শিরোনামঃ-


» বাবার আশীর্বাদ

প্রকাশিত: ১৫. জুলাই. ২০২০ | বুধবার

সৈয়দ ইকবাল

কুয়াশায় ঝাপসা হয়ে আসা তবু মনে পড়ে সেই ১৫ জুলাই,বিয়ে করে ছিলাম।ক্যান্সারে মৃত্যুপথ যাত্রী বাবা খুব খুশি হয়ে আশীর্বাদ বা দোয়া করেছিলেন-ভালো থাকবে,ভালো হবে তোমাদের। অবাক কান্ড সত্যি ভালো হতে শুরু হলো। শিশু একাডেমি প্রকাশিত প্রথম ছোট্ট বই ‘কুশল আর মৃত্যুবুড়ো’ নাম করলো। হায়াত মামুদের মত পন্ডিত লোক ‘বিচিত্রা’য় দুই পৃষ্ঠা লিখে বল্লেন বইটি শিশু সাহিত্যে থাকবে। বিটপী বিজ্ঞাপন কোম্পানীতে সাধারণ একজন আর্টিস্ট ছিলাম। কলকাতার হিন্দুস্তান থমসন এ্যাভার্টাইজিং কোম্পানীর ম্যানেজার অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জী ঢাকা এসে বিটপীর গোটা আর্ট সেকশানে আমাকেই যোগ্য ভাবলেন এক বছরের হাতে কলমে তাদের স্কলারশিপের জন্যে। সেখানে এতই ভালো করলাম যে ফিরতেই আর্ট ডিরেক্টর। বিটিসি,বাটা,এস এম সি,সিঙ্গার,মোবিল আরো কত মাল্টি ন্যাশনাল ভালোই হ্যান্ডেল করছি বলে পরের বছরেই সিনিয়র আর্ট ডিরেক্টর। বিটপী তখন নম্বর ওয়ান এ্যাডফার্ম। স্ত্রী সাহানাও ডেনমার্ক দূতাবাস ছেড়ে বিশ্বব্যাংকে চাকরী পেয়েছে। সুরকার আজাদ রহমানের বাড়ি ৬৪/সি গ্রীন রোডের চার তলায় সুন্দর সাজানো গোছানো সংসার আমাদের। রাতে আড্ডা ডিনারে এখনকার সেলিব্রাটি অনেক বন্ধু আসতো বিশেষ করে বন্ধু অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঙ্গ পেতাম বেশী। আলো করে এলো আমাদের একমাত্র কন্যা অগ্নিলা। ওকে নিয়ে চলাচলের সুবিধার জন্যে গাড়ি কিনে ফেল্লাম। তখন আজকালের মত সহজ ছিলোনা গাড়ি কেনা। বন্ধুরা কেউ তখনো গাড়ির কিনেনি। বন্ধুদের আত্মীয় এয়ারপোর্ট থেকে আনা,রাত বিরাতে বন্ধুদের কাউকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার অবলম্বন একমাত্র আমার সাদা পঙ্ক্ষীরাজ পাবলিকা। এত তেল হয়ে গিয়ে ছিলো যে চার বছরের মেয়েকে শিশু পার্কে নিয়ে-নিয়ে এক ঘেঁয়ে হয়ে গেছে তাই কালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে ডিজনীল্যান্ডে নিয়ে গেলাম। ফিরে নিজের প্রথম পেইন্টিং এক্জিবিশন করলাম,তাও রমরমা। গ্যালারী ভর্তি দেশী বিদেশী গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব। বিশ্বব্যাংকের চীফ অব মিশন স্যার ল্যান্ডাল মিলস কিনলেন ৪টি ছবি। বিটিসির জামাল বঙ্গবন্ধুর চশমার পতন,পাইপের পতন নিয়ে আঁকা ‘মর্নিং অব ফিফটিন অগাস্ট’ সিরিজের ৭টি ছবির সব ক’টা নিতে কাড়াকাড়ি করলেন। হুহু করে বিক্রী হতে লাগলো ছবি। বিটিভি আর প্রত্যেক বাংলা ইংরেজী দৈনিকে গুরুত্বের সঙ্গে কাভারেজ পেলাম। আমার স্ত্রী ছাড়া এখন টরন্টো শহরে আর একজন সাক্ষী আছেন যিনি সেই আমার প্রথম প্রদর্শনীতে উপস্থিত হয়ে ছিলেন তিনি কবি দেলওয়ার এলাহী। দুর্ভাগ্য তখন আমার সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি। ভাবতাম বাবা বেশ পাওয়ারফুল আশীর্বাদ বা দোয়া দিয়ে গেছেন! ভালো উথ্থানের গতি। তখনি মাথায় ভূত চাপলো ফরেনল্যান্ডে বসবাস করতে হবে। প্রিয় সায়ীদ ভাই (আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ) হাত চেপে ধরে বল্লেন দেশ ছেড়ে না যেতে। তার সুপারস্টার ভাই আল মনসুরের কথা বলে বোঝালেন। আমি মনে মনে হাসি,আরে আমার ভয় কি! বাবার পাওয়ারফুল আশীর্বাদ বা দোয়া সঙ্গে আছে। গিয়েই ফাটিয়ে ফেলবো সব।
আহ হারে কপাল! ফরেন ল্যান্ডে আসার পর বুঝালাম বাবা আশীর্বাদ বা দোয়া দেশের লিমিটে দিয়ে গেছেন,ইন্টার ন্যাশনাল নয়! এখন আর কপাল চাপড়ালে কি হবে! আগে জানলে বাবার দু’হাত ধরে তখন বলতাম-বাবা! বাবা! শুধু ন্যাশনাল নয়! ইন্টার ন্যাশনাল আশীর্বাদ বা দোয়া দেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮১ বার

Share Button