল ফ্রি ডিশের মাধ্যমে এখানে সম্প্রচার করছে। এটি পারস্পরিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এছাড়াও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ওপর দু’দেশ মিলে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।’

‘আমি বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি এবং আমরা নিজের শহর পুনে’তেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি, সেখানে দারুণ ফিল্ম সিটি রয়েছে কারণ ড. মাহমুদ আমাকে বলেছেন, তিনি খুব ভালো ফিল্ম সিটি দেখতে চান’ বলেন প্রকাশ জাভাদকার।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে আমরা অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আপনারা জানেন যে, ভারত বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপরে একটি ছবি নির্মিত হচ্ছে, এবং এর কাজ শুরু হয়েছে। সেটির অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ওপর একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েও আমরা কথা বলেছি।’

‘এছাড়া, আমাদের ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রি সম্পর্কে, বিশেষ করে, এফডিসির অধিন যে বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি আমরা নির্মাণ করেছি, সেটিকে আমরা কিভাবে একটি সুন্দর ফিল্ম সিটিতে রূপান্তর করতে পারি, সেজন্য তাদের সহযোগিতা আমরা চেয়েছি। তিনি আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন’ বলেন ড. হাছান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিটিভি এখন সমগ্র ভারতবর্ষে ফ্রি ডিশের মাধ্যমে সবাই দেখতে পাচ্ছে। বাংলাদেশের বেসরকারি চ্যানেলগুলো ভারতে প্রদর্শনের জন্য কোনো বিধিনিষেধ নেই। সেকারণে সেগুলো ত্রিপুরাতে দেখা যায়। এটা আমি নিজে দেখেছি। পশ্চিমবাংলায় সেগুলো দেখা যায় না, কারণ সেখানে বাধাটা হচ্ছে কেবল অপারেটরদের পক্ষ থেকে। তারা উচ্চ ফি দাবি করে। এই বিষয়টি আমরা আলোচনা করেছি। ভারতের মন্ত্রী বলেছেন, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গভীরভাবে দেখবেন যাতে চ্যানেলগুলো সেখানেও দেখা যায়। কারণ পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ। এখন এমনি দেখা না গেলেও অ্যাপস বা ইউটিউবের মাধ্যমে সবাই দেখতে পাচ্ছে। সুতরাং আটকে রাখতে চাইলেও রাখা যায় না। এ বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। তথ্যখাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি দু’দেশের বন্ধুত্বকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২০১ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829