শিরোনামঃ-


» বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা : এ কে এম সামসুদ্দিন এর মৃত্যু বার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ২৫. জুলাই. ২০২০ | শনিবার

বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা : এ কে এম সামসুদ্দিন এর মৃত্যু বার্ষিকী আজ । ১৯৭১ সালে তিনি ৯ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন । ১৯৯৭ সালের এই দিনে তিনি বাগের হাটে নিজ বাসভবনে চিরবিদায় নেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর । তিনি তিন কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক । কন্যাদের মধ্যে কবি তামান্না জেসমিন ও সংগীত শিল্পী সাবিনা লাকি যার যার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত । কনিষ্ঠা কন্যা ফারজানা নাজমিন ( মিতু ) প্যারিসে থাকেন । একমাত্র পুত্র সাইফ উদ্দিন আহম্মেদ সুমন বাগেরহাটে নিজের ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন ।

সাবিনা লাকি রেডটাইমসকে বলেন , আমাদের বাবা খুব আধুনিক রুচিশীল ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন । তিনি নিজে গান করতেন।গান ভালবাসতেন । আমাদেরকে উৎসাহিত করতেন ।

তামান্না জেসমিন রেডটাইমসকে বলেন , আমার বাবার চলে যাওয়াটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়াটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। আমাদের পরিবার থেকে আমার জন্মের আগে আমার বড়বোন মাত্র তিন বছর বয়সে চলে যায়। সে ব্যথা আমার বাবা শেষ বিদায়ের আগের দিন পর্যন্ত ভুলতে পারছিলেন না। প্রায়ই তাঁর ডুকরে কেঁদে ওঠা মুখ দূর থেকে, আড়াল থেকে দেখেছি। কি এক মায়াময় মানুষ ছিলেন তিনি। স্বল্পভাষী, অসীম ধৈর্যশীল, রুচিবান, কুসংস্কারমুক্ত মানুষ ছিলেন। নীরবে, নিভৃতে এবং অভিযোগ- অনুযোগ মুক্ত এক আলোকিত মানুষকে স্বচক্ষে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার কন্যা হবার সুবাদে।

আমার দাদু ডা: এক কে এম লেহাজউদ্দিন আহমেদ এবং বাবা ডা: এ কে এম সামসুদ্দিন দুজনই চিকিৎসক হবার কারনে খুব ঝুঁকিপূর্ণ রোগী তাঁরা একসাথে দেখতেন বা চিকিৎসা দিতেন। এমন তো কখনো দেখিনি গরীব- দরিদ্রের কাছ থেকে কখনো ফি গ্রহন করতে। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যুদ্ধ করেছিলেন বাগেরহাট ৯ নাম্বার সেক্টর থেকে।
আজকের এই দিনে ২৫ জুলাই ১৯৯৭ এ আমাদের বাবা ষাট বছর বয়সে আমাদের ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছিলেন। হার্টের পেসেন্ট হয়ে কিছুদিন অসুস্থতা ভোগ করার সময়গুলো আমি আবার বাবার কাছে ছিলাম তাই সেই মুহূর্ত গুলো আমার জীবনে গভীর ভাবে রেখাপাত করে আছে যদিও কিন্তু এমন অনেক মধুর স্মৃতি আছে যা আত্মাকে প্রশান্তি দেয়, আশাবাদী করে তোলে। মনে হয় প্রিয় মানুষ কখনো একেবারে চলে যায় না, তারা থেকে যায় অন্তরে, ভালোবাসায়। আমার বাবার প্রতি আমার এবং আমার ভাই বোনদের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। বাবা, ভালোবাসি প্রচন্ড ভালোবাসি…।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮৬ বার

Share Button