» মৌলভীবাজারে লকডাউন উপেক্ষা করে বাড়ছে মানুষের স্রোত !

প্রকাশিত: ২১. এপ্রিল. ২০২০ | মঙ্গলবার

মো. আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার: দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মরণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির বৈঠক শেষে মৌলভীবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন।

লকডাউন ঘোষনার পরপরই ফাঁকা হয়ে যায় মৌলভীবাজার শহর এবং শহরের সংযোগস্থলের প্রধান প্রধান সড়কসহ আশপাশের জনবহুল এলাকা। লকডাউন চলাকালে প্রথম ৩-৪দিন স্বাভাবিক থাকলেও ধীরে ধীরে লকডাউন অমান্য করে শহরমূখী মানুষের আনাগুনা বাড়তে শুরু করে। এমন অবস্থায় সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও সামাজিত দূরত্ব নিশ্চিতে প্রতিদিন শহরে র‌্যাব,পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করে মানুষকে ঘরে ফেরাতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রাখেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,শহরের পশ্চিমবাজার ও কুদরত উল্লাহ সড়কে অন্যান্য দিনের চেয়ে অসাভাবিক ভাবে লকডাউন কিংবা সামাজিক দূরত্ব অমান্য করে বাজারমূখী সাধারণ মানুষের স্রোত বাড়ছেই।

এমন পরিস্থিতিতে শহরের এই দুটি সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় ও রমজান উপলক্ষে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় না করে সীমিত আকারে পণ্য ক্রয় করার জন্য সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস হ্যান্ড মাইকে ব্যাপক প্রচারণা চালান। প্রচরণায় র‌্যাব-৯ এর এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম এর নেতৃত্বে র‌্যাব-৯ ও সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আহসান আহমেদ এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীসহ যৌথ প্রচারণা চালান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব ফজলুর রহমান ও কাউন্সিলর আয়াছ আহমেদসহ গণমাধ্যমকর্মীরাও।

প্রচারণাকালে শহরের কুদরত উল্লাহ সড়কে আইন অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় নুর সেনেটারীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস।

ঘন্টাব্যাপী প্রচারণা শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, এই করোনার কারনে বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ব্যবস্থা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে আমরা আশঙ্কা করছি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি এবং দ্রব্যের সঙ্কট দেখা দিতে পারে। এই সময়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বাজারের প্রত্যেক ক্রেতা এবং বিক্রেতাগণকে অনুরোধ করছি আপনারা যেন আপনাদের পকেটে টাকা থাকলেই পুরো মাসের বাজার না করেন মানবিক এবং ধর্মীয় মূল্যেবোধের কারনে। একই সাথে আমরা এটাও বুঝাতে চেষ্টা করেছি যে দেখেন আমাদেরও পরিবার আছে,ভাইবোন আছে, আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করুন।

তিনি বলেন,আমাদের ডাক্তার আক্রান্ত হচ্ছে,ম্যাজিস্ট্রেট আক্রান্ত হচ্ছে ,আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছে,আমরা বাড়ি ফিরে গিয়ে কোলের বাচ্চাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে পারিনা,সারাদিন পরিশ্রম করে বাসায় গিয়ে শান্তিতে ঘুমাতে পারিনা। এজিনিসটা আমরা মাইকের মাধ্যমে প্রচার করে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতা যারা আছেন তাদের মধ্যে একটা সচেতনতা এবং তাদের বিবেক বোধকে কাজে লাগানোর জন্য একটা চিন্তার খোরাক সৃষ্টি করে দিয়েছি। আমরা এই দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য খুব কষ্ট করছি।

বাজারে কয়েকদফা চাল আদাসহ অনেক নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন চন্দ্র দাস বলেন, প্রতি রমজানেই এরকম বাড়ার একটা টেনডেন্সি দেখা যায়, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের এ্যকশনের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করে এটা রোধ করা চেষ্টা করছি। কিছুটা সঙ্গত কারনে চালের দাম বাড়ছে তার পরেও কয়েকদিন পূর্বে দু’টো চালের দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। অধিক মুনাফা কিংবা কৃত্বিম সঙ্কট সৃষ্টি করে কেউ যেন চালের দাম না বাড়াতে পারে সেব্যাপারে আমরা কাজ করছি এবং সবকিছুই আমাদের নজরদারির মধ্যে আছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০১ বার

Share Button