শিরোনামঃ-


» মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে’ সিলেটিদের প্রাধান্য

প্রকাশিত: ২৮. অক্টোবর. ২০১৯ | সোমবার

এ বছর ‘মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে’ পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে সিলেটিদের প্রাধান্য । ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে নিশাত সুলতানা প্রথম, জসিম আল ফাহিম দ্বিতীয় এবং শানারেই দেবী সানু তৃতীয় হয়েছেন। এদের মধ্যে ফাহিম ও সানুর বাড়ি সিলেটে ।

রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে গান আর নৃত্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে ২০১৯ সালের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পর্ব। প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক, অনলাইন ও ভিজুয়াল মিডিয়ার জন্য ১৩টি ক্যাটাগরিতে দেওয়া হয় এ পুরস্কার।

প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদধ্যমের সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচের প্রতিযোগীদের মধ্যে আত্মপ্রকাশ ডটকমের আরাফাত তন্ময় প্রথম পুরস্কার, হ্যালোর শিলা আক্তার মৌ দ্বিতীয় এবং হ্যালোর পৃথা প্রণোদনা তৃতীয় পুরস্কার জিতেছে।

প্রিন্ট ও অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের (রিপোর্টিং) জন্য নিউজ ২৪ আওয়ার্স বিডির শাহাদাত হোসেন প্রথম পুরস্কার, হ্যালোর দ্বীন মোহাম্মদ সাব্বির দ্বিতীয় এবং বরিশাল থেকে প্রকাশিত ভোরের আলোর নাজিফা আনজুম প্রমী তৃতীয় হয়েছেন।

এই ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্রথম, এসএম আশিকুজ্জামান দ্বিতীয় এবং রফিকুল ইসলাম মন্টু তৃতীয় পুরস্কার জিতেছেন।

ভিজ্যুয়াল ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন জহিরুল ইসলাম নাহিদ, দ্বিতীয় হয়েছেন প্রদীপ্ত সাহা এবং তৃতীয় হয়েছেন মোরশিদুল আলম ভূঁইয়া। তারা তিনজনই ইউটিউবে ভিডিও প্রকাশ করে পুরস্কার পেয়েছেন।

আর ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের কাউসার সোহেলী, বদরুদ্দোজা বাবু ও জহিরুল হুদা। ‘জিপিএ-৫ কেনার হাটবাজার’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য এই পুরস্কার পান তারা। ওয়াহিদ রাজ দ্বিতীয় এবং এটিএন নিউজের মনির হোসেন তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।

প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন হ্যালো.বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের শিলা আক্তার মৌ। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচের প্রতিযোগীদের মধ্যে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতেছেন হ্যালো.বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের শিলা আক্তার মৌ। ছবি: মাহমুদ জামান অভি
প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমের সৃজনশীল (ক্রিয়েটিভ) ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচের প্রতিযোগীদের মধ্যে তৃতীয় পুরস্কার জিতেছেন পৃথা প্রণোদনা। ছবি: মাহমুদ জামান অভি

ভিজ্যুয়াল রিপোর্টিং ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচে এটিএন বাংলার জামিল হোসেন শান্ত ও আব্দুর রহিম প্রথম পুরস্কার জিতেছেন। দ্বিতীয় হয়েছেন এটিএন বাংলার খালিদুল ইসলাম তানভীর ও ইসমাইল হোসেন। হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিবির সাহা হয়েছেন তৃতীয়। সিরাজগঞ্জ জেলার গণগ্রন্থাগারে পাঠকের খরা নিয়ে প্রতিবেদন করেছিলেন নিবির।

ভিজ্যুয়াল রিপোর্টিং ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মাছরাঙা টেলিভিশনের কাউসার সোহেলী ও জহিরুল হুদা। দ্বিতীয় হয়েছেন এনটিভির এএসএম আতিকুর রহমান ও রনি রায়হান। তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের বনি আমিন ও কাজী মোহাম্মদ ইসমাইল।

রেডিও ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরিতে ১৮ বছরের নিচে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ছয়টি পুরস্কারই জিতেছে দেশের বিভিন্ন জেলার কমিউনিটি রেডিওগুলো।

১৮ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে রেডিও ঝিনুকের সাজেদুল ইসলাম প্রথম, রেডিও পল্লী কথার রুবায়েত ইউসুফ অরণী দ্বিতীয় এবং রেডিও ঝিনুকের নাসরিন জাহান রিমি তৃতীয় হয়েছেন।

আর ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে রেডিও ঝিনুকের পিয়াল আহমেদ প্রথম, রেডিও পল্লী কথার সুতপা রানী পাল দ্বিতীয় এবং কৃষী রেডিওর মেহেদী হাসান সজিব তৃতীয় হয়েছেন।

রেডিও রিপোর্টিংয়ে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম হয়েছে রেডিও সারাবেলার সেঁজুতি হাসান অদিতি, দ্বিতীয় হয়েছে রেডিও পল্লী কথার গোবিন্দ দেব মিত্র এবং তৃতীয় হয়েছে রেডিও সারাবেলার জারিন তাসনীম বিপা।

১৮ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন রেডিও মেঘনার কনিকা দে, দ্বিতীয় হয়েছেন রেডিও টুডের মনজুর হোসাইন এবং বিবিসি বাংলার শাহনাজ পারভীন হয়েছেন তৃতীয়।

আর আলোকচিত্রে (নিউজ ফটোগ্রাফি) প্রথম পুরস্কার পেয়েছন ডেইলি সানের রিয়াজ আহমেদ সুমন, দ্বিতীয় হয়েছেন প্রথম আলোর আব্দুস সালাম এবং তৃতীয় হয়েছেন ফাইনানশিয়াল এক্সপ্রেসের শফিকুল ইসলাম।

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত জুয়েল আইচ, অভিনেত্রী আরিফা জামান মৌসুমী, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, প্রতিযোগিতার বিচারক লেখিকা সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষাক রোবায়েত ফেরদৌস, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি উপস্থিত ছিলেন পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তোমো হোজুমি বলেন, “যে কোনো সমাজের উন্নয়নে গণমাধ্যম অন্যতম ভূমিকা পালন করে। গণমাধ্যম হচ্ছে এই সমাজের চোখ। সাংবাদিকরা নিয়মিত তথ্যবহুল, বিস্তারিত ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে শিশুদের জন্য শিশুদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারেন। সমাজও সমাধানের পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসবে।”

সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের ওপর নৃশংসতার বিভিন্ন ঘটনার কথা উল্লেখ করে রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, “শিশুদের প্রতি যে ধরনের নৃশংসতার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে তা মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। এ ধরনের নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ অব্যাহত রাখতে হবে।”

প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদধ্যমের সৃজনশীল ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জেতা হ্যালোর দুই সাংবাদিকের মধ্যে শিলা উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে সাংবাদিকতাকেই উচ্চ শিক্ষার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সে বললো, “বড় হয়ে সাংবাদিকই হব, অনেক কাজ করতে চাই। হ্যালোর জন্য ভালোবাসা, এটা আমার দ্বিতীয় পরিবার।”

আর উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী পৃথা বললো, “এটা আমার অনেক বড় অর্জন। সামনে এই পুরস্কার আমাকে অনুপ্রেরণা দেবে।”

মীনা অ্যাওয়ার্ড জিতে নেওয়া হ্যালোর বাকি দুজনই সিরাজগঞ্জের ছেলে, পড়ছে উচ্চ মাধ্যমিকে। নিবির জানালো, আনন্দে সো ‘আত্মহারা’। আর ‘প্রথম পুরস্কার’ বলে সাব্বিরের আনন্দের মাত্রাও ‘একটু বেশি’।

শিশুদের নিয়ে শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ওয়েবসাইট হ্যালোর (https://hello.bdnews24.com ) যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ। হ্যালোর জন্য সংবাদ সংগ্রহ থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সব কাজেই যুক্ত রয়েছে শিশু ও কিশোর সাংবাদিকরা।

সংবাদভিত্তিক এই ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছে দেশের প্রথম ইন্টারনেট সংবাদপত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। জাতিসংঘ শিশু তহবিল- ইউনিসেফ এবারও এ আয়োজনের অংশীদার।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩৭ বার

Share Button