» বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত দেগিতো

প্রকাশিত: ১০. জানুয়ারি. ২০১৯ | বৃহস্পতিবার

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ।

ফিলিপিন্স স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির মাকাতি আঞ্চলিক আদালতের বিচারক সিজার উনতালান বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বিচারক মুদ্রা পাচারের আট দফা অভিযোগে দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করায় প্রতিটি ধারায় তার ৪ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সেই সঙ্গে তাকে জরিমানা করার আদেশ দিয়েছে আদালত, যার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

তিন বছর আগে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া ওই সাইবার চুরির ঘটনায় এই প্রথম কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়া হল। রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা দেগিতোই ছিলেন এ মামলার একমাত্র আসামি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

এর মধ্যে একটি মেসেজের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হলেও বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।

বাকি চারটি মেসেজের মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরে রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। সে সময় ওই শাখার ব্যবস্থাপক ছিলেন দেগিতো।

ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এই সাইবার জালিয়াতির ঘটনা জানাজানি হলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের মানুষ বিষয়টি জানতে পারে ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে।

বিষয়টি চেপে রাখায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন আতিউর রহমান । কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় বড় ধরনের রদবদল।

ফিলিপিন্সে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার মুদ্রা লেনদেনকারী কোম্পানি ফিলরেমের মাধ্যমে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তার হদিস আর মেলেনি।

এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফিলিপিন্সে ঢোকার বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে দেশটির সিনেট কমিটি তদন্ত শুরু করে।

ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর আরসিবিসি তাদের শাখা ম্যানেজর দেগিতোকে বরখাস্ত করে। আর ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় আরসিবিসিকে ১ কোটি ৯১ লাখ ডলার জরিমানা করে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৯৮ বার

Share Button

Calendar

June 2019
S M T W T F S
« May    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30