» মৌলভীবাজারে মাইন বিস্ফোরণে নিহত শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন

প্রকাশিত: ২০. ডিসেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার


মোঃ আব্দুল কাইয়ুম, মৌলভীবাজার:
তীব্র শীত উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারে ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মাইন বিস্ফোরণে নিহত শহীদদের মোমবাতি প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে স্মরণ করল মৌলভীবাজারবাসী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানী বাহিনীর ফেলে যাওয়া মাইন বিস্ফোরণে এক সঙ্গে ২৪জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। এর পর থেকে প্রতি বছর ২০ ডিসেম্বরকে স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

উল্লেখ্য: ২০ ডিসেম্বর হঠাৎ আকস্মিক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যা¤প এলাকা। সাথে সাথে চোখের নিমেষেই বিদ্যালয়ের চালের টিন উড়ে যায়, উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিজয়ের মাসে ৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার জেলা মুক্ত হলেও কেহ ভাবেনি এভাবে শহর এলাকায় যুদ্ধকালীন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে । মুক্ত দেশে নিশ্চিত ঘরে ফেরার পর মুহুর্তেই তারা হয়ে গেলেন ইতিহাসের চির অমর। ঐসময় এলাকাবাসী ছিন্নভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের দেহ একত্রিত করে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করেন নিহত শহীদের। জানা গেছে, এই ক্যাম্পের অধিকাংশই ছিলেন আওয়ামীলীগ, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্য।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ আয়োজনে শহরের সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্মৃতিসৌধের সামনে ঘন্টাব্যাপী মোমবাতি প্রজ্জলনের আয়োজন করা হয়। শুরুতে মাইন বিস্ফোরণে নিহত শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক বেগম নাজিয়া শিরিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার) , জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জামাল আহমদ, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আনছার আহমদ, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কবি সৌমিত্র দেব, জেলা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি বকসী ইকবাল আহমদ, সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগারের সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ ।
মোমবাতি প্রজ্জলনে অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা,সাংস্কৃতিককর্মী,সাংবাদিক,পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারি-বেসরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ।


এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৫৮ বার

Share Button