» যে জয় অনিবার্য ছিল

প্রকাশিত: ২৩. অক্টোবর. ২০২০ | শুক্রবার

খছরু চৌধুরী

গত ১৮ আগষ্ট সর্বজন প্রিয় প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমানের মৃত্যুতে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি। যথানিয়মে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফসিল ও তারিখ ঘোষণা করেন। ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাজনীতিবিদ মিছবাহুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এম এ রহিম শহীদ সিআইপি-কে ৭৩২ – ২০২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন। জেলার রাজনীতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ সুস্থ রাখতে এই বিজয়টা অনিবার্য ছিল।

তফসিল ঘোষণার পর এবং দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের আগে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির অন্তত দশ জন প্রার্থীর নাম প্রচারে ছিল। মনোনয়ন পত্র জমাদান ও যাচাই-বাছাইয়ে স্পষ্ট হয়ে গেল প্রার্থী আসলে দু’জন এবং একই দলের। একজন আওয়ামী লীগ এর দলীয় সভাপতির মনোনয়ন প্রাপ্ত এবং অপরজন বিদ্রোহী। এই নিয়ে জেলার রাজনীতি সচেতন মহলে শুরু হলো নানা হিসেব-নিকেশ। আওয়ামী লীগ এর বিদ্রোহী প্রার্থী এম এ রহিম সিআইপি জেলা পরিষদের গত নির্বাচনে জেলা পরিষদের প্রয়াত চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমানের সাথেও বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কুলাউড়া উপজেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সাবেক এমপি এম এম শাহীন। আজিজুর রাহমানের সাথে নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে না পারলেও জনগণের ও জনপ্রতিনিধি ভোটারের মন যে জয় করে ছিলেন – এটা অনেক ভোটারের কথায় উঠে এসেছে। উপনির্বাচনে কমিশনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে জনগণ ও ভোটারের মুখে মুখে এম এম শাহীন ও আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান এর নাম উচ্চারিত হতে থাকে। দু’জনেই পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ও কর্মীবান্ধব সদাচারী জননেতা হিসেবে পরিচিত। কি কারণে এম এম শাহীন নির্বাচন করেননি তা জানা যায়নি। কিন্তু নির্বাচনে ভোটাররা যে এম এম শাহীনকে মিস্ করেছেন – এটা বলতে কোন দ্বিধা নেই।

আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনৈতিক দল। একাধারে টানা তৃতীয় বারের মতো সরকার পরিচালনা করছে। এখানে ত্যাগী নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি সুবিধাভোগী নেতা-কর্মীর সংখ্যাও বেশ বেড়েছে।গণতন্তে অনেক সময় চরিত্র, যোগ্যতা, সততার চেয়ে এখানে টাকা, পেশি শক্তি ইত্যাদির জয় জয়কার হতে দেখা যাচ্ছে। একারণেই শাসন পদ্ধতি হিসেবে গণতন্ত্রের সমালোচকেরা এটাকে মুর্খের শাসন বলে অভিহিত করেন। পৃথিবীর শাসনতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় কোনো শাসন ব্যবস্থায়ই এবসোলিউট নয়। সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আমাদের দেশের গণতন্ত্রের অবস্থাটা তুলনামূলক অধিক রোগাক্রান্ত। এটার উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে কখন যে মারা পড়ে এই আশংকাই এখন বেশি।

রাজনৈতিক বায়োডাটা থেকে জানা যায়, আলহাজ্ব মিছবাহুর রহমান তৃণমূল থেকে রাজনীতি করার মধ্য দিয়েই মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে আসীন হয়েছেন। পারিবারিক আর্থিক সংগতি থাকার পরও তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ৭৫ পরবর্তী আওয়ামী লীগ এর রাজনীতির প্রতিকূল পরিবেশে তিনি তৎকালীন মহুকুমা ছাত্র লীগের রাজনীতিকে সুসংগঠিত করতে যেয়ে জীবন ও যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় ব্যয় করেছেন। তারপর জেলা যুবলীগ এর কান্ডারীর ভূমিকা পালন করে বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এই নেতা। স্বভাবজাত মিশুক ও মিষ্টভাষী কথায় যে কাউকে সহজেই আপন করে নেবার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। এখন তিনি জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর কাজ-কর্ম পরবর্তী ভবিষ্যৎ-ই বলে দেবে যে তিনি রাজনীতিতে মরহুম আজিজুর রাহমানের যোগ্য উত্তরসুরী কি না? কিন্তু জেলার রাজনীতি ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পদগুলোকে রাজনীতিবিদের হাতে রাখার বিকল্প ছিলনা ব’লে ই সচেতন ভোটার এমন রায় দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ এর অন্দর মহলের অন্তঃকলহের মধ্য দিয়েও ভোটাররা ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছেন – রাজনীতিটা রাজনীতিবিদের হাতে থাকাই নিরাপদ। সুতরাং এমন জয় অনিবার্য ছিল।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৪ বার

Share Button

Calendar

November 2020
S M T W T F S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930