» মোদীর আচমকা লাদাখ সফর

প্রকাশিত: ০৫. জুলাই. ২০২০ | রবিবার

শরীফুল ইসলাম শরীফ
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জুলাই মাসের ৩ তারিখে লাদাখ সফর ও সেখানে তার আক্রমণাত্মক বক্তব্য চীনের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।লাদাখ উপত্যকায় জুন মাসের ১৫ তারিখ ২০ জনের মৃত্যুর পর মোদির এই লাদাখ সফর ভারতীয় সেনাবাহিনীকে অত্যন্ত উদ্বুদ্ধ করেছে।
করোনাভাইরাস এর পরবর্তী বিশ্ব রাজনীতিকে নিজের দিকে আনতে মোদী কোন চেষ্টা ত্রুটি করছে না।নাম না নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে তিনি চীনের আগ্রাসীনীতির কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন এটি এখন উন্নয়নের যুগ এবং অগ্রাসীশক্তি হয় হেরে গেছে হয়তো পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
মোদির একটি বাক্য “দুর্বল কখনো শান্তি আনতে পারেনা, সবলেই পারে ” এটি কৌশলী আঘাত করেছে চীনকে যারা ২১টি দেশের সঙ্গে সীমানা সংঘাতে লিপ্ত।
এই কৌশলী আঘাত বা ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাইক এরপরও চীন এবং তার অনুগত সোশ্যালমিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমগুলি নীরব। শুধু ৩ জুলাইয়ের বিকেলে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেছেন দুইদেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিকস্তরে কথাবার্তা চলছে এবং কোনোপক্ষেরই সমস্যাকে জটিল করা বাড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।অথচ এই চীনই ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরদিন পিএলএএর মুখপাত্র ঝাংশিউলিকে দিয়ে বলে যে গালওয়ান চিরদিনই চীনের ছিল।চীনের বিদেশ মন্ত্রক ও তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয়।
এই অগ্রাসন বা উগ্রতা চীন নরেন্দ্র মোদির লাদাখ সফরের পর এখনও দেখায় নি বা ৫৯ টি চীনা অ্যাপ ভারত বন্ধ করে দেওয়ার পরও কোনো বিবৃতি দেয়নি। শুধু বিদেশ মন্ত্রকবলেছে ভারত যেন এই ধরনের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনকানুন মেনেচলে যাতে বিদেশি ও চীনা বিনিয়োগকারী স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
চীন একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ঠিকই কিন্তু মোদির লাদাখ সফর চীনের মিথ্যা কথাগুলো সামনে এনে দিয়েছে।গত ১৫ দিনে ভারতের নেওয়া বিভিন্ন কার্যকলাপ ,সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বুঝিয়ে দিয়েছে যে ভারত ও ব্যবস্থা নিতে জানে।
এর আগে ভারত কখনো হংকং এর সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেনি।কিন্তু সম্প্রতি পাস হওয়া একটি আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে যেখানে হংকংয়ের মানুষ নাগরিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।জাতিসংঘ ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিরা জীবচন্দ্র বলেছেন ভারত হংকংয়ের পরিস্থিতির ও উপর নজর রাখছে।
ভারত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চীনকে চিন্তায় ফেলেছে ও চীনের সুবিধা জনক অবস্থানকে প্রতিহত করছে।চীনের কোম্পানি গুলির নিবেশ ভারতে বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতীয় রেল ,বিএসএনএল চীন এর যন্ত্র পাতি রনেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। MTNL তাদের 4G সার্ভিস অপগ্রেডটেন্ডার থেকে চীনা কোম্পানিকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।ভারতের সড়ক পরিবহন মন্ত্রক ও বিদ্যুত মন্ত্রক চীনা কোম্পানির বিনিয়োগ বন্ধ করছে।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য ও ভারত সরকারের পথ অনুসরণ করছে।সাংহাই টানেল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে দিল্লী-মিরাট RRTS করিডোর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে।এই কোম্পানিটি এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সব থেকে কমরেট দিয়েছে।চীনের কোম্পানি গুলির পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করেছে।এর মধ্যে পুনেতে গ্রেটওয়াল মটরস এর কারখানাও আছে।
সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ছাড়াও ভারত কূটনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অনেক এগিয়ে গেছে।২৭ জুন ভারতীয় নৌ-বাহিনী ও জাপানের নৌবাহিনী এক সঙ্গে ভারত মহাসাগরে মহড়া দিয়েছে।ভারতের প্রতি রক্ষা মন্ত্রী সম্প্রতি রাশিয়া সফরে গিয়ে অত্যাধুনিক মিসাইল ও যুদ্ধ বিমান ক্রয় ,পুরনো বিমানের স্কোয়াড্রন আধুনিকী করন ইত্যাদি চুক্তি করে এসেছে।প্রধানমন্ত্রী মোদী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পুতিনেরসঙ্গে এ ব্যাপারে জুলাই মাসের2তারিখেকথাবলেছেনওপুতিনতাকেদু’দেশেরস্ট্র্যাটেজিকপার্টনারশিপএরব্যাপারেআশ্বস্তকরেছেন।ওদিকে১জলাইআমেরিকারসেকেন্ডারিঅফস্টেটভারতের৫৯টিচীনাঅ্যাপকেনিষিদ্ধকরাকেসমর্থনকরেছেন।

এব্যাপারে যে টুইট গুলিহ য়েছে
“চীনের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর লাদাখ ও ফরওয়ার্ড এরিয়া সফর এটাই প্রমাণ করে যে ভারত কোন অবস্থায় চীনকে অঞ্চলে সুবিধাজনক অবস্থায় আসতে দেবেনা “।
“ভারত সামরিক ,রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিকএবংকূটনৈতিক সব ক্ষেত্রেই চীনকে চ্যালেঞ্জ করবে ” ।
“ভারত বিশ্বকে এটাই বলতে চাইছে দরকার হলে সে একাই চীনের মোকাবিলা করবে।মোদী চীনের নিন্দা করার পর বল এখন বিশ্বরাজনীতির কোটে ” ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৭ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031