» মেয়েটাকে মনে পড়ে

প্রকাশিত: ০৭. জুলাই. ২০২০ | মঙ্গলবার


সালেহা চৌধুরী
সবচাইতে দুর্দান্ত একটি মেয়ে বলে আমি তখন খ্যাত। গাছে ওঠা, পকুর সাঁতরানো, ডাংগুলি, মার্বেল চাকতি সবকিছুইতেই আমি অংশ নেই। ছেলেরা আমার সঙ্গে সাঁতরে পারে না। আমি বাড়ির সকলের ছোট। মা, বাবা, বুবু, আপা, ভাইদের প্রশয়ে একেবারে ঝরঝরে। আপাকে আমি যেন বুবু না বলি সেটা উনি বলে দিয়েলেন। ওইসব দাদিমার্কা বুবুটুবু নয়- আপা। কেবল রাতের বেলা বই পড়বার ঘটনা আমাকে হয়তো আমাকে মানুষের শাবক করেছে। বই পড়তে পড়তে বাতির আলোতে দেয়ালে হাতের কারুকাজে নানা সব বেড়াল, কুকুর, মানুষের মাথা বানাই। আপা বলেন Ñ পড়া বাদ দিয়ে এসব কী?
পড়া হয়ে গেছে। আমার উত্তর। দেয়লে তখন জেগে উঠছে একটা নতুন শহর। বড় বড় গাছের ভেতর একটা বাড়ি। এইসব করতে করতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। মা ডাকবেন রাতের খাবার খেতে। সেই আশায় থাকতে থাকতে এমনি করেই ঘুমিয়ে পড়ি। ছিপ ফেলে মাছ ধরি। আর দুপুরের সাঁতারে চোখ যখন লাল হয় আমি আর মিতা কচি-দুর্বাঘাস ঘসে চোখ সাদা করে বাড়ি যাই। মা টের পান না আমার দুপুরের অভিযান। মা রোজদিন শরৎবাবু পড়তে পড়তে ঘুমান।
একদিন মিতা নামের মাস্টার পাড়ার মেয়েটা আমাকে বলে Ñ ওই বাড়িতে একটা টুকটুকে সুন্দর মেয়ে এসেছে। ।
ওই বাড়ি? কোন বাড়ি?
ওই যে সোবহান কনট্রাকটরের একটা ছোট বাড়ি আছে না ‘মিরাকুঞ্জ’ সেখানে। আগে ভাড়া দিত। এখন একটা সুন্দরী মেয়েকে ওখানে রেখেছে।
রেখেছে মানে কি? মেয়েটা কি ওর কোন আত্মীয়? মেয়েটা কি একা?
একা। সেদিন বাইরে থেকে দেখছিলাম। উঠোনের দরজাটা খোলা ছিল। লাল শাড়ি পরে একটা মেয়ে উঠোনে কি যেন করছে।
সকলে বলে সোবহান কনট্রাকটর মেয়েটাকে ঢাকা শহর থেকে কিনে এনেছে।
ঢাকা শহরে মেয়ে কিনতে পাওয়া যায় বুঝি?
পাওয়া যায় কিনা জানি না। তবে সকলে তাই বলে।
মেয়েটা কি সোবহান কনট্রকটরের বউ? ওর তো বউ আছে। বড় বাড়িতে ওর বউ আর চারটে বাচ্চা থাকে।
তা আছে।
মিতা এরপর তেমন কিছু বলে না। ওর ছোট আয়নায় আমার চোখ দেখতে দেয়। বলে Ñ লাবনি তোর চোখ একেবারে সাদা হয়ে গেছে। খালাম্মা কিছু বলবেন না। বুঝতেই পারবেন না সারা দুপুর তুই সাঁতার কেটেছিস।

সোবহান কনট্রাকটরের ‘মিরা কুঞ্জ’ আর লাল বউ নিয়ে তখন এখানে ওখানে ফিসফাস। মোটা গোঁফ আর পেটমোটা শরীর নিয়ে তিনি সেই বাড়িটাতে কখন যান কেউ জানে না। সকলে বলে Ñ রাতের আঁধারে। বাড়িটাতে মেয়েটা একাই থাকে। হঠাৎ হঠাৎ তাকে দেখা যায়। বিশাল ঘন এক মাথা কোঁকড়া চুল। লাল শাড়ি, নীল শাড়ি, হলুদ শাড়িতে মেয়েটা একেবারে পরী। আমি, মিতা, আলো জানালা দিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলি। ও তখন জানালার পর্দা তুলে আমাদের সঙ্গে গল্প করে। Ñ কি নাম তোমাদের? কি পড় তোমরা? এইসব।
আপনি একা?
কোন জবাব দেন না। বলেন কেবল Ñ এইতো তোমরা আছো।
ঘরটার ভেতরে একটা খাট, একটা ড্রেসিং টেবিল চোখে পড়ে। আলনায় সুন্দর করে গোছানো শাড়ি।
আমি বলি Ñ চল না ভেতরে যাই। মিতা আর আলো বলে Ñ ভেতরে যেতে মা বাবা মানা করেছেন। আমি বলি Ñ কেন?
জানি না কেন। সকলে বলেছে Ñ ভেতরে গিয়ে ওর সঙ্গে ভাব না করতে।
পুরো এলাকাতেই একটা চাপা ফিসফিস। এবং আমাদের বাড়িতে। আমি সেসব শুনিনা। একদিন যখন মিতা আর আলো আমার সঙ্গে নেই আমি জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে ওকে বলি Ñ তুমি আমাকে ভেতরে আসতে দেবে?
অবাক হয়ে প্রশ্ন করে তুমি ভেতরে আসবে?
আসতে চাই।
তোমার মা বকবেন না।
মাকে বলবো না। ও একটু কি ভাবে তারপর বলে Ñ এসো। এই বলে উঠোনের দরজাটা খুলে দেয়। তখন দুপুর। গনগনে রোদ চারপাশে। ও বাড়িতে একা। আমাকে ঘরে বসিয়ে পাখার বাতাস করে। বলে Ñ ইস একেবারে ঘেমে গেছো তুমি।
একটা সাজানো ঘর। ঘরটা খুব একটা বড় নয় কিন্তু পরিপাটি। ড্রেসিংটেবিলের উপরে সাজাগুজুর নানা সব। কিন্তু ও তেমন সেজে নেই। চোখে নেই কোন কাজল। বড় বড় পল্লবঘেরা বড় বড় চোখ। মুখটা ফর্সা। তবে আর একটু হলেই শ্যামল মেয়ে হতো। একটা বড় স্কার্ট জাতীয় কি যেন পরণে। বুকে কাজ করা একটা ফতুয়া। গুচ্ছ গুচ্ছ কালো আঙুর গোছার মত কোঁকড়া চুল। সারা মুখটাকে কালো ফ্রেমে ধরে রেখেছে। চিবুকে হাত রেখে মেয়েটি প্রশ্ন করে Ñ তুমি লাবনি। তাইতো?
আমি লাবনি। হঠাৎ কি মনে করে ও প্রশ্ন করি আমি Ñ আপনার নাম? লাবনির ওর মুখের দিকে তাকিয়ে মেয়েটিকে বলে Ñ আপনার নাম?
সেটা তুমি একটা দিয়ে দাও। আর আপনি কেন তুমি বলছিলে সেটাই কর।
তোমার নাম নেই?
না। মেয়েটি তখন ছোট মিটসেফ খুলে কিছু খাবার বের করেছে। মিষ্টি আর বিস্কুট। বলেÑ না, যার যা মনে হয় ডাকে। বলে আদর করে Ñ নাও খাও।
আমি তোমাকে প্রজাপতি বলে ডাকি?
ঠিক আছে। আমি তোমার প্রজাপতি।
খাওয়া হয়ে গেলে একটা টুলে মেয়েটি সামনে বসে। চুলগুলো উঁচু করে ঘাড়ে বাতাস খায়। তারপর একটা রিবনে পেছনের ঘুন চুল উপরে তুলে বাঁধে।
এরপর ওরা গল্প করে। প্রজাপতি কোন এক ফেলে আসা বাড়ির কথা বলে। যেখানে বাগান আছে। আর প্রজাপতির লাবনির মত একটি বোন আছে। শুনতে শুনতে আমি প্রশ্ন করি Ñ সেই বাড়িটাতে তুমি কবে যাবে। একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রজাপতি বলে Ñ কোনদিন নয়।
বাড়ি থেকে তুমি পালিয়ে এসেছো।
প্রজাপতি একটা ফ্রেমে আটকে থাকা রুমালে ফুল সেলাই করছে। খুবই সুন্দর হচ্ছে ফুলটা। Ñ তুমি সুঁচে এসব করতে ভালোবাসো তাই না?
খুব। দেয়ালে টাঙ্গানো যায়। বালিশের ওয়ারে সেলাই করা যায়। রুমাল করা যায়। কথা বলতে বলতে ও উঠে বসে। বলে Ñ তুমি একটু বস আমি আসছি। এরপর ফিরে হাসে পিরিচে আচার নিয়ে। বলে Ñ আচার রোদে দিয়েছিলাম। তুললাম।
আমের টমকমিষ্টি আচার খেতে খেতে আমি বলি Ñ ওই যে বললে তোমাদের একটা ফুলের বাগান ছিল। সেখানে কি সুন্দর সুন্দর ফুল ছিল।
অনেক সুন্দর ফুল। দাঁতে সুতো কাটতে কাটতে ও বলে। Ñ গোলাপ, সূর্যমুখী, দোপাটি, গাঁদা, জবা, শিউলি, বেলি এমনি নানা ফুল। আমাকে ফুল তুলতে হতো। মায়ের পূজার জন্য।
আমি বুঝতে পারি মেয়েটা হিন্দু। আমাদের পাশের বাড়ির মমতাও বাগানে ফুল তোলে। তখন আমি ওকে ছুঁতে পারি না।
এরপর খানিকটা সময় কথা ফুরিয়ে যায়। প্রজাপতি বলে Ñ জানো লাবনী আমার জীবনটা খুবই অন্যরকম। যখন আমার ছয় বছর আমার মা তার সইএর সাত বছরের ছেলের সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়েছিলেন। পুতুলখেলার মত। পরের বছর ছেলেটা কি একটা অসুখে মারা যায়। এরপর থেকে আমার জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেল। এই করতে করতে যখন আমার ষোল একটা ঘটনা ঘটলো। এবার ও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে Ñ তোমার বয়স কত?
আট।
থাক তাহলে সেই গল্পটা আর নাই বা করলাম।
সোবহানচাচা তোমাকে দেখতে আসেন না? হঠা প্রশ্নটা মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়। একটু চুপ করে থেকে প্রজাপতি উত্তর দেয় Ñ আসেন যখন সময় পান। দিনে নানা কাজতো। তাই সময় পেলে রাতে আসেন। ওর অন্যবাড়িতে বউ, চারটা ছেলেমেয়ে আছে।
জানি। সোবহান চাচুর বড় ছেলে আমার ভাইয়ের বন্ধু ছিল। জিয়াভাই। আমার ভাই শহরে চলে গেছেন পড়তে। জিয়াভাই এখানকার কলেজে পড়েন।
খানিক পর আমার অগোছালো চুলে একটু চিরুণি করে একটা সুন্দর ঝুঁটি বেঁধে দেয়। বলে Ñ যাও আয়নার সামনে গিয়ে দেখ একেবারে কাকাতুয়ার মত লাগছে।
ঝুঁটিটা আমার তেমন পছন্দ নয়।কিন্তু কিছু বলতে পারি না। এত যতœ করে বেঁধে দিয়েছে প্রজাপতি।
যখন যাবার সময় হয় বলি Ñ আবার আসবো। তোমাকে আমার খুব ভালো লাগছে।
তোমাকেও। এই বলে আমার ঝুঁটি নেড়ে গালে একটা চুমু দিয়ে বলে Ñ যখন মনে হবে এসো। ওর সারা শরীরে শিউলিফুলের গন্ধ।

রাতে আপা বলেন Ñ দুপুর বেলা আজতো পুকুর সাঁতরাওনি। কোথায় গিয়েছিলে। আমি একটা কিছু বানিয়ে বলি। ও মনে হয় বিশ্বাস করেনি। আমি দেয়ালের দিকে মুখ করে ঘুমিয়ে থাকি। রাতে যখন বাঁশবনে একটু সরসর আমি আপার কাছে সরে আসি। আপা একটু বিরক্ত হয়ে বলেন Ñ ভিতুরডিম। ঘুমা।
এখন প্রজাপতির ওখানে যাওয়া আমার অভ্যাস। প্রায়ইদিনই ওখানে যাই। প্রজাপতি নানা সব গল্প জানে। কখনো বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প করি। কখনো আমি চেয়ারে ও টুলে। কখনো বারান্দায় বসে। ওকে আমি পাকা টসটসে পেয়ারা, মায়ের আচারের বোয়াম থেকে জলপাইএর আচার, মোরব্বার বোয়াম থেকে মোরব্বা, এসব দেই। একদিন অনেকগুলো বুনোফুল দিয়েছিলাম। বলেছিল Ñ লাবনি দেখ ফুলগুলো কি ভীষন সুন্দর। এমন করেই দিন চলছিল আমার। দু একদিন ও ভাত মাছ মাখিয়ে আমাকে খাইয়ে দিয়েছে। বলেছে Ñ দেখ আমার রান্না কেমন?
খুব মজার। আমি বলেছি। ওর কোঁকড়া চুলে দুই বেনি করে কলাবেনি করে দিয়েছি। তারপর সেখানে ফুল গেঁথে দিয়েছি।

কিন্তু একদিন বাড়ি ফিরতেই মা আর আপার মেঘের মত থমথমে মুখ দেখতে পাই। ওরা দুজন ইঁদুর ধরার বেড়ালের মত ওঁত পেতে ছিল। ঘরে ঢুকতেই প্রজাপতির বেঁধে দেওয়া পনিটেলের গোছা ধরে টেনে মা আমাকে ঘরে নিয়ে গেলেন। আর আপা বললেন Ñ কত বড় মিথ্যাবাদী ও হয়েছে জানতে যদি মা। নানা কিছু বানিয়ে বলতে শিখেছে। শিখবে না কেন কোথায় ও যায় সেটা দেখতে হবে তো।
তুমি সোবহানেরর ‘মিরাকুঞ্জে’ যাও? আমার দিকে গনগনে চোখে মা তাকিয়ে আছেন। মিথ্যা বললেই সাঁড়াশি দিয়ে টেনে মা আমার জিভ ছিঁড়ে দেবেন। আমি কোন উত্তর দিতে পারছি না। মা আবার চুল যেন মাথা থেকে উপড়ে নেবেন এমন করে আমার চুল ধরে বলেন Ñ আর একবার প্রশ্ন করবো তারপর তোমাকে ভাঁড়ার ঘরে আটকে রাখবো।
চোখ দিয়ে দর দর করে পানি পড়ছে। বলি কাঁদতে কাঁদতে Ñ যাই।
মা বলেন Ñ তুমি জানো ওখানে কে থাকে?
জানি। খুব ভালো একটা মেয়ে। ওর কোন বন্ধু নাই। ও বড় একা। আমাকে খুব আদর করে মা।
আদর? আজ খুব ভালো করে সাবানকাচা করবে নিজেকে। এবং প্রতিজ্ঞা করবে আর কোনদিন তুমি ওখানে যাবে না। মা খুব একটা মারতে পারেন না। তবে তাঁর এই সবই একজনের জন্য যথেষ্ট। আর সব ভাইবোনেরা মাকে ভয় পায়। আমিও পাই। তারপরেও ছোট বলে একটা লাইসেন্স ছিল। কিন্তু আমি যেটা করছি সেটা তাঁর ভয়ানক অপছন্দ। এখানে কোন লাইসেন্স নাই। আমি একসময় প্রশ্ন করি Ñ কি করেছে ও? কেন আমি যেতে পারবো না?
মা বলেন Ñ খুব খারাপ মেয়ে। নষ্ট মেয়ে। এর বাইরে আর কিছু আমি তোমাকে বলতে পারবো না। শুধু এইটুকু মনে রাখবে তুমি আর ওখানে যাবে না।
এরপর পুরো একমাস কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আমি। মোটামুটি গৃহবন্দি।

একটু ছাড়া পেয়ে ও বাড়ির পাশ দিয়ে যেতে যেতে একদিন ওকে বলতে চাই কিছুদিন কেন আমি আসতে পারছি না। জানালায় টোকা। কেউ জানালায় আসে না। আমি দেখি জানালাটা বন্ধ। মিতা ওখানেই থাকে আমাকে ডাক দিয়ে বলে Ñ মেয়েটা চলে গেছে। পালিয়ে গেছে। যেখান থেকে এসেছিল সেখানে চলে গেছে।
চলে গেছে? একটা তীব্র কষ্ট আমাকে দিশেহারা করে। আমি মিতার সাথে এ ব্যাপারে আর কিছু না বলে বাড়িতে চলে আসি। প্রজাপতি চলে গেছে? আমাকে না বলে? একটা কষ্ট সুঁচের মত তীক্ষœ আঘাতে আমার হ্রদয়টাকে পিনকুশন বানিয়ে কেবল সুঁচ ফুটিয়ে চলেছে।
সেই রাতে সন্ধ্যা থেকে আমি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। থার্মোমিটারে দেখা গেছে আমার জ্বর Ñ ৯৯ ডিগ্রি। মা বলেন Ñ ঋতু পরিবর্তনের সময়। আজ আর কোথায় যাবে না। আমার অল্প অল্প ঘুম পেয়েছে। আপা অতসীদির সঙ্গে কি সব গল্প করছেন। অতসীদিরা পাশের বাড়িতে থাকেন। ওরা একটু দুূরে বসে আছেন। Ñ লাবনি সন্ধ্যা থেকে একেবারে ঘুমে বালিশ। জ্বর হয়েছে। অতসীদি একবার এসে গায়ের তাপ দেখে যান। বলেন Ñ গা’টা বেশ গরম।
তারপর ওরা দুজন আবার গল্প করতে শুরু করেন। হঠাৎ আমার কান খাড়া হয়ে ওঠে। ওরা ‘মিরাকুঞ্জের’ প্রজাপতির কথা বলছে। বলছে Ñ ভেগে গেছে। সোবহান কনট্রাকটর বেধড়ক পিটিয়েছিল শুনলাম। পেটাবে না কেন? ওই নষ্ট মেয়েটা তলে তলে জিয়ার সঙ্গেও ভাব করেছিল। জিয়ার চাইতেও বয়সে ছোট। আঠারো টাঠারো হবে। পেটাতে পেটাতে মেরেই ফেলতো। তার আগে ও পালিয়ে গেছে।
জিয়া কি আসতো?
আসতো মনে হয়। বাবা ছেলে একসঙ্গে! বেবুশ্যে কোথাকার।
অতসীদি বলেন Ñ ওর আর কি দোষ ছেলেটা যদি আসে। ও তো আর ডেকে আনেনি।
তোর দেখি লাবনীর মত ওর জন্য দরদ । এরপর প্রসঙ্গ বদলে ওরা আবার অন্য গল্প করে। অতসীদি আর চন্দনের প্রেমের গল্প। আপা প্রেম ট্রেমকরেন না। তিনি মনে প্রাণে পিউরিান। বালিশের কোন ভিজে উঠছে। আমার মুখ দেয়ালের দিকে।

তিন বছর পরে মনসাপোতার জঙ্গলে একজন একটা গোডাউন করবে বলে মাটি খোঁড়াখুড়ি করতে গিয়ে একটা কংকাল পায়।
কংকালের পাশে ছিল এক রাশ কোঁকড়া চুল।
মিতা আমাকে একটা রুমাল দিয়েছিল। বলেছিল অনেক পরে Ñ কে দিয়েছে। আমার জন্য অপেক্ষা করেছিল ও অনেকদিন। নিজের হাতে রুমালটা দেবার ইচ্ছা ছিল। সেখানে ডি এম সি সুতো দিয়ে একটি নকশা- ঝকঝকে বড় একটা প্রজাপতি পাখা মেলে আছে আকাশে উড়তে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০৪ বার

Share Button

Calendar

August 2020
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031