» ব্রিটেনে লাউ বাগান করে আলোচনায় সাংবাদিক শামীম

প্রকাশিত: ০২. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | সোমবার


মো: আব্দুল কাইয়ুম: গত কয়েকদিন যাবত দেশ ও প্রবাসের বেশ কয়েকটি প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে বেশ আলোচনা চলছে প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী সাংবাদিক এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীমের লাউবাগান নিয়ে। প্রবাসে দেশপ্রেমকে বুকে লালন করে কমিউনিটিতে পরিচিত মুখ হিসেবে পেশাগত বিষয়ের বাহিরে নানা কর্মকান্ডে যুক্ত মেধাবী এই গণমাধ্যমকর্মী। দুই দশক ধরে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম দেশে যেভাবে সংবাদপত্রের প্রতি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন ঠিক তেমনই প্রবাসেও তিনি খবরের সন্ধানে মগ্ন থাকেন সারাক্ষণ। শুধু গণমাধ্যমেই নয় , অবসরে অন্য এক শামীম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।


বিলেতের বুকে একখন্ড লাল সবুজের সপ্নে বিভোর শামীম পেশাগত কাজের ফাঁকে সখের বসে দেশি লাউয়ের বাম্পার ফলনে পেয়েছেন সফলতা। তার তৈরী করা বাগানে লাউ, কুমরা, সীম, টমেটো, ডাটা, শষা, মরিচ, লেবু শাক্ ইত্যাদি দেখলে মনেই হবে না আপনি বিলেতে আছেন। মনে হবে এক টুকরো সবুজে ঘেরা বাংলাদেশ। দীর্ঘ প্রচেষ্ঠায় নর্থাম্পটনের হান্সবাড়িতে শামীম গড়ে তুলেছেন নানা জাতের সবজি বাগান। প্রাণের তাগিদেই তিনি শুরু করেন বাগান প্রতিষ্ঠার কাজ।
একে একে নানা জাতের সবজিতে তার বাগানটি আজ পরিপূর্ণ। শামীমের সহজ কথা- ‘ব্রিটেনের মতো জায়গায় লাউ চাষ করার অনুভতিটাই ভীন্ন। আমার গাছে এ বছর পচিঁশটি লাউ ধরেছে। শুধু লাউ নয়, নানা ধরনের শাক সবজিতে ভরপুর আমার বাগান।এসব শাক সবজি আত্মাীয় স্বজন ও বন্ধু বান্দবরে দিয়ে আনন্দ পান তিনি। তার এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে পলোনেইট প্রক্রিয়া। শামীম বলেন, ‘লাউ গাছে পলোনেইট করা অবশ্যই দরকার। এটা না করলে গাছে ভালো ফলন হয় না। বাংলাদেশে লাউ গাছে পলোনেইট করার দরকার হয় না। কারন বাংলাদেশে পোকা মাকড় প্রচুর আছে। কিন্তু ব্রিটেনে পোকা মাকড় খুব কম। তাই এখানে লাউ গাছে পলোনেইট করা দরকার। লাউয়ের ফুল নিয়ে ছোটো লাউয়ের কলির মধ্যে ঘষে লাগালে গাছে প্রচুর লাউ ধরবে। লাউসহ সব জাতের গাছে যতœ ছাড়া কোন জাতের সবজি ভালো হয় না। তাই অবশ্যই যতœ করতে হবে।


বিগত সাতবছর ধরে নিয়মিত বাগান করছেন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য, বাংলাদেশ প্রতিদিন, জনমত ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের রিপোর্টার এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় লাউয়ের ফলন ভালো না হলেও শামীমের বাগানে নানা ধরনের শাক শবজিতে ভরপুর।
শামীম তার নর্থাম্পটনের হান্সবাড়ির ঘরের পিছনের জমিতে এই বাগান প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশীয় সবজির চাহিদা পুরণ করতেই তার এই উদ্যোগ। তিনি জানান, ‘বাগান করার জন্য মে মাসের শেষ দিকে গাছ লাগাতে হয়।’
প্রথমে সখের বসে বাগান করলেও এখন এই বাগান পরিচর্যা করা, নানা জাতের সবজির চাষ করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শামীম বলেন, ছোট বেলা থেকে আমার বাগান করার শখ ছিলো। দেশে থাকার সময় বাড়ির আঙিনায় নানা ধরনের ফুলের গাছ লাগাতাম। পাশাপাশি অব্যবহৃত জমিতে করতাম মৌসুমি সবজির চাষ। ব্রিটেনে আসার পর থেকেই একটি বাগান প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু করবো করছি বলে আর হয়ে উঠছিলো না। সাতবছর পূর্বে মনস্থির করে কাজে লেগে পরি। আমার বাগানে নানা জাতের শবজির পাশাপাশি নানা ধরনে ফুল গাছ লাগিয়েছি। যখন এই সবজি বাগানে কাজ করি তখন মনে হয় আমি বাংলাদেশে আমার মাতৃভূমিতে আছি। এই ভালোলাগাটাও আমাকে উদ্বুদ্ধ করছে সবজি চাষের প্রতি।

শুধু শামীমই নন, গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদশীরা সবজি বাগানের প্রতি ঝুকছেন। বলা যায়, ব্রিটেনের বাঙালিদের কাছে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শবজি চাষ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৮ বার

Share Button

Calendar

September 2019
S M T W T F S
« Aug    
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930