» রোহিঙ্গাদেরই হাতিয়ার করছে পাকিস্তান

প্রকাশিত: ১২. সেপ্টেম্বর. ২০২০ | শনিবার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে রোহিঙ্গাদেরই হাতিয়ার করছে পাকিস্তান।রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মাদকপাচারের পাশাপাশি জঙ্গি কার্যকলাপেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।ফলে নতুন করে সন্ত্রাসীকার্যকলাপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশে।পাক-গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে জেএমবি বা জামাত-উল-মুজাহিদিন রোহিঙ্গাদের জঙ্গি প্রশিক্ষণে মদত দিচ্ছে।পাক-মদতপুষ্ট জেএমবির কারণেই বাংলাদেশেও আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি বা আরসা-র বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যায়।সবমিলিয়ে বাড়ছে জঙ্গি ততপরতা।জার্মানির সংবাদসংস্থা ডব্লিউ-র প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয় রোহিঙ্গাদের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জেএমবি-র যোগসাজসের বিষয়টি। পাশাপাশি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ৯৯জন হিন্দুমহিলা, পুরুষ এবংশিশুদের গণহত্যা করে আরসা। ২০১৭ সালে আগস্ট মাসেও হিন্দু গ্রামবাসীদের ওপর আরসার হামলার ফলে হিন্দু এবং অন্যান্য জাতিগত সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারে।
ডিডব্লিউ সাফ জানিয়েছিল, কক্সবাজার এলাকায় শুধু মাদক চোরাকারবার বা অন্যান্য অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই রোহিঙ্গারা।বিদেশি মদতে তারা এখন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরেই জঙ্গিপ্রশিক্ষণ শিবিরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় তাঁদের প্রতিবেদনে।জানুয়ারি মাসেই জনাচল্লিশেক রোহিঙ্গাকে শরণার্থী শিবিরের মধ্যেই জঙ্গিপ্রশিক্ষণ দেয় জেএমবি।২০১৬ সালে হোলিআর্টিজেন কফিশপে আত্মঘাতী হামলার মধ্যে দিয়ে জেএমবি গোটা দুনিয়ার নজরে আসে।জার্মান সংবাদ সংস্থার খবর, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালেশিয়া থেকে ১১৭ হাজার ডলার অনুদান পেয়েছিল জেএমবি।সেইঅর্থেই ৪০জন রোহিঙ্গাকে জঙ্গিপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।আর পুরোটাই হয় পাক-গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের নজরদারিতে।পুরো বিষয়টি নজরে আসতেই ভারতের তরফে বাংলাদেশকে সতর্ক ও করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রুসেলসে সাউথএশিয়ান ডেমোক্রাটিক ফোরামের বিশ্লেষক এসওওল্ফ জঙ্গিপ্রশিক্ষণে আইএসআইয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওল্ফের মতে, আইএসআইয়ের লক্ষ্যই হলো আফগানিস্তান আর ভারতকে অস্থির করে তোলা।আর তাঁরা সেই কাজের জন্য এখন বাংলাদেশের মাটিতে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে। কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো পাকিস্তানের পক্ষেএখন আর সহজ হচ্ছেনা।তাই বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করে ভারতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে চায়পাকিস্তান।আর সেইলক্ষ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছেন রোহিঙ্গারা।বিঘ্নিত হচ্ছে বাংলাদশের শান্তি।পাকিস্তান মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে চাইছে।তাই মুসলিম ধর্মীয় আবেগকেও লাগানো হচ্ছে নাশকতার কাজে। তাইরোহিঙ্গাশরণার্থীশিবিরহয়েউঠছেজঙ্গিকার্যকলাপেরআঁতুরঘর।
প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রশিদ ডিডব্লিউ-র কাছে স্বীকার করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সন্ত্রাসের বীজ বপনের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছে।তবে অতীতে বাংলাদেশ এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সক্ষমও হয়েছে। সন্ত্রাস দমনে ভারতও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করছে।সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।কিন্তু এখনও রাজাকার বা পাকিস্তানপন্থীারা নির্মূলহয়নি।বাংলাদেশের উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয় তাঁরাও নাশকতাকে মদত দিয়ে চলেছে।আবদুর রশিদও স্বীকার করেন পাকিস্তান ভারতকে অস্থির করার চক্রান্ত করে চলেছে।তবে এই কাজে বাংলাদেশ কখনও পাকিস্তানকে সাহায্য করবেনা।বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ারআলমও জার্মান সংস্থাকে বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের শিবিরে সন্ত্রাস ছড়ানোর কৌশল অতীতেও বাংলাদেশ সরকার বন্ধ করতে সক্ষমহ য়েছিল।সেইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বারবার উল্লেখ করেছেন তিনি।
তবু আর্ষার কার্যকলাপ বেড়ে চলেছে।বার্মিজ সেনাকর্তারা এটা বারবার বলছেন।বাংলাদেশি নিরাপত্তারক্ষীদের কারণে দিনের বেলায় তাঁদের কার্যকলাপ সীমিত থাকলেো রাত নামতেই শুরু হয় কার্যকলাপ।সম্প্রতি  রোহিঙ্গাদের মধ্যে গুলির  লড়াই তারই প্রমাণ। আর্ষার কার্যকলাপ বেড়েই চলেছে। বার্মিজ সেনামুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জৌমিন টুন জানিয়েছেন, এপ্রিল মাস থেকেই আর্ষার সামরিক কার্যকলাপ আরও বেড়ে গিয়েছে। মে মাসে আর্ষার হামলায় মিয়ানমারের সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারাও জখম হন।সীমান্তবর্তী গ্রামে জুন মাসে আধঘণ্টার ওপরগুলির লড়াইও প্রমাণ করে আর্ষার কার্যকলাপ বৃদ্ধির।মিয়ানমারের গোয়েন্দারাও জানতে পেরেছেন কক্সবাজারে আর্ষা বেশ সক্রিয়। আর্ষার কারণেই মাদকচোরাকারবার বেড়ে গিয়েছে কক্সবাজারে।চলছে নানা ধরনের কূকর্ম।পরিস্থিতির ফায়দা নিতে ময়দানে অবতীর্ণ পাকিস্তান।রোহিঙ্গাদের শিবিরকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আঁতুরঘর করে তুলছে।এইকাজে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের দূতাবাসের কর্মীও আধিকারিকদের ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায়।
রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইসলামিক টেররিস্ট গ্রুপের সম্পর্কের কথা বিবিসি-ও তাঁদের প্রতিবেদনে বারবার তুলে ধরেছে।পাকিস্তান পরিস্থিতির সুবিধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করছে।তাদেরএই কাজে সুবিধা করে দিচ্ছে বাংলাদেশের মৌলবাদিরা।বেশকয়েকটি মাদ্রাসাকে ও নতুন করে জড়িত করা হয়েছে অশান্তি সৃষ্টির জন্য।আইএসআই-কে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান বাংলাদেশকে নতুন করে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।রোহিঙ্গাদের শিবিরে জঙ্গি কার্যকলাপ অবশ্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের পক্ষে।পাকিস্তানের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে আসছে প্রচুর টাকা।বেআইনি পথে সেইটাকা রোহিঙ্গাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পৌঁছে যাচ্ছে আইএস জঙ্গিদের বাংলাদেশি মদতদাতা নব্য জেএমবির কাছেও।ফলে বাংলাদেশে নব্য জেএমবির সক্রিয়তাও বেড়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সম্প্র্রতি নব্য জেএমবির ‘এফ জেড ফোর্স’ নামে যে স্লিপার সেলের সন্ধান পেয়েছ।মারাত্মক বিষয়হচ্ছে, এই গ্রুপের প্রায় সব সদস্যেরই বয়স কম।স্কুলে পাঠরত কিশোরদের অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গি কার্যকলাপে সামিল করা হচ্ছে।সম্প্রতি ‘এফ জেড ফোর্সের’ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য উঠে এসেছে।কিশোরদের জঙ্গিকার্যকলাপে যুক্ত করার তেমন একটা অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ছিলোনা। ২০১৬ সালে নব্য জেএমবির অন্যতম সমন্বয় ক তানভীর কাদেরী তার কিশোর দুইছেলেকে ও জঙ্গিবাদে জড়িয়েছিল। এক ছেলে পুলিশি অভিযানে মারা গেলেও অপর জনকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হন নিরাপত্তা রক্ষীরা। সেই ঘটনার চার বছর পর ফের কিশোরদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর ঘটনা সামনে এলো। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, নব্য জেএমবির কথিত ‘এফজেডফোর্স’ স্লিপার সেলের সবার বয়সই কম।
পুলিশ জানতে পেরেছে অনলাইনে যুদ্ধ যুদ্ধ ফাঁদ পেতে কিশোরদের আকৃষ্ট করা হয়।বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয় শিশুদের মগজধোলাইয়ের জন্য।খেলার ছলে তাঁদের উত্তেজিত করে বিভিন্ন ধর্মীয় পোস্ট প্রচার করে তাঁদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে উগ্রবাদে।অনলাইনের ফ্যান্টাসি তাদের টেনে নিয়ে যায় অন্ধকার জগতে।পাকিস্তানিদের মদতে একটা বড় ধরনের চক্র কাজ করছে কিশোরমনকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য।নানা ছদ্মনামে দেশ-বিদেশ থেকে অনলাইনে দিনের পর দিন ধরে চলছে কিশোরদের মধ্যে সন্ত্রাসবাদের বিষ ঢুকিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত। ১৬ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট থেকে গ্রেপ্তার হয় সদ্য কৈশোর পার হওয়া দুই যুবক।সাফ ফাতইসলাম ওরফে আবদুল্লাহ ওরফে উইলিয়াম ওরফে আল আরসালান ওর ফেমেহেমেদ চাগ রিবেগ (১৮) ও ইয়াসির আরাফাত ওরফে শান্ত (২০)।সাফফাত ও ইয়াসিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করো তদন্তকারীরা জানতে পারেন দু’জনই অনলাইনের মাধ্যমেই জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে।
সিলেটে সম্প্রতি ৫ নব্য জেএমবি গ্রেপ্তারের ঘটনাও প্রমাণ করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের নামে শিক্ষার্থীদের মনে সন্ত্রাসবাদের সর্বনাশা নেশা ঢুকিয়ে দেওয়ার পাঠ চলছে।ছাত্রশিবিরের রাজনীতি উঠতি বয়সী ছেলেদের মনকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সম্প্রতি পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সিলেট থেকে গ্রেফতার জেএমবি সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান দোষস্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে।সেইস্বপ্ন নিয়েই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় সে।কিন্তু স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে ছাত্রশিবিরের রাজনীতি। শিবির নেতারা তাঁর মগজধোলাই করে জঙ্গিদলে নামতে প্ররোচিত করে।২২জুলাইঢাকায়নাসিমুলইশানচৌধুরীওরফেনাসিমইশানগ্রেপ্তারহয়। বছরপঁচিশেকএইযুবকেরবাড়িবরিশালে।সেওনব্যজেএমবিরসক্রিয়সদস্য।বাংলাদেশেপ্রায়প্রতিদিনইনব্যজেএমবিরসদস্যরাগ্রেপ্তারহচ্ছেন।তবুকমছেনাসন্ত্রাসীকার্যকলাপ।কারণবিদেশথেকেনিয়ন্ত্রিতহচ্ছেনতুনসদস্যদেররিক্রুটমেন্ট।
গ্রামেরগরীবমানুষদেরবদলেশহরেরকিশোরমনকেইবেশিআকৃষ্টকরারচেষ্টাচলছে।কিন্তুনব্যজেএমবিরবিকাশেবড়বাধাহয়েদাঁড়িয়েছেবাংলাদেশিনিরাপত্তাবাহিনীরদক্ষতা।সরকারওজিরোটলারেন্সেরনীতিঅটল।এইঅবস্থায়পাকিস্তানিমদতেবাংলাদেশকেঅস্থিরকরেতুলতেরোহিঙ্গাশরণার্থীদেরকাজেলাগানোহচ্ছে।নব্যজেএমবি-রঅসলামিকরাষ্ট্রবানানোরস্বপ্নফেড়িকরতেবাংলাদেশেরকিশোরওতরুণপ্রজন্মকেধংশেরদিকেঠেলেদিচ্ছে।লকডাউনেরসুবিধানিয়েইন্টারনেটেরমাধ্যমেবিদেশথেকে মদত দেওয়া হচ্ছে আইএস জঙ্গিদের দেশীয় এজেন্টদের।পাশাপাশিরাতেরঅন্ধকারেরোহিঙ্গাশিবিরেচলছেঅস্ত্রপ্রশিক্ষণ।ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশকেও অস্থির করেতোলার এই চক্রান্তে চীন বা অন্যান্য দেশ নিরবদর্শক।বরং রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে জঙ্গি প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত অস্ত্রের বেশিরভাগই মেড-ইন-চীন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৬ বার

Share Button

Calendar

September 2020
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930