» মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে

প্রকাশিত: ১৭. জুলাই. ২০১৯ | বুধবার

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকেও রেহাই দেয়া হলোনা। মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার ‘প্রাথমিক প্রমাণ’ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানানোর আগে সকালে মিন্নিকে ডেকে নিয়ে রাত পর্যন্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ।

২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও ইন্টারনেটে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারাদেশে আলোচনায় উঠে আসে।

পরদিন শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকেই।

কিন্তু দুদিন আগে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলার পর আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

এরপর মঙ্গলবার সকালে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারের গুঞ্জন ছড়ালেও তা স্বীকার করছিলেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

সাক্ষী হিসেবে কথা বলতে তাকে আনা হয়েছে বলে দুপুরেও জানিয়েছিলেন পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। মিন্নির সঙ্গে তখন তার বাবা-মাও ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, মিন্নিকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।

মিন্নির চাচা আবু সালেহ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সকাল পৌনে ১০টার সময় নারী পুলিশের একটি দল তার ভাই মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের বাড়িতে যায়।

তারা বলেছিল, রিফাত হত্যা মামলার আসামিদের শনাক্ত ও মামলার বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে পুলিশে লাইনে যেতে হবে।

কিন্তু রাত সাড়ে ৯টার সময় মিন্নিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার মারুফ সাংবাদিকদের বলেন,তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও সুদীর্ঘ সময় যাবৎ প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণপূর্বক হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিন্নিকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হবে বলে জানান তিনি।

রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর মিন্নির বাবার বাড়িতেও পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছিল, যেখানে এই নারী ছিলেন; সকালেও ১০ জন পুলিশ সদস্য ওই বাড়ির পাহারায় ছিলেন বলে মিন্নির চাচা সালেহ জানান।

পুলিশ সুপার মারুফ বলেন, “রিফাত হত্যার পর থেকে মিন্নিকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

মিন্নিকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশ জানানোর পর তার স্বজনদের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

তবে শ্বশুর অভিযোগ তোলার পর মিন্নি তা অস্বীকার করে পাল্টা বলেছিলেন, দুলাল শরীফ ‘ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায়’ পড়ে তাকে জড়িয়ে ‘বানোয়াট’ কথা বলছেন।

এই হত্যাকাণ্ডে মূল আসামি ‘০০৭ গ্রুপ অত্যন্ত শক্তিশালী’ দাবি করে তিনি বলেছিলেন, তারা নিজেদের বাঁচাতে হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

দুলাল শরীফ সংবাদ সম্মেলন করার পরদিন মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে মানববন্ধনও হয়। তাতে সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথও ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি যে সাব্বির আহমেদ নয়ন (নয়ন বন্ড) পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে পরে নিহত হন, তাকে মদদ দেওয়ার অভিযোগ ছিল এমপিপুত্র সুনামের বিরুদ্ধে ।
হত্যাকাণ্ডের অন্য দুই প্রধান আসামি দুই ভাই রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। তবে দেলোয়ারও তার স্বজনদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছে।

আসামি রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার করা হলেও রিশান এখনও পলাতক। নয়ন, রিফাত ও রিশানকেই সেদিন মিন্নির স্বামী রিফাতকে রামদা দিয়ে আঘাত করতে দেখা গিয়েছিল।

পুলিশ সুপার মারুফ জানান, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তারা এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছেন। এরমধ্যে ছয়জন এজাহারভুক্ত আসামি। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।

গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১০ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি তিনজন এখনও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রয়েছেন বলে এসপি জানান।

দুই মাস আগে রিফাত শরীফকে বিয়ে করা বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা ঘটনার দিন জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর নাম বলেছিলেন।

মিন্নি সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের আগে থেকেই তাকে উত্ত্যক্ত করত, হুমকি দিতেন নয়ন। বিভিন্ন সময় পথেঘাটে হেনস্তাও করেছে।

ছেলে খুন হওয়ার পর দুলাল শরীফ এখন দাবি করছেন, নয়নের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মিন্নির, তা গোপন করেই রিফাতকে বিয়ে করেন মিন্নি। তবে রিফাতকে বিয়ের পরও মিন্নি নয়নের বাসায় আসা-যাওয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করতেন।

রিফাত শরীফ ও নয়ন বন্ড এক সময় বন্ধু ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানায়। এই ঘটনার পর বরগুনার মাদক চক্রের নিয়ন্ত্রক হিসেবে নয়নের নাম আসছে।

অন্যদিকে শ্বশুরের অভিযোগ নাকচ করে মিন্নি বলেছিলেন, নয়ন তাকে উত্ত্যক্ত করতেন, তার সঙ্গে নয়নের বিয়ে হয়নি। জোর করে কাবিনে সই নেওয়া হয়েছিল।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১০ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031