» মরণের আগে কি প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত প্লট পাবেন রিজিয়া গহর?

প্রকাশিত: ১০. জুন. ২০২০ | বুধবার

সাদ্দাম হোসেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহর যে অবদান রেখেছেন তা কখনোই ভোলার নয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বাঙালি জাতি চিরদিন মনে রাখবে। কিন্তু বেদনার বিষয় হলো আমরা তাঁর স্ত্রীর প্রতি কর্তব‍্য হয়তো ভুলতে বসেছি। কেননা সম্প্রতি দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন এই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখক প্রয়াত নয়ীম গহরের স্ত্রী রিজিয়া গহর। তার সন্তান ইলোয়া গহর আক্ষেপ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের মায়ের সব দায়িত্ব নিলেও গত সাড়ে তিন বছরে তিনি বুঝে পাননি তার জন্য বরাদ্দকৃত প্লট বা ফ্ল‍্যাট। আদৌ কি তিনি তার জন্য বরাদ্দকৃত প্লট বা ফ্ল্যাট পাবেন? আর পেলেও সেটা কি মরণের পরে?

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা নয়ীম গহরের স্ত্রী বেগম রিজিয়া গহর ক‍্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি সর্বোচ্চ ত‍্যাগ স্বীকার করেছেন, সন্তানদের নিয়ে করেছেন নানামুখী সংগ্রাম। নয়ীম গহরের সন্তানদের দাবি, কেবল দেশ নিয়েই ভেবেছেন তাঁদের বাবা। নিজের সন্তানদের জন‍্য কিছুই রেখে যাননি তিনি ।

২০১৬ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রিজিয়া গহরকে নগদ ২৫ লাখ টাকা ও রাজউকের একটি প্লট বা ফ্ল‍্যাট বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এখনো সেই প্লট বা ফ্ল‍্যাট বুঝে পাননি তিনি। একাধিকবার তৎকালীন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁরা বারবার জানান, এখন কোনো জমি নেই। তাঁর মেয়ে অভিনেত্রী ইলোরা গহর বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও পারকিনসনের রোগীর পক্ষে জমির জন‍্য কতবার মন্ত্রীর কাছে ধরনা দেওয়া সম্ভব?

নয়ীম গহর ঊনসত্তরের গণ–আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের নেতাদের বিশেষ দূত হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা গ্রহণ করেন। বার্তাটি ছিল, ‘রাত ১২টায় অস্ত্র সমর্পণ করো না। চিটাগাং মুক্ত করো এবং কুমিল্লার দিকে অগ্রসর হও। আমি যদি মরেও যাই তাহলে আমার পূর্বের নির্দেশ পালন করো।’

সম্প্রতি প্রয়াত সংগীতজ্ঞ আজাদ রহমানের সুরে নয়ীম গহরের লেখা আলোচিত দেশের গান ‘জন্ম আমার ধন‍্য হলো মা গো’ গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। এ ছাড়া নয়ীম গহর লিখেছেন ‘নোঙর তোলো তোলো’, ‘সাগর দাড়িতে ঝড় জাগে যদি’, ‘পূবের ওই আকাশে সূর্য উঠেছে’, ‘জয় জয় জয় বাংলা’সহ বেশ কিছু গান। ঔপন্যাসিক, গায়ক, নাটক রচয়িতা, বিবিসি (লন্ডন) বাংলার ভাষ‍্যকার ও খবর পাঠক হিসেবে তিনি ছিলেন বিশেষভাবে পরিচিত। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর তিনি মারা যান।

নয়ীম গহরের মেয়ে ইলোরা গহর জানান, পরিবারের জন‍্য তাঁর বাবা তেমন কিছুই রেখে যাননি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য জাকারিয়া স্বপন ২০১৬ সালে তাঁর মা রিজিয়া গহরকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে নিয়ে যান। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এককালীন ২৫ লাখ টাকা পেলেও প্লট বা ফ্ল‍্যাট না পাওয়ায় নগদ অর্থ তাঁকে ব‍্যয় করতে হয় চিকিৎসার পেছনে। ইলোরা গহর বলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থা এখন খুব খারাপ। ক‍্যানসার সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। তার আগে থেকেই পারকিনসন রোগ ছিল। উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে মেয়ের বাসায় অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। ‘অভিনয় ছেড়ে দিয়েছি বলে আমার তেমন রোজগার নেই। তবু যতটা পারি মায়ের খরচের জন‍্য বোনকে কিছু টাকা পাঠাই,’ বলেন তিনি।

রিজিয়া গহরের বয়স ৭৮ বছর। চিকিৎসার অভাবে অর্থকষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে। তাঁর খোঁজ নেওয়ার জন‍্য আজ কেউ নেই। দ্বিতীয় এ যুদ্ধে তিনি কত দিন লড়বেন?

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০৮ বার

Share Button

Calendar

September 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930