মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী

সৌমিত্র দেব

হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম । তাঁর ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর বিআরটিসি সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় । স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে খুব নির্বাচিত কয়েকজন অতিথিকে দাওয়াত করা হয়েছিল । আমি ছিলাম সেই সৌভাগ্যবানদের একজন । অবশ্য গত বছরেও তাদের অনুষ্ঠানে আমি দাওয়াত পেয়েছিলাম । সেই অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ । তখন করোনাকালীন পরিস্থিতি ছিল না । দাওয়াত পেয়েছিলেন হাজার মানুষ । কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন ।
কথা ছিল সৈয়দ মুজতবা আলী পরিষদের সভাপতি বিটাকের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার চৌধুরীর অফিস হয়ে সেখানে যাবো । তিনি হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ।কিন্তু দেরী হয়ে যাওয়ায় সে চিন্তা বাদ দিয়ে সরাসরি চলে গেলাম বিআরটিসি সম্মেলন কক্ষে । গিয়েই পেয়ে গেলাম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি মো. নজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. এহছানে এলাহীকে । মো. নজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মূখ্য সচিব । অন্যদিকে মো. এহছানে এলাহী বিআরটিসির চেয়ারম্যান । তিনি আমার স্কুলের বড় ভাই । তবে বলতে দ্বিধা নেই , এই সংগঠনটি আমলা বেষ্টিত ।
এবারের অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী । বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি । তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ছিলেন । ভার্চুয়ালি আরো যুক্ত হয়েছিলেন ডাক্তার সামন্ত লাল সেন , সি এম তোফায়েল সামী প্রমুখ ।

অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন মো. নজিবুর রহমান। মূল প্রবন্ধ ও তিনি পাঠ করেন ।
শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জীবনের সরব ক্ষেত্রে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী । মুক্তিযুদ্ধে ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল কূটনীতিক হিসেবে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সফল স্পিকার হিসেবে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে চল্লিশটি দেশে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তার এই বলিষ্ঠ ও সাহসী পদক্ষেপ থেকেই তার দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বের সর্বোচ্চ দিকটি প্রতিভাত হয়। তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আদর্শ, দেশপ্রেম, ত্যাগের শিক্ষা অনুসরণীয় যা তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

১৯৫৩ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগ দিয়ে নিজ পেশার পরোয়া না করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সম্পৃক্ত হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।