» বেদনার তলদেশে

প্রকাশিত: ৩১. জানুয়ারি. ২০২০ | শুক্রবার

আসাদ মান্নান

কুয়াশা সরিয়ে ভোর বহুদিন এ নগরে দুয়ার খোলেনি :
খাঁচার পাখিরে কেন খাঁচাতেই রাখা হলো শিকল পরিয়ে?
জমির জরায়ু পুড়ে খাক হয়ে পড়ে আছে খরার দহনে :
বয়সী নদীর কোলে চুল খুলে একা কেন রাত্রি শুয়ে থাকে?
ক্লেদজ শোণিতে যার বার বার লতিয়ে উঠেছে লেলিহান
মৃত্যুশিখা, অই দ্যাখো তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেঘের কুসুম
মহাশূন্যে উঁকি দিচ্ছে: যান্ত্রিক উল্ল¬¬াসে ভরা এই বুনো নষ্ট
নগরীর ছাদে অই জনকের রক্ত ছাড়া আমি আর কিছুই দেখিনি।

সমস্ত আকাশ জুড়ে শুয়ে থাকে মেথরপট্টির কালো কালো
শুয়োরের বাচ্ছাগুলো; আমাদের বিধবা মায়ের চোখে
দুঃসময় নাচতে থাকে ভাল¬ুকের মতো; জগদ্দল অন্ধকারে
জাগরীও জেগে নেই; যখন স্বপ্নের ডিঙ্গি উত্তাল সমুদ্রে
ডুবে গেছে, তখন কী লাভ বলো শৈশবের নদীকে জাগিয়ে?
কী হবে জাগালে আজ বেদনার তলদেশে জলের যিশুকে!

২.
আলোর নদীর ¯স্রোতে দ্যাখো আজ সেই আততায়ী অমাবস্যা
ভেসে যাচ্ছে; যে-নগর ব্যর্থ হলো পিতাকে বাঁচাতে,সে-নগর
নতুন দিনের ব্রতে আগুনের জামা গায়ে উঠে দাঁড়িয়েছে:
বেঁচেও মৃতের মতো ভয়ে ভয়ে যারা তেত্রিশ বছর ধরে
‘স¦াধীনতা’ এই প্রিয় শব্দটিকে লুকিয়ে রেখেছে, অই দ্যাখো
দ্বিধা ভয় জয় করে তারা আজ দাঁড়িয়েছে মুক্তি-মোহনায়;
সূর্যকে আচলে নিয়ে কুয়াশার জাল ছিঁড়েপিতার মতন
এ মাটিকে ভালোবেসে যে এসে দাঁড়াল রবীন্দ্রনাথের গানে,

তার প্রাণে কে জ্বালায় অবিনাশী আলো? … হে উড়ন্ত স্বপ্নপাখি!
তুমি আজ নিচে নেমে অই মৃত নদীকে জাগাও ; অভিশপ্ত
নগরীর অই কলঙ্কের দাগ মুছতে শিশুপার্ক ছেড়ে আজ
শিশুরা এসেছে ইট-পাথরের নিচে চাপা গৌরবের মাঠে
নতুন শপথে তারা উজ্জীবিত হবে; পতাকার রঙ দিয়ে
পিতাকে উদ্ধার করে তুলে রাখবে হৃদয়ের অথই নিবাসে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৮ বার

Share Button

Calendar

April 2020
S M T W T F S
« Mar    
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930