» মৌলভীবাজারের বদরুন্নেসা হাসপাতালে গাফিলতি নাকি মানবিকতা ?

প্রকাশিত: ০৩. অক্টোবর. ২০২০ | শনিবার

বিশেষ প্রতিনিধি 

মৌলভীবাজারের বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে ডাক্তারের গাফিলতির কারণে সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা মহিলার মৃত্যুর অভিযোগ তুলেছেন রোগীর স্বজনেরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, রোগীর অবস্থা জটিল ছিল। তাই চেষ্টা করেও বাঁচানো যায় নি । ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ৯ টায় ।

রোগীর স্বজনেরা বলেন, লিলি বেগম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বলিয়ারবাগ গ্রামের মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী আহাদ মিয়া স্ত্রী। সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এই নারী চিকিৎসা নিতে আসেন বদরুন্নেসা প্রাইভেট হাসপাতালে, কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবার নামে লিলি বেগমের পরিবারকে আতংকিত করে তুলেন এবং বলেন গর্ভবতীকে সিজার না করালে তাকে বাঁচানো যাবেনা তখন লিলির পরিবারকে বাধ্য করা হয় সিজার করানোর জন্য একপর্যায়ে লিলিকে সিজার করার কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) তে । এর কিছুক্ষণ পর জানানো হয় লিলি মারা গেছেন এরপর থেকে ডাক্তার নার্স এমনকি আয়া পর্যন্ত পালিয়ে যান।

এরপর রোগীর অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী করা তীর সরাসরি গিয়ে পড়ে বদরুন্নেসার ডাক্তার ও সংশ্লিষ্টদের ওপর।স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যন্যেদের দেখতে না পেয়ে হাসপাতালটিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বস্ত করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রখ্যাত গাইনোকলজিস্ট ডাক্তার যাকিয়া শহীদ খান রেডটাইমসকে বলেন, সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা লিলি বেগম প্রসব ব্যথা নিয়ে  হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন । তার হাই প্রেশার ছিল । অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ছিল । বয়সটাও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ । এ অবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করাতেন না। যা ওনার ক্ষেত্রে খুব প্রয়োজনীয় ছিল।  আমরা অতীতে ঝুঁকিতে থাকা রোগীকেও বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি   । কিন্তু তাকে সিলেটে পাঠালে পথেই দুর্ঘটনা  অবধারিত ।তাই মানবিক বিবেচনা থেকে আমরা আমাদের সাধ্য মতো চিকিতসা সেবা দিয়েছি । কিন্তু শেষ রক্ষা হয় নি । রোগীর স্বজনেরা
ভুল তথ্য দিয়েছেন । আমরা তাকে সিজার করার জন্য ওটিতে মিয়ে যাই নি । বরং আইসিইউ কনসাল্ট্যান্ট  ডেকে এনেছি  ।   তার উপস্থিতিতেই  রোগীর মৃত্যু হবার পরে হাসপাতালের কেউ পালিয়ে যায় নি । আমি নিজে মৃত্যু সংবাদ জানানো পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলাম । তারপর বাসায় চলে যাই । অন্য স্টাফেরা যার যার নিজের কক্ষে ছিলেন । কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যখন কিছু বহিরাগত লোকজন নিয়ে হাসপাতালে আক্রমণ করে তখন সঙ্গত কারণেই স্টাফরা নিরাপদে নিজ নিজ কক্ষে অবস্থান করেন ।
উল্লেখ্য ডাক্তার যাকিয়া শহীদ খান গাইনোকলজিতে ডিজিও এবং এফসিপিএস করেছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬২৩ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031