» রাজার নাম সীতারাম

প্রকাশিত: ১১. মে. ২০২০ | সোমবার

আবুল কালাম আজাদ

বাংলার ইতিহাসে ভুলে যাওয়া এক রাজার নাম সীতারাম রায় (১৬৫৮–১৭১৪)।তিনি ছিলেন মাগুরার প্রামাণ্য ইতিহাসের নায়ক ভূষণা তথা মহম্মদপুরের রাজা । তাঁকে নিয়ে “সীতারাম” নামে উপন্যাস রচনা করেছেন বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । বারো ভুঁইয়া নামে খ্যাত বাংলার বিখ্যাত বারোজন সামন্ত রাজার কথা প্রায় সব বাঙালিই জানি। মোগল সম্রাট আকবরের সময় থেকেই বাংলায় মোগলের অধিকার বিস্তারের শুরু। সেই সময়,ও তার কিছু আগে থেকেই বাংলার গৌড় ,রাজমহল বা ঢাকা যেখানেই রাজধানী স্থাপিত হোক না কেন, বাস্তবে বাংলাদেশের নানা স্থানেই ভুঁইয়া বা ভৌমিকরাই ছিলেন শাসক। এঁরা ছিলেন সামন্ত রাজা বা জমিদার শ্রেণীর শাসক। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এঁরা স্ব স্ব এলাকায় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করবার চেষ্টায়, বাংলার মুসলমান নবাব বা মোগল সম্রাটের বিরাগভাজন হয়েছিলেন, যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। পরাজিত হয়ে স্বাধীনতার আশা ও জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন। বীরত্বে তাঁরা কেউ কম ছিলেন না। এঁদের অনেকেই বংশগতভাবে সামন্ত পরিবারের উত্তরসুরী ছিলেন।পুরো বাংলাদেশ নয়, নিজের অধিকৃত অঞ্চলটুকুর স্বাধীনতা রক্ষা করা আর নিজের
অধিকারের সীমানা বৃদ্ধি করাই ছিল এঁদের লক্ষ। এঁদের আধিপত্যের কারণে দক্ষিণবঙ্গ তখন “বারভুঁইয়ার মুলুক’বলে পরিচিত ছিল।
এই মুলুকেই নিজের শৌর্যে রাজা হয়েছিলেন সীতারাম। তিনি কোন সামন্ত বা জমিদার পরিবারের ছিলেন না। দিল্লীর শাসকদের সঙ্গে নিজে থেকে বিবাদে নামেননি। এমন স্বাধীনচেতা মানুষ যিনি নিজের সাহস,বীরত্ব আর রণকুশলতার গুণে দিল্লীর মোগল সম্রাটের কাছ থেকে রাজা উপাধি ও বিরাট এলাকার জায়গীর লাভ করেছিলেন।
বিখ্যাত দানবীর রামদাস খাঁ গজদানী ছিলেন তাঁদের পরিবারের দ্বাদশ উর্ধতম পুরুষ। পঞ্চদশ শতাব্দীর শুরুতে তিনি একজন বিখ্যাত ব্যক্তি ছিলেন। থাকতেন বর্তমানের মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমার খড়গ্রামে। মাতৃশ্রাদ্ধে তিনি একটি সোনার হাতি তৈরি করে পুরোহিতদের দান করেছিলেন। মিথিলা,বারাণসী প্রভৃতি স্থান থেকে বিখ্যাত পন্ডিতদের আনিয়েছিলেন, অনেক দানধ্যান করেছিলেন। সেই থেকে তিনি “রামদাস গজদানী’ নামে পরিচিত হন। রায়তদের সুবিধার জন্য তিনি এক বিরাট দীঘি খনন করিয়েছিলেন।
তাঁর বড়োছেলে অনন্তরাম ছিলেন দিল্লীর রাজসরকারে একজন কানুনগো। তিনিও খুব জনসেবা পছন্দ করতেন। শোনা যায় দিল্লী থেকে কটক পর্যন্ত বাদশাহি সড়কের বাংলাদেশের অংশটুকু তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে ভালোভাবে তৈরি করিয়েছিলেন। অনন্তরামের দুই ছেলের মধ্যে ছোটছেলে ধরাধরের বংশের দশম পুরুষ সীতারাম।
সীতারাম রায়ের বাবা উদয়নারায়ণ অবশ্য ছিলেন ভূষণার ফৌজদারের অধীনস্থ একজন তহশীলদার মাত্র। তখন ভূষণা ছিল বারোভূঁইয়ার একজন মুকুন্দরাম রায়ের রাজ্য। তাঁর পুত্র সত্রাজিৎ ছিলেন মোগলের অধীন এক সামন্ত রাজা। কোন শাসকবিরোধী কাজের জন্য মোগল কর্তৃক সত্রাজিতের মৃত্যুদণ্ড হয়,এরপর ভূষণা চলে যায় সুবাদার সংগ্রাম সিংহের হাতে। শাহজাহানের রাজত্বকাল তখন। এরপরই সীতারামের উত্থান।
সীতারামের বাল্যকাল কেটেছিল কাটোয়ায় মামার বাড়িতে।সীতারামের মা দয়াময়ী দেবী নাকি অসম্ভব সাহসী ছিলেন। জানা যায়,তাঁদের কাটোয়ার বাড়িতে এক কালীপুজোর রাতে ডাকাত পড়েছিল। টের পেয়ে ষোড়শী দয়াময়ী একাই বেড়িয়ে এসে পাঁঠাবলির খাঁড়া হাতে ডাকাতদের তাড়া করে একজনকে আহত করেছিলেন। বাকিরা পালিয়ে গিয়েছিল।।মায়ের দুঃসাহসিকতার খানিকটা বোধ হয় পুত্র সীতারামের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছিল।
আওরংগজেবের জমানার শুরুতে,বাংলার নবনিযুক্ত সুবাদার মীরজুমলা রাজধানীকে রাজমহল থেকে আবার ঢাকায় স্থানান্তরিত করলেন ১৬৬০ খ্রিস্টাব্দে।সীতারাম রায়ের পিতা উদয়নারায়ণকে ঢাকায় আসতে হল।। তিনি মধুমতী নদীর অপর পারে হরিহরনগরে নিজের বাসস্থান নির্মাণ করবার পর যখন পরিবারকে নিয়ে আসেন তখন পুত্র সীতারামের বয়স দশ কি এগারো। মোগল সাম্রাজ্যের পতনের সূত্রপাত হয়েছে সে সময়। সাম্রাজ্যের দখল নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ে মোগল রাজপরিবার বিপর্যস্ত। বিশাল মোগল সাম্রাজ্যের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা।সেই অরাজকতার সুযোগে আরাকানের মগ দস্যু,পর্তুগিজ হার্মাদ আর ডাকাতদের রাজত্ব হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ।এদের উপদ্রবে বাংলার জনজীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে।বাংলার সুবাদার হিসাবে মীরজুমলার পুরো সুবেদারি কেটে যায় দস্যুদমনের প্রচেষ্টায়। এরপর ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সুবাদার হয়ে আসেন শায়েস্তা খাঁ । শায়েস্তা খাঁর সময়েই সীতারাম হরিহরপুরে আসেন।
ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে থাকা যুবক সীতারাম ভূষণার সামাজিক অবস্থা লক্ষ করছিলেন। শৈশবে মামার বাড়িতে সংস্কৃত চতুষ্পাঠীতে পড়াশুনা করেছিলেন। হাতের লেখা ছিল মুক্তোর মত। চণ্ডীদাস,জয়দেবের কাব্য তাঁর কণ্ঠস্থ ছিল। তখনকার চলিত বাংলা শিখেছিলেন বাড়িতে।আবৃত্তির প্রতি তাঁর সারা জীবন ভালোবাসা ছিল।ভূষণায় এসে শিখলেন প্রাচীন বাংলার গুরুত্বপূর্ণ খেলা-লাঠি খেলা। লাঠি ছিল বাংলার মানুষের ধন,মান ও আত্মরক্ষার প্রধান অবলম্বন।চোরডাকাতের আক্রমণ ঠেকানো থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য পাইকের কাজ,এই দুটি প্রধান কাজেরই অবলম্বন ছিল পাকা বাঁশের তেলমাখানো পোক্ত লাঠি।
লাঠি খেলার সঙ্গে মল্লযুদ্ধ, ঘোড়ায় চড়া আর তলোয়ার চালানোতেও বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন সীতারাম। শিখেছিলেন আরবি আর ফারসি ভাষা,রাজপুরুষদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগের জন্য। ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন ভবিষ্যতে স্বাধীন রাজা হবার বাসনা নিয়ে।মনে হয় শিবাজীর মত স্বাধীন সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল তাঁর। নিজের ক্ষমতায় অগাধ বিশ্বাস ছিল তাঁর। শুধু যুদ্ধবিদ্যা, অস্ত্রচালনায় দক্ষতাই ছিলনা তাঁর,বিভিন্ন নান্দনিক গুণ ও ছিল তাঁর, ভালোবাসতেন হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল মানুষকেই।যে কোন ধর্মের
সাহসী ,গুণী মানুষকেই নিজের সঙ্গে ভিড়িয়ে নিতেন। রাজা হবার পর প্রজানুরঞ্জন সব গুণই কাজে এসেছিল তাঁর।সে সময় মুঘলের হাতে পর্যুদস্ত পাঠানরা তাঁর শৌর্যে আকৃষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে তাঁর মিত্র হচ্ছিল।প্রাপ্তবয়স্ক যুবক সীতারাম মাঝে মাঝেই চলে যেতেন রাজধানী ঢাকায়।সেখানে যেতেন রাজপুরুষদের সঙ্গে পরিচিত হতে,রাজ্যের পরিস্থিতি বুঝতে।রাজদরবারেও যাতায়াত ছিল তাঁর। তহশীলদারের পুত্রকে চিনতেন শায়েস্তা খাঁ। তাঁর বলিষ্ঠ,সুঠাম দেহ দেখে ও নানা গুণের কথা শুনে শায়েস্তা খাঁও তাঁর প্রতি আগ্রহী হয়েছিলেন।যুবক সীতারাম ঢাকাতেও বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন,সেখানকার মানুষদের সঙ্গে পরিচিত হতেন, দেখতেন অত্যাচারী জমিদার বা তহশীলদারদের শোষণে,আর দস্যু-তস্করের উপদ্রবে সাধারণ মানুষদের দুরবস্থা,মেয়েদের জীবনও নিরাপদ ছিল না।
এই সময় হঠাৎই নিজের রণনৈপুণ্য আর কর্ম কৌশলের পরিচয় দেবার সুযোগ মিলে গেল। বাংলাদেশে দস্যু,ডাকাতের উপদ্রব ছিলই, সঙ্গে আর এক বিদ্রোহের সূত্রপাত হল।মোগলের হাতে পরাজিত পাঠানরা বিক্ষুব্ধ ছিল। সুযোগ পেলেই মোগলদের আক্রমণ করত, নানা ভাবে বিব্রত করত। এই সময় ভূষণার কাছেই সাতৈর পরগণাতে করিম খাঁ নামে এক পাঠান বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।তাঁকে দমনের জন্য প্রচুর সৈন্যসামন্ত পাঠিয়েও ফৌজদার তাঁকে পর্যুদস্ত করতে পারেননি।
কাকে নিযুক্ত করা যায় এই বিদ্রোহ দমনের জন্য ভেবে সুবাদার শায়েস্তা খাঁও চিন্তায় পড়লেন।বিপর্যস্ত শায়েস্তা খাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন যুবক সীতারাম ।
করিম খাঁর বিরুদ্ধে অভিযান করার আগ্রহ প্রকাশ করতেই রাজি হয়ে গেলেন শায়েস্তা খাঁ।কয়েক হাজার অশ্বারোহী আর পদাতিক সৈন্য দিয়ে তাঁকে করিম খাঁর বিদ্রোহ দমন করতে পাঠালেন। জীবনের প্রথম পরীক্ষাতেই চুড়ান্ত সফল হলেন তিনি।করিম খাঁকে পরাজিত ও নিহত করে, বিদ্রোহ দমন করে ঢাকায় ফিরলেন।শায়েস্তা খাঁর নিকট থেকে প্রচুর প্রশংসা আর সম্মান পেলেন; আর পেলেন নল্‌দী পরগণার জায়গীররদারি।দক্ষিণবঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলে অনেক দ্বীপ ছিল, এগুলির মধ্যে একটি বিস্তীর্ণ দ্বীপ জুড়ে ছিল নল্‌দী পরগণা। ভাগীরথী আর মধুমতী নদীর মোহনার মধ্যবর্তী স্থান জুড়ে অবস্থান ছিল এটির, পুরো ভাটির দেশ এসে গেল তাঁর আওতায়।চোর, ডাকাত, দুর্বৃত্ত আর পাঠানদের হাত থেকে ভূষণাসমেত বিস্তীর্ণ অঞ্চল রক্ষা করার দায়িত্বসহ জায়গীর পেলেন তিনি। জায়গীরলাভ করে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করে দিলেন। আজীবনের সাথী হিসাবে সঙ্গে পেলেন শক্তিশালী আর প্রখর বুদ্ধিমান দুই বীরকে।
একজন ছিলেন রামরূপ ঘোষ। ছেলেবেলা থেকেই বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী রামরূপ পালোয়ানের কাছে লাঠিখেলা,কুস্তি এসব শিখেছিলেন অর্থ উপার্জনের জন্য। গরিব মানুষেরাই সাধারণত ধনী ও জমিদার বাড়িতে পাইক, দারোয়ান,বেহারার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তাই লাঠিখেলা তাঁদের শিখতেই হত। যৌবনে হাতীর মত বিশাল দেহের অধিকারী রামরূপকে লোকে ও সীতারামের সেনাবাহিনীতে সহকর্মীরা ‘মেনাহাতী’ বলে ডাকতে শুরু করেছিল। দস্যুরাও মেনাহাতীর নাম শুনলেই পিঠটান দিত। মেনাহাতী হলেন তাঁর সেনাপতি। সীতারামের আর এক সাথী ছিলেন কুটকৌশলী,ও মন্ত্রণাদাতা মুনিরাম রায়। সীতারাম,মুনিরাম,আর রামরূপ এই তিন ‘রাম’ মিলে এক শান্তিপূর্ণ, স্বাধীন রাজ্যগঠনের কাজে এগোলেন।বাংলার ডাকাতদের মধ্যে সবাই ছিল অভাবী,দরিদ্র শ্রেণির মানুষ,বাধ্য হয়ে ডাকাতিকে পেশা করেছিল। সীতারাম গরিব,ডাকাত, আর নিম্নশ্রেণীর লাঠিয়াল,পাইক, আর কোনঠাসা কিছু পাঠানদের নিয়ে তাঁর নিজস্ব বাহিনী গড়তে শুরু করলেন। এইসব সাহসী ডাকাত আর দস্যুরা সেনাদলে থেকে মাইনে পেত। জীবিকার সুস্থ আর নিশ্চিত রাস্তা পেয়ে তারা সীতারামের হয়ে জান প্রাণ লড়িয়ে কাজ করত।এইসব দস্যু আর ডাকাতরা ডাকাতদের কৌশল জানত। ডাকাত দিয়ে ডাকাত ধরা সহজ হত।
হিন্দু,মুসলমান, পাঠান,ডাকাত,লাঠিয়ালরা তাঁর আহ্বানে দলে দলে এসে তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে লাগল। এঁদের মধ্যে প্রধান প্রধান ছিল ডাকাত বক্তার খাঁ, যে নিজের দলবল নিয়ে সীতারামের সৈন্যদলে এসে সামিল হয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিল মোগল সেনাবাহিনীর এক বিতাড়িত সেনা আমল বেগ। আমল বেগ এত দুর্ধর্ষ বেগে বাঘের মত আক্রমণ করত যে লোকে নাম দিয়েছিল ‘হামলা বাঘা” বলে। এছাড়া ছিল লাঠি সড়কিতে
পারদর্শী রূপচাদ ঢালী, নিকারী ফকিরা। মাছের বিক্রেতা(নিকারী)ছিল বলে একে লোকে মাছকাটা ফকিরা বলে চিনত। এঁদের সাহায্যেই তিনি দস্যু আর ডাকাতের উপদ্রব বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জান-প্রাণ-মান রক্ষা করে যশোহর ,খুলনা,ভূষনা,নল্‌দীসমেত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন। পর্তুগিজ আর আরাকানি জলদস্যুদের ঠেকাবার জন্য রাতে জলপথে পাহারার জন্য জল সেনাবাহিনী গড়েছিলেন। এক গুপ্তচর বাহিনীও তৈরি করেছিলেন দস্যুতস্কর আর পরগনার নানা অঞ্চলের গোপন খবর সংগ্রহের জন্য।
দস্যুতস্করের উপদ্রবে যে পরগণা জনশূন্য হয়ে যাচ্ছিল তিনি এইভাবে সেখানকার শ্রী ফিরিয়ে আনলেন। বহু লোক এসে নল্‌দী পরগণায় নিরাপদে বাস করতে শুরু করল।
সীতারাম একটু একটু করে শক্তি বাড়াচ্ছিলেন, গোপনে নিজস্ব এক সেনাদল তৈরি করছিলেন ।এজন্য এক উপায় বার করেছিলেন। প্রজাদের ব্যবহারের জন্য নিজের এলাকায় তিনি অনেক জলাশয় ও দীঘি খনন করিয়েছিলেন। এই কাজের শ্রমিক সংগ্রহের অছিলায় তিনি সৈন্য সংগ্রহ শুরু করেন। প্রকাশ্যে সৈন্য সংগ্রহ করলে
নবাবের নজর পড়তে পারে,সেই আশঙ্কায় দীঘি খননের কাজে যে হাজার হাজার শ্রমজীবি মানুষদের নিয়োগ করতেন, রাতের বেলা তাদের সামরিক শিক্ষা দিতেন।একদলের শিক্ষা শেষ হলে তাদের কিছু টাকাপয়সা দিয়ে বিদায় করে নতুন শ্রমিক নিযুক্ত করতেন। আবার তাদের শিক্ষা চলত। এভাবে রাজ্যের প্রচুর খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ অস্ত্রবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিল। এরাই যুদ্ধের সময় তাঁর হয়ে যুদ্ধে যোগ দিত।
এইভাবে সীতারাম অরাজক অবস্থা থেকে নিজের জায়গীর ও আশেপাশের অঞ্চলকে মুক্ত করলেন। দেশের মানুষ শান্তি ফিরে পেল। তাঁর শাসনে রাজত্বের আয়ও খুব বেড়েছিল। আয় বাড়ার ফলে মোগল কোষাগারেও রাজস্ব বেড়েছিল। তাঁর কৃতিত্ত্বের খবর শায়েস্তা খাঁর কাছে পৌঁছেছিল। শায়েস্তা খাঁ তাঁর প্রতি প্রসন্ন ছিলেন। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছিলেন সীতারাম।
জায়গীরদার সীতারাম নলদীতে থাকলেও পিতা মাতার প্রতি কর্তব্যবোধ ছিল প্রখর। প্রতি সপ্তাহেই তাঁদের দেখতে যেতেন হরিহরপুরে। ১৬৮৪ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মাতাপিতা দুজনেরই দেহান্ত হয়। পিতৃশ্রাদ্ধে তিনি প্রচুর খরচ করে পূর্বপুরুষ রামদাস গজদানীর ঐতিহ্য বজায় রেখেছিলেন। সোনার হাতী দান না করলেও,এখনকার দিনের
হিসাবে প্রায় দুলক্ষ টাকারও বেশি খরচ করেছিলেন। শ্রাদ্ধের পর তিনি পিতৃপুরুষের পিন্ডদান করতে গয়ায় যান। ফেরার পথে মোগল দরবার ঘুরে আসার পরিকল্পনা নিয়েই গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন সেনাপতি মেনাহাতী আর মন্ত্রণাদাতা মুনিরাম। দেখা করলেন শায়েস্তা খাঁর সাথে। তাঁর কৃতিত্বে খুশি শায়েস্তা খাঁ সীতারামের ইচ্ছানুসারে,সম্রাটের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধির সনদ আনিয়ে দিলেন।আনুমানিক ১৬৮৮ খ্রিস্টাব্দের কথা।’রাজা’ উপাধি দেওয়ার সঙ্গে তাঁর অধীনস্থ সীমার এলাকাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।সুন্দরবন অঞ্চলের অধিকাংশ অঞ্চলই তাঁর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
দেশে ফিরে নিজেকে রাজসিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন,আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে নলদী,সাতৈর,এবং সমগ্র ভাটি অঞ্চলের অধীশ্বর বলে ঘোষণা করলেন।
রাজা হলেন, কিন্তু রাজধানী বা রাজপ্রাসাদ কিছুই ছিল না। মুঘল রাজস্ব দপ্তরের কার্যালয়ের কাছেই সূর্যকুন্ড গ্রামে অস্থায়ী আবাস স্থাপন করলেন।। সূর্যকুন্ড আর তাঁর পৈতৃক আবাস হরিহরপাড়া দু-জায়গাতেই সেনাদল রাখলেন। এরপর কাছেই মহম্মদপুরে দুর্গসহ এক রাজধানী স্থাপন করলেন। প্রাকৃতিক পরিখা দ্বারা বেষ্টিত
মহম্মদপুরের তিনদিকে ছিল প্রশস্ত আর গভীর বিল, পুবদিক দিয়ে বইত প্রবল বেগবতী নদী মধুমতী। বর্গাকার দুর্গের প্রাচীর ছিল এক এক দিকে প্রায় ৪০০ মিটার। নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে দুর্গের দক্ষিণ দিক বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত, এক মাইল দীর্ঘ আর ২০০ফুট প্রশস্ত গভীর গড়খাই কাটালেন। দুর্গের মধ্যে স্থায়ী দুর্গরক্ষী সেনাবাস, আর শাসন কার্যের প্রয়োজনীয় মানুষদের জন্য আবাস স্থাপন করলেন। পুকুর,দেবালয় স্থাপন করলেন। সেনাদলে সুদক্ষ সেনা ভর্তি করে চললেন,অনেক পাঠান যোদ্ধারাও যোগ দিচ্ছিল। গড়ে তুললেন একটি গোলন্দাজ বাহিনী। কামান তৈরির কারখানা স্থাপন করলেন দুর্গের ভিতরে। অনেক কামানের সঙ্গে তাঁর দুই বিখ্যাত কামান,’কালে খান’ আর ‘ঝুমঝুম খান’ এখানেই তৈরি করিয়েছিলেন।(১৬৩৭ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদাবাদের জাহানকোষা নির্মাণের প্রায় ৫০ বছর পরে)
শিল্পী, কারিগর আর ব্যবসায়ীদের মহম্মদপুরে এসে বাস করার আহ্বান জানালেন। ঢাকা থেকে কামারদের এনে দুর্গের পাশে বসতি করিয়েছিলেন। এছাড়া মালাকর (যারা গুলি বারুদ তৈরি করত), তাঁতী ও অন্যান্য শিল্পসামগ্রীর কারিগরদের এনে বসালেন রাজধানীতে। কিছুদিনের মধ্যেই মহম্মদপুর এক জনবহুল, বানিজ্যসমৃদ্ধ জমজমাট শহরে পরিণত হল। এইবার শুরু করলেন নিজের রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধি। তিনি আবাদি সনন্দ পেয়েছিলেন। ফলে নবাবের অধীনস্থ অন্য কোন বড় জমিদারের সঙ্গে বিবাদ না করে যতদূর পর্যন্ত খুশি খালি জমিতে রাজ্য বিস্তার করে প্রজা বসাতে পারতেন। কোন বাধা ছিল না । তেমনি প্রথম কয়েক বৎসর সেইসব নতুন আবাদী মহলের জন্য তাঁকে মোগল কোষাগারে রাজস্ব দিতে হত না। এই সুযোগে তিনি এলাকার উন্নতি করে নিজের সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু প্রজাশোষণ করে নয়।
তাঁর সময়ে বিদ্যাচর্চা আর শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হয়েছিল। তিনি মহম্মদপুরে অনেক চতুষ্পাঠী স্থাপন করিয়েছিলেন। দেশের মানুষের স্বাস্থের কথা চিন্তা করে সেখানে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও পড়ানো হত। তাঁর সভায় বহু পণ্ডিতের সমাগম হয়েছিল। জ্ঞানচর্চার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পন্ডিত ও অধ্যাপকেরা নিয়মিত বৃত্তি পেতেন, ছাত্রদের বিদ্যাদান করতেন। মুসলমান প্রজাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য অনেক মক্তব খুলেছিলেন। মৌলবীরা সেখানে পাঠ দিতেন। তাঁরাও বৃত্তি পেতেন। বাংলা ভাষা শিক্ষার জন্য যে পাঠশালা স্থাপন করিয়েছিলেন সেখানে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব বিদ্বান মানুষই শিক্ষকতা করতে পারতেন। উপযুক্ত মুসলমান ব্যক্তিকেও তিনি শাসন কার্যে নিয়োগ করতেন।
রাজ্যবিস্তারে নজর দিয়ে তিনি প্রথমেই দখল করলেন বারোভুঁইয়ার অন্যতম মুকুন্দরায়ের বংশধর কৃষ্ণপ্রসাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রদের জমিদারী। প্রজাদের অবস্থাও খুবই খারাপ ছিল। এই জমিদারীর অন্তর্গত রূপাপাট,রুকনুপুর,কচুবেড়িয়া, পোক্তানি নামে অঞ্চলগুলি ছিল রাজা সীতারামের জমিদারীর এলাকায়, ভূষণা চাকলার নলদী পরগনার একটি তরফ।
এরপর আক্রমণ করলেন মামুদশাহী পরগনা।এই পরগনার নলডাঙ্গার জমিদার বাধ্য হলেন জমিদারি তাঁর হাতে তুলে দিতে। উত্তর দিকের ছোট ছোট জমিদারিগুলো জয় করে নিয়ে রাজ্যসীমা উত্তর দিকে পদ্মানদী পর্যন্ত বাড়িয়ে পদ্মার ওপারে পাবনা জেলার খানিকটাও দখল করে নিলেন। এইসব ক্ষুদ্র জমিদারিগুলি ছিল পাঠান সুলতানদের দখলে।
দু’বছরের মধ্যেই পাঠান অধিকৃত সামন্ত অঞ্চলগুলি চলে এল রাজা সীতারামের অধিকারে। তিনি যখন রাজ্যাভিযানে মহম্মদপুরের বাইরে তখন মীর্জানগরের ফৌজদার নুরুল্লাখান আর চাঁচড়ার জমিদার একযোগে তাঁর রাজ্য আক্রমণ করেছিলেন ।কিন্তু সীতারামের সুদক্ষ দেওয়ান যদুনাথ মজুমদারের কৌশলী প্রতিরোধের কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন চাঁচড়ার জমিদার,সন্ধি করে পিছু হটলেন। প্রতিআক্রমণ করে রাজা সীতারাম চাঁচড়ার জমিদারি দখল করলেন।
এরপর, দক্ষিণে সুন্দরবনের দিকে রাজ্যের মধ্যে, বর্তমানের বাগেরহাট অঞ্চলে ১৭১০ খ্রিস্টাব্দে শুরু হল কৃষক বিদ্রোহ। কিছু স্বার্থান্বেসী জমিদারদের প্ররোচনায় তারা খাজনা দেওয়া বন্ধ করল। বিদ্রোহ দমন করার জন্য , ছোট ছোট ছিপ নৌকায় ছোট ছোট সেনাদল নিয়ে নিজে এগিয়ে চললেন মধুমতী নদী বেয়ে বাগেরহাটের দিকে। রামপাল নামক স্থানের যুদ্ধে বিদ্রোহীরা দমিত হল। এইসঙ্গে তিনি চুরুলিয়া আর মধুদিয়া পরগণা দখল করে নিলেন। নতুন রাজ্যসীমাকে ভাগ করলেন দুটি অঞ্চলে। দুটি প্রধান জেলা নিয়ে ভৈরব নদের উত্তরাংশে গঠিত হল
ধনজনবহুল সমৃদ্ধ শহুরেবসতি অঞ্চল। ভৈরব নদের দক্ষিণ অংশে রইল স্বল্প জনবহুল কৃষিনির্ভর গ্রামাঞ্চল। পদ্মানদীর উত্তরে পাবনা থেকে দক্ষিণে সুন্দরবন,আর পূর্বে তেলিহাটি থাকে পশ্চিমে মামুদশাহি পরগণা পর্যন্ত বিস্তৃত তাঁর রাজ্যের মধ্যে ছিল ৪৪টি পরগনা আর তাঁর সুশাসনে এলাকার বাৎসরিক রাজস্ব ছিল দশ লক্ষ টাকারও বেশি।
এইবার এই ক্ষমতাশালী রাজার দিকে নজর পড়লো নুতন মোগল শাসকদের। আজিম-উস-শান বাংলার সুবাদার হয়ে এসেই তাঁর আত্মীয় মীর আবু তোরাপকে ভূষণার ফৌজদার করলেন। তোরাপের প্রধান কাজ ছিল রাজা সীতারামের ওপর নজরদারি করা, তাঁকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা। তোরাপ লাগামছাড়া কাজ শুরু করলেন।
শান্তিপূর্ণ ভূষনাতে আতঙ্কের রাজত্ব কায়েম করলেন।
স্বাধীনচেতা প্রাজানুরঞ্জক রাজা সীতারাম এই অন্যায়ের কথা শুনে নিজে মুঘল কোষাগারে রাজস্ব দেওয়া বন্ধ করলেন। তোরাপ এই কাজের ভয়ঙ্কর পরিণামের কথা স্মরণ করিয়ে, রাজা সীতারামকে রাজস্ব জমা দেবার নির্দেশনামা পাঠালেন। তোরাপের বারংবার আক্রমণ প্রতিহত করছিল রাজার সেনাদল। বারাসিয়া নামে এক নদীর ধারের যুদ্ধে তোরাপ বাহিনী পরাজিত হল, সেনাপতির মেনাহাতীর হাতে নিহত হলেন তোরাপ। সীতারামের সেনা ভূষণায় তোরাপের দুর্গের দখল নিল। সীতারাম সেই দুর্গে থাকলেন। নিজের দুর্গের ভার রইল মেনাহাতীর ওপর।
এইবার সীতারাম বুঝলেন মুঘলের সঙ্গে সংঘর্ষ অনিবার্য। এই সুযোগে উঠতি রাজা সীতারামকে হারিয়ে মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলার অধিকার লাভ করার লোভে বাংলার তৎকালীন দেওয়ান মুর্শিদকুলি খাঁ বিশ্বাসী বক্স আলি খানকে পাঠালেন সীতারামের বিরুদ্ধে অভিযানে। সঙ্গে যোগ দিলেন অনেক সীতারাম বিরোধী জমিদারের দল। নাটোর এস্টেটের সহকারী দয়ারাম রায় যোগ দিলেন এঁদের সঙ্গে।
যুদ্ধে প্রথমে মুঘল বাহিনী পরাজিত হল সীতারামের বাহিনীর কাছে। দুর্গ দখল করতে না পারলেও ভূষণার দুর্গ অবরোধ করে রইল শত্রুবাহিনী। রাজা সীতারাম বুঝতে পারলেন যে দু’টি দুর্গ একসঙ্গে রক্ষা করা অসম্ভব।
মহম্মদপুর দুর্গ আক্রমণ করতে গিয়ে দয়ারাম বুঝতে পারলেন যে এই অভেদ্য দুর্গ দখল বাহুবলে সম্ভব নয়। তিনি বিশ্বাসঘাতকদের সাহায্য নিলেন। অন্তর্ঘাতের সাহায্যে তিনি দুর্গে প্রবেশ করে মেনাহাতীকে হত্যা করলেন। এই খবর পেয়ে সীতারাম গোপনে অবরুদ্ধ ভূষণা দুর্গ থেকে বেড়িয়ে ঘুরপথে চললেন মহম্মদপুর দুর্গের দিকে। বক্স আলিও ভূষণা ছেড়ে গোপনে সীতারামকে অনুসরণ করতে লাগলেন বাহিনী নিয়ে। মহম্মদপুর দুর্গে প্রবেশ করে রাজা সীতারাম দ্রুত দুর্গের ভিতরের বাসিন্দা অসামরিক মানুষদের দুর্গ থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে দিলেন। নিজের পরিবারকে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিলেন। বক্স আলি আর নাটোরের জমিদারের সহকারী দয়ারাম রায় দুজন দুদিক থেকে দুর্গ আক্রমণ করলেন। দীর্ঘদিন দুর্গরক্ষার পর রাজা সীতারামের পরাজয় হল। বিশ্বাসঘাতকদের সহায়তায় রাজা সীতারামকে বন্দি করলেন তাঁরা। শৃংখলিত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল মুর্শিদকুলি খাঁর কাছে মুর্শিদাবাদে। বিচারে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ হল। ১৭১৪ সালে হত্যা করা হল তাঁকে। গঙ্গাতীরে তাঁর শেষকৃত্য করার পর তাঁর আত্মীয়দের চিরকালের জন্য বন্দি করে রাখলেন মুর্শিদকুলি খাঁ।
মুঘল অধিকারের বাইরে স্বাধীন রাজার মত থাকতে চাওয়ার অপরাধে,আর মুঘল ফৌজদারদের অত্যাচারের প্রতিবাদ করার ফলে বাংলার এক দক্ষ প্রশাসক, প্রজাবৎসল বীর নায়ককে মূল্য চোকাতে হল প্রাণ দিয়ে।
বাংলার সুবাদার মানসিংহের আমলে, প্রতাপাদিত্য মুঘলের অধীনতাপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতা ঘোষণা
করেছিলেন। এর প্রায় একশো বছর পরে সীতারাম রায় নিজ ক্ষমতায় মোগলের কাছ থেকে রাজ্যলাভ করে, বিশাল এলাকায় নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করে স্বাধীন রাজার মত থাকতে শুরু করেন। সীতারামের উত্থান ও পতনের সময় বাংলার নবাব ছিলেন মুর্শিদকুলি খাঁ।
সীতারামের মৃত্যুর কিছুকাল পরে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতাসুর্য অস্তমিত হল প্রায় ২০০ বছরের জন্য। এরপর ধীরে ধীরে সারা ভারতই হয়ে গেল এক পরাধীন দেশ, ব্রিটিশ উপনিবেশ।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

আবুল কালাম আজাদঃ সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মুজতবা আলী পাঠাগার

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৪৮ বার

Share Button

Calendar

July 2020
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031