» রোহিঙ্গারা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়লে এর দায়ভার এনজিওগুলোকেও’ নিতে হবে ঃপ্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২৬. এপ্রিল. ২০১৯ | শুক্রবার

কক্সাবাজারে রোহিঙ্গারা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়লে এর দায়ভার ‘ভাসানচরবিরোধী এনজিওগুলোকেও’ নিতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি মনে করেন,এনজিওগুলো ‘নিজেদের সুবিধার’ কথা চিন্তা করে শরণার্থীদের কক্সবাজার থেকে স্থানান্তর নিয়ে আপত্তি তুলছে ।
ব্রুনেই দারুসসালাম সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে শুক্রবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ।এ সময় দু জন সাংবাদিক রোহিঙ্গা সঙ্কটের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক রোহিঙ্গাদের লালন-পালনের ব্যাপারে যতটা আন্তরিক থাকে, ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে অতটা আন্তরিক হয় না। কক্সবাজারের মত একটা চমৎকার জায়গায় আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া, তাদের জন্য ভলান্টিয়ার কাজ করে কিছু সুনাম অর্জন করা- এদিকটাও আছে।

কক্সবাজারে বর্ষা মওসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা তাদের ভাসানচর কিংবা মিয়ানমারে স্থানান্তরের বিরোধিতা করছে, কক্সবাজারের শিবিরে দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার তাদের কাঁধেও যাবে।

সামনে বর্ষাকাল, যে কোনো সময় পাহাড় ধস হয়, সাইক্লোন হতে পারে, জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায় এসব অর্গানাইজেশনকেও নিতে হবে। জাতিসংঘকেও সেটা আমি জানিয়েছি।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ও তার বাইরে অবস্থান নিয়ে থাকা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে নানা সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাদের একটি অংশকে হাতিয়ার কাছে মেঘনা মোহনার বিরান দ্বীপ ভাসান চরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১০ হাজার একর আয়তনের ওই চরে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সরকার বলছে, রোহিঙ্গাদের বসবাসের জন্য সব ব্যবস্থাই ভাসান চড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে গেলে কক্সবাজারের ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প জীবনের চেয়ে ভালো থাকবে তারা।

তবে সাগরের ভেতরে জনমানবহীন ওই চরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর সম্প্রতি ওই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও তারা বলেছে, স্থানান্তরের বিষয়টি অবশ্যই রোহিঙ্গাদের সম্মতির ভিত্তিতে হতে হবে।

একজন সাংবাদিক এ বিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “এখানে একটা মানবিক দিক রয়েছে। আমরা তো আর এদেরকে চাপ দিতে পারি না। জাতিসংঘের যেসব সংস্থাগুলি রিফিউজি ও মাইগ্রেশন নিয়ে কাজ করে, এমন সংস্থাগুলোকে আমরা বলেছি। পাশাপাশি ভাসান চরে আমরা যে উন্নয়ন করেছি তার ছাবিও আমরা তাদেরকে দেখিয়ে বলেছি যে এখানে তারা যেতে পারে।

আমি খোলামেলা বলতে চাই, কক্সবাজার যাওয়া খুব সহজ । থাকার জায়গা খুব সুন্দর। তারা মানবিক কারণে যে সেবা দিতে আসে তারা মনে হয় নিজেদের সেবাটার দিকে একটু বেশি করে তাকান। এখানেই তাদের আপত্তি, আর কোনো কারণ দেখি না।

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের থাকার সব ব্যবস্থাই করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরগুলো অনেক সুন্দর করে তৈরি করা। এরা কিছু জীবন জীবিকারও সুযোগ পাবে। ওখানে সাইক্লোন শেল্টার করে দেওয়া হয়েছে। ১০ লাখ লোক সুন্দরভাবে রাখা যাবে। সেখানে স্কুল হবে, হাসপাতাল হবে। সুপেয় পানি, সেনিটেশনের ব্যবস্থা…

ওরা যদি যেতে না চায় তাহলে আমাদের দেশে লোকের অভাব নাই। আমাদের লোকদের সুন্দর থাকার ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এদেরকে ওখানে পাঠানো গেলে এরা অন্তত মানুষের মত জীবন যাপন করতে পারবে।

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা কেউ ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আটকে রয়েছে।

সে প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যখন অমানবিক অত্যাচারের সময় আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। সাথে সাথে মিয়ানমারের সঙ্গেও আমাদের আলোচনা হয়েছে যে তারা এদেরকে ফেরত নেবে। তারা তালিকাটা অনুমোদন করল। যে মুহূর্তে রোহিঙ্গা যাওয়ার কথা সেই মুহূর্তে এখানেই প্রতিবাদ শুরু করলে যে তারা যাবে না। কিন্তু তখন যদি আমরা পাঠাতে পারতাম তাহলে সেটা অব্যাহত থাকত।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলে আসছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর আগে মিয়ানমানে তাদের নিরাপদে ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

এ বিষয়ে মিয়ানমারকে চাপ দিতে কূটনৈতিক চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান, চীন, রাশিয়া, ভারত এদের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। তারা হয়ত ওদের (মিয়ানমার) বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে না । কিন্তু আমাদের সঙ্গে আলোচনায় তারাও রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক মত হন ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৯ বার

Share Button

Calendar

August 2019
S M T W T F S
« Jul    
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031