» মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন নারী মুক্তির কথা বলে গেছেন

প্রকাশিত: ২১. নভেম্বর. ২০১৭ | মঙ্গলবার

‘সওগাত’ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রগতিশীল সমাজ গঠনে নারী মুক্তির কথা বলে গেছেন। তার আগে এ কথা বলেছেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। প্রবাদ প্রতীম সাংবাদিক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের ১২৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বরেণ্য লেখক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক রাহাত খান এ কথা বলেন।
জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণসভায় বিশ্ব শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম সভাপতিত্ব করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত এ সভায় সওগাত সম্পাদককে নিয়ে লেখক ও সাবেক ডেপুটি সেক্রেটারী শামসুজ্জাহান নূর এবং লেখক ড. গুলশান আরা স্মৃতিচারণ করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাংবাদিক নাসিরউদ্দীনের দৌহিত্রী ফ্লোরা নাসরীন সাথী।
রাহাত খান বলেন, শিক্ষিত ও সাহিত্যমনন একটি জাতি গঠনে সওগাত সম্পাদক তার পুরো জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। নারী মুক্তি ছাড়া মুসলমান সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় এটা অনুভব করতে পেরেই তিনি নারীদের সামনে নিয়ে আসতে ও তাদের চিন্তা-চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ‘বেগম’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নারী মুক্তি আন্দোলনে যার এতো বিশাল অবদান, তাকে আজ আমরা ক’জন স্মরণ করছি। বাঙালী মুসলমান সাংবাদিকদের পথিকৃতও বলা যায় তাকে, কিন্তু ক’জন সাংবাদিক তাতে স্মরণ করছি। তার মতো একজন প্রগতিশীল ও সাহিত্যনিবেদিত আরেকজন ‘নাসিরউদ্দীন’ আগামী একশ’ বছরেও পাব কিনা সন্দেহ। রাহাত খান আরো বলেন, এ গুণী ব্যক্তিত্বের জন্মদিন বা মৃত্যুদিন তার কর্মের মতোই বিশাল আকারে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হওয়া উচিত। তাই তিনি সরকারের প্রতি তার জন্ম বা মৃত্যু দিবস ব্যাপক আয়োজনে পালনের আহবান জানান।
অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, তৎকালীন অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে ‘সওগাত’ পত্রিকা ঝাকুনি দিয়ে গেছে। সমাজে নারীদের চার দেয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে এবং কাঠ মোল্লাদের ফতোয়ার বিরুদ্ধে ‘সওগাত’ ও ‘বেগম’ পত্রিকা মহিরুহের মতো ভূমিকা পালন করেছে। সমাজে আজকে নারীর যতটুকু অগ্রগামিতা তার পেছনে নারিউদ্দীনের অবদান স্মরণীয়। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনে পরিবারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, নারী মুক্তি আন্দোলন ও আমাদের সমাজ বির্নিমাণে সওগাত সম্পাদক, তার মেয়ে বেগম নূরজাহান এবং তার মেয়ে জামাতা রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। তাই এ অধ্যাপক এই তিন গুণী ব্যক্তিত্বের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি সরকারের প্রতি জানান।
ড. গুলশান আনা বলেন, ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী মোল্লাদের নানা হুমকির মধ্যেও মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন প্রথম মুসলমান নারীদের ছবি পত্রিকায় ছাপানো শুরু করেন। নারী প্রগতির অগ্রদূতের ভূমিকায় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ফ্লোরা নাসরীন সাথী বলেন, আজকের অনেক প্রতিথযথা নারী লেখক আছেন, যাদের এ পর্যায়ে আসার পেছনে সওগাত ও বেগম পত্রিকার বেশ বড় ভূমিকা রয়েছে। সুত্রঃ বাসস

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৬৯ বার

Share Button