» বায়ানে রামাদান ৩০

প্রকাশিত: ২৩. মে. ২০২০ | শনিবার

চৌধুরী হাফিজ আহমদ
রামাদান মাসের একেক দিন অত্যন্ত মর্যাদার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক দিন থেকে আরেক দিন গুরুত্ব পূর্ণ হয়ে উঠে । আজকে শেষ দিন তাও বিশেষ মর্যাদা রাখে , তাকওয়া সংযম ত্যাগ সিয়াম কিয়াম করে আমরা এই মাসকে বিদায় জানাব ,রহমত বরকত মাগফিরাত নাজাত দিয়ে আমাদের কে সমৃদ্ধ করে দিয়ে গেল এবং আবার পাবার আশায় আমাদের আনন্দ উপচে উঠার কথা তাই হয় এমন প্রাপ্তিতেই আল্লাহ আমাদের আনন্দ করার জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন ঈদ । এই খুশীর আরও অনেক কারন আছে ,তবে রামাদানের শেষে ঈদের মাধ্যমে আল্লাহ মু`মিন দের জন্য রেখেছেন বিশেষ এক বার্তা । রামাদানের প্রশিক্ষন পূর্ণ করে আমাদের কে আল্লাহর ইবাদতের জন্য নিয়মিত সৈনিক হিসাবে দক্ষ করে সমাজ কে সুস্ত করতে তৎপরতা চালানোই হচ্ছে মূল কাজ । এখন আমরা রামাদানের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে বাকী মাস গুলা আল্লাহর গোলামীতে কাঠানো ই হচ্ছে প্রধান কর্ম । আজকে রামাদানের ৩০ তম দিন চলছে , নিজে নিজেই যদি হিসাব করি তা হলে যোগফল শূন্য , আল্লাহ যদি তাহার দয়ায় আমাদের রহম করেন তা হলে মুক্তি পেতে পারি – এই রামাদানে ও আমরা অনেকে বেশী খেয়েছি অপচয় করেছি বিলাসিতা করেছি , রামাদানের হাক্ক আদায়ে কার্পণ্য করেছি , দান বিতরণে নীতিমালা মেনে চলিনি এই রকম অনেক অনেক ব্যর্থতা আমাদের রয়েছে । এর পরে ও কামনা করি আল্লাহর কাছে তিনি যেন আমাদের হিদায়াত করে কবুল করেন এবং মু` মিন হিসাবে গ্রহন করে সকল নেয়ামত দান করেন , আমাদের খেয়াল রাখা উচিত আল্লাহ কখনো দু`আ কবুল করেন না যাহাদের তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে –
(১) শিরক্ক করে নিয়মিত
(২) বার বার তাওবা করে তা ভঙ্গ করে
( ৩) জাদু করে এবং তাহাতে বিশ্বাস রাখে
(৪) মামা বাবার প্রতি খারাপ আচরন করা
(৫) শাইতানী আমল করার কারনে
এই রকম আরও অনেক কারন আছে দু` আ কবুল না হবার , তবে এই থেকে ও মাফি পেতে পারি যদি সঠিক ভাবে পন করি এবং আজকের মধ্যেই সিজদায় আল্লাহর কাছে নিজেকে পরিবর্তনের হলফ নামা দেই , তা হলে ঘরের ধন ফিরিয়ে আনতে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন ক্ষমা করে হিদায়াত দিতে পারেন , তিনি ই একমাত্র মেহেরবান – আমরা আশা করতে পারি তিনি ই হচ্ছেন আমাদের আশার একমাত্র আলো , তাই আজকে ও ইবাদত তাওবা করতে যেন না ভুলি । এমন করে বিদায় সম্ভাসন জানাবো যেন রামাদান – কোরআন -লাইলাতুল ক্কাদর আমাদের জন্য সব সময় সুপারিশে রাজী হয়েই থাকে । রামাদানের বয়ানে আজকে ৩০ তম পর্ব আলোচনা করতে পেরে আমাকে ও ধন্য মনে করছি , আল্লাহ আমাকে যে তাওফিক্ক দিয়েছেন এর জন্য আমি সিজদানত মস্তকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং প্রেরন করছি সালাত ও সালাম জনাবে মুহাম্মাদ সঃ এর প্রতি যিনি আমাদের জন্য রহমত সরুপ – আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ । আমার আলোচনায় ভুল ত্রুটি আছে মানুষ হিসাবে ভুল থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না সম্মানিত পাঠক মহল থেকে ভুল্গুলা আমাকে জানালে শোধরাবার চেষ্টা করবো এবং আরও শিখতে আগ্রহী হবো । আগামীতে আরও ভাল করে লিখতে পারব বলেই আমি আশাবাদী – আমার এই আলোচনায় অনেক তথ্য নকল করেছি অনেকের লেখনী থেকে , আশা করি সবাই আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন -এত দিন যা আলোচনা করেছি আমি পরিবর্তনের জন্য বলেছি – কোরআন ও আমাদের কে কল্যানের পথে ডাকে , এমন এক জীবন গড়ে তুলতে বলে দুনিয়াতে যা হবে জান্নাত তুল্য । কারন আমাদের আসল জায়গা হচ্ছে জান্নাত – হাক্ক এবং বাতিল এর পার্থক্য বুঝাতেই কোরআন আমাদের কাছে নির্দেশিকা । কোরআনের যে আমল গুলা আছে এর মধ্যে রামাদান অন্যতম যা একমাস ব্যাপী এর পরে হল – নিয়মিত সালাত , ভাল ব্যবহার , আচরন , হালাল কামাই , নিজেকে সংশোধন , জাকাত দান , হাজ্জের জন্য সফর ইত্যাদি , ইনশাহআল্লাহ আমরা তা করব নিয়মিত ভাবে যাহাতে ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি সেই চেষ্টা করবো । হাশরের ময়দানে আমাদের আমল গুলা ওজন করা হবে , এখন যে কর্ম বা অভ্যাস করছি তাহাই ওজন করা হবে , যদি তাসবীহ তাহলীল করি তা দিয়ে মুক্তি পাচ্ছিনা , কর্মের হিসাব দিতেই হবে – ভাল কর্ম করলে এর ফল ও ভাল হবে । তাই রামাদানের অর্জিত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে পথ চলার চেষ্টা করা ভুল হবেনা – কেনই বা পারবনা হালাল কামাই করতে ? কি এমন যে হারাম পথে চলতেই হবে ? অল্পে সুন্তস্ট থাকতে আপত্তি কিসের ? রাসুলুল্লাহ সঃ প্রদর্শিত পথে চলতে হলে ত্যাগ সবর করতেই হবে নতুবা দুনিয়াতেই ক্ষনিক সময় মাত্র ভোগ হবে আখিরাতের জিন্দেগীতে অনন্ত কাল জাহান্নামেই কাঠবে । সেই জন্য ক্ষণিকের ত্যাগ অনেক ভাল কারন আখিরাতের জান্নাত প্রাপ্তি ই আমাদের উদ্দ্যেশ্য , রামাদানের মাধ্যমে আমাদের যে সব অর্জন হল আসুন আমরা তা এখন থেকেই কাজে লাগাই , আগামী কাল ঈদ , এই শাওয়াল মাসেই আমরা যদি আর ৬ টা সিয়াম পালন করি তা হলে রাসুলুল্লাহ সঃ বলেছেন তা হবে সারা বছর সিয়াম পালন সমতুল্য , অনেক হাদিস থেকে আমরা জানিতে পারি শাওয়াল মাসের সিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে , আমরা যদি তা রাখতে পারি তা হলে ধারাবাহিকতা রক্ষা পাবে বলেই মনে করি ।মু`মিনদের জন্য ভাল অভ্যাসের সাথে থাকাই উচিত । এবারের ঈদ সালাত অনেক দেশে হচ্ছেনা মহামারীর কারনে, অনেকেই বলেছেন ঈদের সালাত ঘরে আদায় করার জন্য – এই সব আলেম উলামাদের প্রতি আমার বলার কিছুই নাই কারন এরা এমন এক পর্যায়ে তাহাদের নামিয়েছেন যে এর থেকে নিচু কোন স্তান নেই দুনিয়াতে । মুলত – ঈদের সালাত ওয়াজিব যা খোলা ময়দানে আদায় করতে হয় , যদি খোলা ময়দান না থাকে তবে তা মাছজিদে আদায় করা যাবে – কিন্তু ঘরে একা এর পরিবর্তে নফল আদায় করলে হবেনা , ঈদের সালাতের পরে খুতবা শুনা তাকবীর দিতে দিতে যাওয়া আসা ইত্যাদি শর্ত । বর্তমান জরুরী অবস্তায় ঈদ সালাত আদায় সম্ভব না হলে আমরা ঘরে শুধু তাকবীর দিয়ে দোয়া করে শুকরিয়া আদায় করতে পারি , রাসুলুল্লাহ সঃ বা সাহাবায়ে কিরাম রঃ থেকে ঘরে একা সালাত আদায়ের নির্দেশ নাই এমন কি এই ব্যাপারে কোন ইজমা ও নাই তাই ঈদের সালাতের বিকল্প নাই , সালাত আদায় না করলে ও হবে – তাই এই নিয়ে অযতা পানি ঘোলা করার কারন নাই ।আল্লাহ আমাদের সকলের নিয়তের ব্যাপারে অবগত – তিনি নিয়তের উপর নির্ভর করেই প্রতিদান দেন । আমরা চাইব আবার রামাদান আসুক – আমাদের পবিত্র করতে রামাদানের বিকল্প কিছুই নাই আমরা রামাদানের মহিমা বারবার উপভোগ করি এবং আল্লাহ সন্তোষটি তে নিজেকে নিয়োজিত রাখি । রামাদানের বয়ান নিয়মিত প্রকাশে রেড টাইমস বিডি র সকল কে আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি , উনারা এই মহতি কাজে শরিক হয়েছেন এর জন্য আল্লাহর কাছে ই এর পুরষ্কার চাইছি । কাল ঈদ বলে আজকের ইবাদত যেন না ভুলি – একে অপরে কল্যানের দু`আ করতেই যেন থাকি , দু`আ ই হচ্ছে সকল রোগের জন্য মেডিসিন । সবাই ভাল থাকুন কামনা – মায়াস সালামা এবং পবিত্র ঈদুল ফিতর এর জন্য সবার প্রতি রইল ঈদ মোবারক – তাক্কাবালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম । ওয়ামা আলাইনা ইল্লাল বালাগ ,রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাহ ওয়াফিল আখিরাতি সাহানাহ ওয়া ক্কিনা আজাবান্নার ।

চৌধুরী হাফিজ আহমদ : লেখক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯৯ বার

Share Button

Calendar

August 2020
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031