» বাংলা পঞ্জিকা ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সময় বিভ্রাট

প্রকাশিত: ১৮. জানুয়ারি. ২০২০ | শনিবার


পংকজ কুমার নাগ শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি : বঙ্গাব্দ, বাংলা সন বা বাংলা বর্ষপঞ্জি হল বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি । সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেসৌরদিন গণনা শুরু হয় । পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয় । এই সময়টাই এক সৌর বছর। গ্রেগরীয় সনের (ইংরেজি বর্ষপঞ্জি) মতন বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস । এগুলো হল ‌বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগ্রহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র । 
বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ , আসাম ও ত্রিপুরা অঞ্চলের বাঙ্গালীদের মাঝে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয় । বঙ্গাব্দ শুরু হয় পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে । বঙ্গাব্দ সব সময়ই গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জীর (ইংরেজি ক্যালেন্ডার) চেয়ে ৫৯৩ বছর কম ।
অগণতান্ত্রিক সরকারের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে সংশোধিত বাংলা পঞ্জিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৮৭ সালে গৃহীত হয় । কিন্তু ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা রাজ্যে সকল বাঙ্গালীদের মাঝে পুরাতন পদ্ধতির বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয় । ফলে বাংলাদেশের ১৯৮৭ সালের বাংলা পঞ্জিকা একদিন এগিয়ে যায় এবং পুরাতন পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবহৃত বাংলা পঞ্জিকা একদিন পিছিয়ে যায় । বিশ্বের সকল সনাতনী হিন্দুরা সবসময়ই পুরাতন পদ্ধতির আদি পঞ্জিকার তারিখ ও তিথি অনুযায়ী সকল পূজাপার্বণ সম্পন্ন করে থাকে । ফলে “বাংলাদেশের বাংলা পঞ্জিকা”র সাথে হিন্দুদের পূজাপার্বনের তারিখে কখনোই কোন মিল থাকেনা । 
সাম্প্রতিক সময়ে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়ায় বহুল আলোচিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও সরস্বতী পূজা এক দিনে হওয়ার জটিলতার মূল কারনটিই হচ্ছে “বাংলাদেশের বাংলা পঞ্জিকা”৷ ইলেকশন কমিশন যদি “বাংলাদেশের বাংলা পঞ্জিকা” অনুসরণ করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে থাকেন তাহলে সরস্বতী পূজা হওয়ার কথা (বাংলা ১৫ই মাঘ) ২৯ জানুয়ারি । কিন্তু বিশ্বের সকল বাঙ্গালী হিন্দুরা পুরাতন পদ্ধতির পঞ্জিকা ও তিথি অনুযায়ী সরস্বতী পূজা করবে (বাংলা ১৫ই মাঘ) ৩০ জানুয়ারি । 
দেশের বিভিন্ন স্থানে ও মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রতিবাদ হচ্ছে কিন্তু কেউই এই তারিখ বিভ্রাটের ব্যপারটি লক্ষ্য করছেন না । এই জটিলতার মূল কারন বাংলা পঞ্জিকার তারিখের একদিনের তারতম্য । ১৯৮৭ সালের পূর্বে এই জটিলাতা ছিলোনা । বিশ্বের সকল বাঙ্গালীরা তখন এক পঞ্জিকা অনুসরণ করতেন । আবারো ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে যে, আমরা বাংলাদেশিরা যে বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করি থাকি তা কি আদৌও কি সঠিক পঞ্জিকা…? পুরাতন পদ্ধতির পঞ্জিকার তারিখ অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের সময়ের মিল রয়েছে । কিন্তু “বাংলাদেশে বাংলা পঞ্জিকা”র সাথে অনেক ধর্মের আচার অনুষ্ঠানের সময়ের তারতম্য বিশেষভাবে লক্ষনীয় । 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৫২ বার

Share Button