শিরোনামঃ-


» রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ওয়ার্কার্স পার্টির স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশিত: ২৪. আগস্ট. ২০২০ | সোমবার


বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও রাষ্ট্রায়ত্ব খাতে ঐ সব পাটকল রেখে তার আধুনিকায়ন ও পাটকে জাতীয় ঐতিহ্য হিসাবে ঘোষণা করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে ১৫ দফা প্রস্তাব সম্বলিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রদান করেছে। আজ ২০ আগষ্ট,২০২০ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা পিএস-১ এর নিকট স্মারকলিপির মুল কপি দেয়া হয় এবং একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস এর ই-মেইলে পাঠানো হয়। পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি ও সাধারণ কমরেড সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহ বন্ধ করার সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত কেবল পাট শিল্পের জন্যই নয়; সমগ্র পাটখাতের জন্যও আত্মঘাতি। স্মারকলিপিতে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল এভাবে বন্ধ করে দেয়ার ফলে বাংলাদেশে পাটজাত দ্রব্য যে আন্তর্জাতিক বাজার হারাবে তা আর সহজে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে পাটকলের জন্য যে অভিজ্ঞ শ্রমিক গড়ে উঠেছিল তারাও হারিয়ে যাবে, তাদের ফিরে পাওয়া যাবেনা বলে আশংকা ব্যাক্ত করা হয়। স্মারকলিপিতে এরশাদ শাসনামলে কিছু পাটকল ব্যক্তিমালিকানায় তুলে দেয়ার এবং বিশেষ করে খালেদা জিয়ার শাসনে পাটখাত সংস্কারের নামে পাট শিল্প বন্ধ করে দেয়ার বিশ্বব্যাংকের চক্রান্তের বিরোধীতা, ৯৬-২০০১ ও ২০০৮ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের আমলে বন্ধ পাটকলগুলো খুলে দেয়া ও সর্বোপরী পাটশিল্প ডাইভারসিফিকেশন তথা বহুমুখী করণের উদ্যোগ সম্পর্কে সেই সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ভুমিকা ও তাঁর সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাঙ্গে এ যাবত অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও আওয়ামী লীগ এগারদল, জাসদ, ন্যাপ তথা চৌদ্দদলের ঘোষিত অভিন্ন নুন্যতম ২৩ দফা কর্মসূচীর লংঘন বলে অভিহিত করা হয়। স্মারকলিপিতে (ক) রাষ্ট্রায়ত্ব খাতে পাটকল সমূহ রেখে তার সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য গত ২৬/১২/২০১৯ তারিখ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ সর্বসম্মতভাবে সরকাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিল তা বিবেচনা করে সেমত ব্যবস্থা গ্রহণ;(খ) বিজেএমসিকে বিলোপ ও মিল সমুহকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ইউনিট করা ও লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে পরিচালনার ব্যবস্থা করা;(গ) প্রধানমন্ত্রী অনুমোদিত ‘ডাইভারসিভাইড জুট প্রডাক্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়িত করা; (ঘ) সরকারী ও বেসরকারি পাটকল উভয়ের পাটজাত পণ্য রপ্তানীতে বিশেষ প্রণোদনা;(ঙ) পাটচাষের এলাকা বৃদ্ধি, উন্নতমানের পাটচাষের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ;(চ) পাটকলগুলো আধুনিকায়নের সময়কালে অবস্থিত শ্রমিকদের লে-অফ সুবিধা প্রদান করা। স্মারকলিপিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের প্রতি এযাবকালের প্রতিশ্রুত অবস্থান অনুযায়ী রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের বন্ধকৃত পাটকলগুলো উপরোক্ত সামগ্রিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে খুলে দিয়ে আধুনিকায়ন পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার সংরক্ষণ ও বিস্তৃতকরণ পাট শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানানো হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৩ বার

Share Button