» বয়ানে রামাদান – ২

প্রকাশিত: ২৫. এপ্রিল. ২০২০ | শনিবার


চৌধুরী হাফিজ আহমদ
ভাগ্যবান আমরা আজকে রামাদান মাসের দ্বিতীয় দিনে আছি । একদিন অতিক্রম করেছে বলতেই ২য় দিনে প্রবেশ করল । রামাদান সবার জন্য নয় ,একমাত্র ঈমানদারদের জন্য প্রযোজ্য । এই ক্ষেত্রে আল্লাহ বলেছেন – ইয়া আইউহাল ল্লাজিনা আমানু কুতিবা আলাইকুমুস সিয়ামু কামা কুতিবা আলাল্লাজিনা মিন কাবলিকুম লায়াল্লাকুম তাত্তাক্কুন । এখানে ঈমান ওয়ালাদের বলা হয়েছে আমানু শব্দ দিয়ে এই একটি মাত্র কারণে সবার নসীবে সিয়াম পালন করা সম্ভব হয়না । যার ঈমান আছে বা যে ঈমানের প্রতি অবিচল সেই মাত্র সিয়াম পালনে সফল হয় । অন্যান্য জাতিদের কাছেও ফরজ ছিল কিন্তু তার নিয়ম ছিল আলাদা । আমাদের ক্ষেত্রে ও রামাদানের অনেক নিয়ম নীতি আছে। কারা রাখতে পারবে বা কারা পারবেনা । রোগী ,বয়স্ক্‌, পাগল, গর্ভবতী বা মহিলাদের মাসিক চলাকালীন সহ অনেকের জন্য এই নিয়মগুলা শিথিল করা হয়েছে । রামাদানের আলাদা বৈশিষ্টের মধ্যে অন্যতম শান্ত শিষ্ট ভাবে সালাত আদায় করা । কারণ এই মাসে নফল পায় ফরজের মর্যাদা । যে কোন তাসবিহ পাঠ করলেই মর্যাদা দেয়া হয় । হাজারগুণ বাড়িয়ে তাই ইবাদতে বা তাসবিহ তাহলিলে গাফিলতি করা যাবেনা । যে করেই হোক রহমতের ঝর্ণধারা থেকে বঞ্চিত হবনা । রহমতের ফোয়ারা যত পারি রাখব সঞ্চয়ে এত এত মালাইকা অবস্থান করে এই মাসে যা বলে বুঝানো যাবেনা । এত মালাইকার ভিড়ে যদি সামান্যতম ভুল করে ফেলি তা হলে সকল চেষ্টাই বৃথা । তাই কথা বলায় বা ব্যবহারে খুব সতর্ক থাকতে হবে ।
এমনিতেই ইমানদারদের ব্যবহার মার্জিত ও সুন্দর মিষ্ট হতে হয় সেই ক্ষেত্রে রামাদানে আলাদা ব্যবহার এনে দেয় ইবাদতে তৃপ্তি । প্রত্যেকটা সিজদায় লম্বা করে দোয়া পড়ব সিজদার দোয়া মিসাইলের মত কাজ করে । তাই বলাই হয় সিজদা হচ্ছে মুমিনের সাফল্যের হাতিয়ার । সিজদায় মুমিন আদায় করে নেয় তার সকল প্রাপ্য । একেকটা সিজদা এই মাহে রামাদানে অন্যান্য দিনের মত নয় সম্পূর্ণ আলাদা । দিনে কিংবা রাত্রে হউক প্রতি মুহূর্ত রহমতের বরকতের বৃষ্টি হচ্ছে এখন । আমাদের ব্যাপার কি করে এইগুলা জমা রাখবো ,কোন ধরনের পাত্রে তা সংরক্ষণ করবো । কোরআনের জন্ম মাস বলে কথা । আল্লাহ তায়ালা এই কিতাব দিয়েছেন এবং বলেছেন এটা এমন এক বই যাতে ভুল নেই বরং এতে আছে হিদায়াত জ্ঞ্যান আলো আগামীর পথের দিশা । তা এই মাসে নাজিল হয়েছে বলেই এই মাসের নাম রামাদান । নামেই পরিচয় দেয় তার গুরুত্ব কত বিশাল । সিয়াম পালনের মাধ্যমে অনুধাবন করতে পারি ক্ষুধার যন্ত্রনা । তাই এই মাসে ভাল খাব কিন্তু অল্প খাব অল্পে সন্তুষ্ট থাকা ও সংযমের আওতায় পড়ে ।
কাউকে গালি দেবনা কারো বিরুদ্ধে গীবত করবোনা এক কথায় এই মাসে অনুশীলন করব সকল বাজে ঘৃণিত কাজের বিরুদ্ধে । শুধু উপোষ করব নিয়মিত সালাত আদায় করব ইফতারিতে পেট ভরে খাব আর কিচ্ছু করতে হবেনা এই মানসিকতার মধ্যে অবস্তান করলে অর্জন না করে যা আছে তাকেই বিসর্জন দিতে হবে।
রামাদান এর কঠোর কিছু শর্ত আছে যার বেশকম করা যাবেনা । কোনভাবেই অপচয় কর যাবেনা । কিছু সময় থেকে নিয়ে সম্পদ স্বাস্থ্য , বিলিয়ে দিতে হবে গরীবের তরে । অপচয় করা থেকে বিরত রাখতেই বিলিয়ে দেবার কথা এসেছে । কারণ অপচয়কারী শাইতানের সঙ্গি ।
খাবার কাপড় আসবাব পত্র থেকে নিয়ে যা যা আছে ব্যবহৃত হয়না তাই বিলিয়ে দিতে হবে এই মাসে । দান করা মানেই স্বর্গ কেনা । রামাদানের এই দ্বিতীয় দিনে আমরা আরেকদিন পেরুলাম । বাকী রইল ২৮ দিন ।
আশায় আছি আমরা যেন রামাদানের যত ফায়দা আছে তা হাসিল করতে পারি । তাওবা – তাসবিহ – তিলাওয়াত – সালাত -দান – পাড়া প্রতিবেশীর হক্ক – স্বজন আত্মীয়ের প্রাপ্য সহ বিগত জিবনের যত পাপ আছে তা থেকে মুক্তি পাই , যদি ঈমানের সাথে সিয়াম পালন করি রাত্রে সালাতে কিয়াম করি তা হলে আসলেই পেয়ে যাব ভাগ্যের চেরাগ । কেননা আল্লাহ বলেছেন এই মাসের শেষে আছে কদরের রাত যে রাত্রিতে শুধুই দেয়া হয় । এই রাত্রির অপেক্ষাই হয় বেশী , কিন্তু তা পেতে হলে অগ্রিম কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় এক থেকে বিশ পর্যন্ত হচ্ছে প্রস্তুতি কাল ।
একুশ থেকে শুরু হয় বণ্টন ।আসুন আমরা যেন সেই আসল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হই । এমন করে নি্জেই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারি । রামাদান কে অবহেলা না করি খেয়াল খুশীর জন্য । রান্না বাণ্ণা চলায় বলায় যেন আল্লাহকে স্মরণে বলি আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি – আল্লাহুম্মা আফিনি ফি ঈমানী আসতাগফিরুল্লাহ – আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদ ,যাহারা কোরআন তিলাওয়াত করেন নাই আশা করি আজকেই শুরু করবেন ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৫১ বার

Share Button