» রাজনগরে সরকারি ধান ক্রয়ের নেপথ্যে খাদ্য কর্মকর্তাসহ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট!

প্রকাশিত: ১৭. জানুয়ারি. ২০২০ | শুক্রবার


স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ের সিন্ডিকেট নিয়ে বিতর্ক চলছিলো কিছু দিন থেকে। এই বিতর্ক নিয়েই উপজেলা আওয়ামীলীগের দু’টি বিবাধমান গ্রুপের মধ্যে বিরোধ শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এসবের নেপথ্য কারন সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ খোদ রাজনগর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা কুমার সরকারসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, অসিম কুমার সরকার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে প্রকৃত আমন চাষীদের বাদ দিয়ে কৃষক তালিকা তৈরী করেছেন। এতে উপজেলার বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা ক্ষুব্ধ হয়ে এই তালিকা বাতিল করে প্রকৃত চাষীদের নিয়ে নতুন তালিকা তৈরীর দাবি জানিয়ে আসছেন।

স্থানীয়সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের আমন ধান ক্রয় করাকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একটি সিন্ডিকেট গড়েওঠে। কিন্তু কৃষিবিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতায় এই সিন্ডিকেট ধান বিক্রি করতে পারেনি। এর জের ধরে কিছুদিন থেকে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে উপজেলা জুড়ে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি বছরে কৃষকদের থেকে আমন ধান ক্রয়ের জন্য ৯ হাজার কৃষক থেকে ১ হাজার ৪০ জনের তালিকা করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাগণ। তালিকার প্রকাশের পর এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। রাজগরের মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে দেখা যায় তালিকায় অর্ধেকের বেশী ভুয়া কৃষক। এমনকি একটি ফোন নাম্বার দিয়ে একই ব্যক্তি তালিকায় ঢুকেছেন ৫৭ বার।

আমন কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা, ধান ব্যবসায়ী ও সরকার দলের একটি অংশের সমন্বয়ে গড়ে উঠে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের উদ্দেশ্য প্রকৃত কৃষকদের ঠকিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া। আর তাই ভুয়া কৃষকদের নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিতর্কিত তালিকা।

এ বিষয়ে খোঁজ নিতে সরজমিনে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে জানা যায়, তালিকায় ভুল ছিলনা কিন্তু হাতে লেখা তালিকা প্রিন্ট হয়ে আসার সময় সঠিক তালিকা বদলে যায়। জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বারসহ হাতে লেখা তালিকা প্রিন্টের জন্য দেওয়া হয় উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অসীম তালুকদারকে। সে তালিকা অসীম কুমারের হাত থেকে যখন প্রিন্ট হয়ে আসে তখন ঢুকে পড়ে ভুয়া কৃষক ।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসি আক্তার জানান, তালিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর কিভাবে তালিকা বদলে গেছে তা নিয়ে জানতে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তলব করি। তখন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক (ওসি এলএসডি) অসীম কুমার জানান, একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবে এবং চাপে এই তালিকা বদলে দিতে হয়েছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তিনি সিন্ডিকেটের সদস্যের নামও লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছেন।

এই ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার এই বিতর্কিত তালিকা নিয়ে উপজেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভা বসলে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে বিতর্কিত তালিকার পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেয় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাজান খান ও মনসুর নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিলন বখতের সমর্থকরা। সভা শেষে বিকেল ৪টার দিকে উভয় গ্রুপ সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ২ জন আহত হন এবং একটি দোকান ভাংচুর করা হয়।

বিতর্কিত এই তালিকার বিষয়ে রাজনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার জানান, এসি ল্যান্ডের অফিসে সব ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে তালিকা স্থগিত করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮০ বার

Share Button