» বিএনপির মদতদাতা কি ভারতের বিজেপি?

প্রকাশিত: ১২. ফেব্রুয়ারি. ২০১৮ | সোমবার

বিএনপির সাম্প্রতিক অহিংস রাজনীতির মদতদাতা ভারতের বিজেপি।এমনটাই জানিয়েছে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক যুগশঙ্খ ।
রোববার পত্রিকাটির ৫টি এডিশনের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর তার দল বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি- বিএনপি এখন কৌশলী কর্মসূচি গ্রহণ করছে। খালেদা জিয়ার রায় হওয়ার পর আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল দেশটিতে বড় ধরনের হিংসা ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এর কারণ কী? উত্তরে বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার জবাব, জেলে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া নেতাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন আন্দোলনের নামে যেন হিংসা না ছড়ানো হয়। তার নির্দেশ অনুযায়ী আন্দোলন ও কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি।

যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির এই নতুন কৌশলী কর্মসূচি দেয়ার পেছনে নাকি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। দলটির একটি শীর্ষস্তরের পরামর্শ অনুয়াযী বিএনপি এমন শান্ত কর্মসূচি দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের বিজেপি ও বাংলাদেশের বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্তরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি প্রধানের সাজা হওয়ার পর জেলে যাওয়ায় বিজেপির শীর্ষস্তরের সঙ্গে যোগাযোগরত বিএনপির নেতাদের আন্দোলনের নামে হিংসা না ছড়াতে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের বরাতে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষমতাসীন দলটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যোগযোগ রক্ষা করার চেস্টা করছে বিএনপি। মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই বিএনপি সম্পর্ক গড়ার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি বিজেপির শীর্ষ নেতাদের বিএনপির তরফ থেকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে, ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যসহ সব বিষয়ে বড় ধরনের ছাড় দেবে তারা। পাশাপাশি বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অধিকার ও তাদের নিরাপত্তায় সর্বাধিক গুরুত্ব দেবে। এ কারণে সম্প্রতি বিএনপির প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে বিজেপি। যার ফলে বিএনপিকে নানা পরামর্শ দিচ্ছে বলে ওই সূত্রের খবর।

যুগশঙ্খের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই দিনে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ জুড়ে যে বিক্ষোভ করেছে এসব বিক্ষোভ থেকে বড় রকমের হিংসার খবর পাওয়া যায়নি। এরপর দলটি আজ সোমবার থেকে আরও তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে; এর মধ্যে রয়েছে অবস্থান ও অনশন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাঁরা এ মুহূর্তে বনধ অবরোধের মতো কর্মসূচি না দিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চান। একইসাথে তাঁরা তাদের নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনগত লড়াইও চালাবেন বলে তিনি জানান।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, তাঁরা আসলে নির্বাচন সামনে রেখে তাদের দলের নেত্রীর পক্ষে মানুষের সহানুভূতি এবং জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি বনধ অবরোধের মতো কর্মসূচির দিকে না গিয়ে তাদের নেতা কর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখতে চাইছে। যার ফলে গত দুই দিনের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে বা ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো ঝামেলায় জড়ায়নি বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর কারণ কী তাহলে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি না অন্য কিছু?

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৪ বার

Share Button

Calendar

November 2018
S M T W T F S
« Oct    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930