শিরোনামঃ-


» মৌলভীবাজারে করোনায় আক্রান্ত দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন

প্রকাশিত: ২০. জুন. ২০২০ | শনিবার

মো. আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার:
শরীরে প্রাণঘাতী করোনা শনাক্ত হয়েছে চারদিন পূর্বে। তা জেনেও কান্ডজ্ঞানহীন এক ব্যক্তি দাপটের সাথে যাত্রী নিয়ে সিএনজি চালিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে শহরে। শুধু কি তাই? অনবরত আড্ডা দিয়েছেন বিভিন্ন চায়ের দোকানে। এমনকি সেলুনে গিয়ে চুল দাঁড়ি পর্যন্ত কেটেছেন সদ্য করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামে বলে জানা গেছে। তিনি পেশায় সিএনজি চালক।

সূত্র জানায়, আক্রান্ত সিএনজি চালকের করোনা সন্দেহে নমুনা কালেকশন করা হয়ে গত ১০ জুন। ১৬ জুন তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। বিষয়টি আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে জানিয়ে তাঁকে আইসোলেশনে থাকতে বলা হয় এবং মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ব্যাক্তি আইসোলেশনে না থেকে সে দিন থেকেই সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যাত্রী পরিবহন করেছেন শুক্রবার পর্যন্ত। এমন তথ্য জানিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যেমে আমরা অভিযোগ পেয়ে এই ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করেছি বাড়ী সেলুন, চায়ের দোকান লকলাউন করেছি । আমরা জানতে পেরেছি তিনি প্রায় এক সপ্তাহ আগে করোনা পজিটিভ, এটা জানা স্বত্তেও গতকাল পর্যন্ত ওই ব্যক্তি সেলুনে-চায়ের দোকান-ভিন্ন ইউনিয়নে বেড়াতে গিয়েছেন, সি এন জি চালিয়েছেন। আক্রান্ত এই ব্যক্তির বাড়ির পাশে কাবাডি খেলার জন্য অনেক তরুণদের পেয়েছি। এই রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ আমাদেরকে অবাক করেছে ।

এবিষয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বর্তমানে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করেছি, বাড়ির গেইটে সারাক্ষণ তালাবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি যাতে করে বাড়ির বাহিরে বের না হতে পারেন সেব্যাপারে নজরদারী করতে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলারের সহযোগীতায় ভলেন্টেরিয়ান নিয়োগ করেছি।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তৌউহীদ আহমদ জানান, এই রকম দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করোনা বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধকে কঠিন করে দিচ্ছে। এই রকম ঘটনা যেনো আর না ঘটে তাই প্রশাসনের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫০১ বার

Share Button