শিরোনামঃ-


» বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলন

প্রকাশিত: ১৬. মার্চ. ২০১৮ | শুক্রবার

 

পাভেল পার্থ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের দুটি প্রধান উপত্যকা, একটি ব্রহ্মপুত্র অন্যটি বরাক। এ রাজ্যেই বাংলা ভাষা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলনের জন্য শহীদ হয়েছেন বাঙালি ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাবিপ্লবীরা। ১৯২৭ সালে আসাম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার রণকেলী গ্রামের আবদুর হামিদ চৌধুরী (সোনা মিয়া) ১৯২২ সালে গোলাপগঞ্জ থানার মাইঝভাগ গ্রামে মগফুর আলীর বাড়িতে সংঘটিত ছিন্ন কোরান মামলার আসামি দারোগার শাস্তি সম্পর্কে জানতে চেয়ে বাংলা ভাষায় প্রশ্ন করেন। জবাবে পরিষদের জুডিশিয়াল মেম্বার বলেন, বাংলা ভাষায় প্রশ্ন করলে এর উত্তর দেয়ার বিধান আইনে নেই। তখন সিলেটের সব সদস্য রুখে দাঁড়ান। তারা দাবি জানান, মাতৃভাষায় কথা বলা মানুষের জন্মগত অধিকার। আসাম সরকার ১৯২৭ সালে বাংলা ভাষাকে পরিষদের ভাষা হিসেবে যুক্ত করেন। ১৯৫২ সালে বাংলাদেশে বাংলা ভাষার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির বুকের রক্ত ঝরানোর ভেতর দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশে (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীতে আসামে বাংলা ভাষার আন্দোলনে শহীদ হন ১১ জন বিপ্লবী। আসামে ১৯ মে ভাষা দিবস পালন করা হয়। এ বরাক উপত্যকাতেই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার জন্য ১৯৯৬ সালে শহীদ হন সুদেষ্ণা সিংহ।

বরাক উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলন (১৯৫৫-১৯৯৬): ১৯৫৫ সাল থেকেই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীরা মাতৃভাষার অধিকার আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করেন। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলন (১৯৫৫-৯৬) শুরু হয় ‘নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী মহাসভার’ ১৯৫৫ সালের দাবির ভেতর দিয়েই, যেখানে তাদের দাবি ছিল, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে বিষ্ণুপ্রিয়া শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং ভাষার অধিকারের দাবিতে ভাষা পরিষদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘সত্যাগ্রহ আন্দোলন’। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সাতটি দাবির ভেতর ছিল: আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার স্বীকৃতি, আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে রাষ্ট্রীয় বেতার কার্যক্রমে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রচার, নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য পরিষদকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান, কেন্দ্র ও রাজ্য সভায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের আসন সংরক্ষণ, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের কোটা সংরক্ষণ, ভাষিক সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং ১৯৬১ সালের আদমশুমারির সংশোধন। সত্যাগ্রহ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালের ২ জুলাই ভাষা পরিষদ ভাষা দাবি দিবস পালন করে। ১৯৬১ সালের ২৫ জুলাই আসাম রাজ্যের শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ১৯৬৩ সালের ২২ মার্চ ডিএন বাজপেয়ি নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য পরিষদের সঙ্গে দেখা করেন। ভাষা পরিষদ ১৯৬৪ সালের ৭ জুলাই আসামের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ১৯৬৮ সালের মে থেকেই স্কুল, কলেজসহ রাস্তাঘাটে পিকেটিং, ধর্মঘট, গণস্লোগানের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৬৯ সালের ১৫ অক্টোবর কাছাড়ের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ রক্ত দিয়ে রক্তস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে। এর পর পরই ভাষা আন্দোলন আরো চূড়ান্ত গণরূপ নেয় এবং ব্যাপক ধর্মঘট, ধরপাকড়, বন্ধ কর্মসূচি চলতে থাকে। ১৯৬৯ সালের ২২ অক্টোবর কাতিগড়া বন্ধ কর্মসূচি থেকে সাত ভাষাবিদ্রোহীকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে একদিকে যেমন চলতে থাকে গণঅভ্যুত্থান, একই দিকে বরাক উপত্যকায় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ভাষা আন্দোলন বন্ধ-ধর্মঘট-ঘেরাও-গ্রেফতারের ভেতর দিয়ে জনরূপ নেয়। নরসিংহপুর, রাতাবাড়ি, শালচাপড়া বন্ধ (৫-২৯ অক্টোবর, ১৯৬৯)। জাপিরবন্দ বন্ধ (৩০ অক্টোবর ১৯৬৯) থেকে ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়, এই প্রথম কোনো নারী ভাষাবিপ্লবীও গ্রেফতার হন। মেহেরপুর বন্ধ (৩১ অক্টোবর ১৯৬৯) থেকে পাঁচজন নারী আন্দোলনকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ১ নভেম্বর ১৯৬৯ সালের পিকেটিং থেকে ২৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়, ৩ নভেম্বর ১৯৬৯ সালে গ্রেফতার হন ৩৮৫ জন, ১-৫ নভেম্বর তিন জেলার ডিসি অফিসে পিকেটিং করে চেয়ার দখল করে নেয়া হয়, ৪-৫ নভেম্বর গ্রেফতার করা হয় ১১১ জনকে। রাষ্ট্রের ধরপাকড় ও নির্যাতনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে ১১-১৩ নভেম্বর শিলচর শহরে বিশাল গণসমাবেশের আয়োজন হয়। শিলচর, নরসিংহপুর, হাইলাকান্দি ও পাথারকান্দিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে ফেলেন ভাষাবিপ্লবীরা, এ ঘটনায় সরকার ২৩৮ জনকে গ্রেফতার করে। ১৭ নভেম্বর ১৯৬৯ শিলচর বন্ধ থেকে ৩০০ জন সত্যাগ্রহীকে গ্রেফতার করা হয়। হাইলাকান্দির ওএসএ মাঠে বিশাল সমাবেশ ডাকা হয় একই বছরের ২১ নভেম্বর, হাইলাকান্দি বন্ধ থেকে সবচেয়ে ব্যাপক ধরপাকড়টি হয় প্রায় দেড় হাজার ভাষাবিদ্রোহীকে সরকার অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। ১৯৬৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘ডিসি অব লিংগুস্টিক মাইনরিটিস ইন ইন্ডিয়া’ শিলচর আসেন এবং মহাসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৯৭০ সাল থেকে ভাষা আন্দোলন অন্য মোড় নেয়। ১৯৭০ সালের ১৯-৩০ এপ্রিলের ভেতর কাছাড়, ত্রিপুরা ও শিলংয়ে ২৪ ঘণ্টার গণঅনশন করেন বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষাবিদ্রোহীরা। ১৯৮২ সালের ২৫ জানুয়ারি আসামের শিল্প মন্ত্রণালয় ও ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্র ইউনিয়ন’-এর মধ্যে একটি বৈঠক হয়। ‘নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী মহাসভা’ এবং ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্র ইউনিয়ন’ যৌথভাবে অবিলম্বে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাকে স্বীকৃতির দেয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আসামের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। ১৯৮৩ সালের ২৫ অক্টোবর আসামের রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলার স্কুলগুলোয় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করার। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত কেবলই সিদ্ধান্তই থেকে যায়, এর কোনো বাস্তবায়ন হয় না। ১৪ নভেম্বর ১৯৮৩ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা চালু-বিষয়ক একটি নোটিফিকেশন হয়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে ৮ ডিসেম্বর ১৯৮৩ তারিখে তা স্থগিত করা হয়। ১৯৮৪ সালে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্য পরিষদ ঠার ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ যাত্রা ও দাবিগুলো নিয়ে প্রকাশিত দলিল (Let history and facts speak about Manipuris) আকারে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে। কিন্তু তার পরও রাষ্ট্র কোনো উদ্যোগ নেয় না। আবারো ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্র ইউনিয়ন’ আন্দোলনের ডাক দেয়। ১৯৮৫ সালের ২ জুলাই ‘নিখিল বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ছাত্র ইউনিয়ন’ দাবি দিবস পালন করে। ১৯৮৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পুনরায় জাপিরবন্দ-সোনাপুরে জনসভা ও রক্তস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে ছাত্র ইউনিয়ন। ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর বরাক উপত্যকার বারমুনি, কাটাখাল, কালানি, পাথারকান্দিতে ২৪ ঘণ্টার জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। ১৯৯২ সালের ১ নভেম্বর আন্দোলনকারীরা জাতীয় কনভেনশনের আয়োজন করেন। ১৯৯২ সালের ১৬ নভেম্বর ৩৬ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ কর্মসূচি আহ্বান করা হয়। ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়া দিসপুরে এক বৈঠক আহ্বান করেন। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে রাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী স্তরে এটিই ছিল কোনো প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। রাষ্ট্রীয় বৈঠকে কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না হওয়ায় আন্দোলনকারীরা পুনরায় ১৯৯৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি হতে ৪৮ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ শুরু হয়। আসামে বিধানসভা চলাকালীন দিসপুরে ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চ ৩৬ ঘণ্টার গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হয়। বিষ্ণুপ্রিয়া ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে ১০১ ঘণ্টার রেল অবরোধ কর্মসূচি আরম্ভ হয় ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল হতে বুরুঙ্গা, কাটাখাল, পাথারকান্দি এলাকায়। এ কর্মসূচির ফলে বরাক উপত্যকায় রেল চলাচল কার্যত বন্ধ ছিল। এ রেল অবরোধ কর্মসূচির ফলে অনেক সত্যাগ্রহী আন্দোলনকারী গ্রেফতার হন। ১৯৯৩ সালের ১০ মে কাছাড়, করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দির তিন জেলার ডিআই এবং ডিইইও অফিসে ১২ ঘণ্টা পিকেটিং করা হয় এবং এর ফলে শিক্ষা বিভাগের অফিস পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ১৯৯৩ সালের ২০ ডিসেম্বরও বরাক উপত্যকার অনেক সড়কে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৫ সালের ২৬ মে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ত্রিপুরা রাজ্যের প্রাথমিক স্কুল গুলোয় (মূলত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী অধ্যুষিত এলাকায়) বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

ভাষা শহীদ সুদেষ্ণা সিংহ (১৯৬৪-১৯৯৬): দুনিয়ায় এ যাবত্ দুজন নারী ভাষার লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছেন। তাদের দুজনই ভারতের বরাক উপত্যকায়। কমলা ভট্টাচার্য আসামের বাংলাভাষা আন্দোলনে শহীদ হন এবং সুদেষ্ণা সিংহ বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলনের জন্য শহীদ হন। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভাষাবিপ্লবীরা বরাক উপত্যকায় ১৯৯৬ সালের মার্চে ৫০১ ঘণ্টার রেল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ১৯৯৬ সালের ১৬ মার্চ আসামের পাথারকান্দির কলকলিঘাট রেলস্টেশনে আন্দোলনকারীদের একটি মিছিলে পুলিশ গুলি করে। এ ঘটনায় অনেক ভাষা বিদ্রোহী আহত হন এবং ব্যাপক ধড়পাকড় হয় এবং মাতৃভাষার অধিকার চাইতে গিয়ে রাষ্ট্রের নৃশংস বন্দুকের গুলিতে জান দেন বিলবাড়ি গ্রামের বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী বিপ্লবী সুদেষ্ণা সিংহ। আসাম রাজ্যের এলিমেন্টারি এডুকেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর ২০০১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বরাক উপত্যকার বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী অধ্যুষিত গ্রামের ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার প্রথম পাঠ্যপুস্তক ‘কনাক পাঠ’ তৃতীয় শ্রেণীতে চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০০৬ সালের ৮ মার্চ ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ‘বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী’ শব্দটি লেখার রাষ্ট্রীয় অনুমোদন দেন।

বাংলাদেশে কি সব জাতির ভাষা সমান স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবে?

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের আপন মাতৃভাষা ঠার ভাষার জন্য দীর্ঘদিনের যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের প্রতি আমাদেরও মনোযোগ রাখা জরুরি। জাতিসংঘ বাঙালির আন্দোলনের বিষয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০০০ সালে দুনিয়ার ১৮৮টি দেশ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে মনোযোগ তৈরি হয়েছে দুনিয়ার সবার মাতৃভাষাকে স্বীকৃতি ও গুরুত্ব দেয়ার। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে এখনো কার্যকরী রাষ্ট্রীয় মনোযোগ তৈরি হয়নি। বলা হয়ে থাকে, দুনিয়ায় চলতি সময়ে সাত হাজারেরও বেশি ভাষা আছে, যার অর্ধেকেরও বেশি ভাষা বিলুপ্তির পথে। দুনিয়ার ৩০ কোটি প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠী মানুষের ভেতর বাংলাদেশের বাঙালি বাদে অপরাপর ৪৫ বা তারও বেশি প্রান্তিক জাতির ৩০ লাখ মানুষের মাতৃভাষাও আজ বলপ্রয়োগকারী করপোরেট পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশের সব জনগণের রাষ্ট্রের সংবিধান কেবল বাংলা ভাষাকেই রাষ্ট্রের একমাত্র সাংবিধানিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি একুশের মহান ভাষা আন্দোলনের মনস্তত্ত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণই বেমানান। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ভাষা আন্দোলন আমাদের নতুন করে মাতৃভাষা অধিকারের জায়গায় কোনো পদক্ষেপ নিতে উত্সাহিত করতে পারে। বাংলা এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী, দুনিয়ায় এ দুই ভাষার জন্যই কেবল জনগণের লড়াই করতে হয়েছে, বুকের রক্ত ঝরাতে হয়েছে। যার সঙ্গে দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও সম্পর্ক কোনো অংশেই কম নয়। বাংলাদেশেও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আছে। সুদেষ্ণা সিংহের দ্রোহ এ ৫০ হাজারের মধ্যেও আছে। দেশের সব ভাষিক সংখ্যালঘু প্রান্তিক জাতির সবার মধ্যেই আছে। রাষ্ট্রকে জনগণের দ্রোহ ও দাবিকে স্বীকার করতে হবেই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭০৫ বার

Share Button