» লিডসে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে হেরে গেছে আফগানিস্তান

প্রকাশিত: ৩০. জুন. ২০১৯ | রবিবার

লিডসে রুদ্ধশ্বাস এক লড়াইয়ের পর সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের কাছে ৩ উইকেটে হেরে গেছে আফগানিস্তান। সরফরাজ আহমেদের দল ম্যাচটি জিতেছে মাত্র ২ বল হাতে রেখে।

২২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই ফাখর জামানকে (০) হারায় পাকিস্তান। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটিতে সে ধাক্কা সামলে নেন ইমাম উল হক আর বাবর আজম। ১৬তম ওভারের শেষ বলে ৩৬ রান করা ইমামকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নবী। নিজের পরের ওভারে এসে বাবরকেও (৪৫) বোল্ড করেন আফগান এই অফস্পিনার।

তারপরও একটা সময় ৩ উইকেটেই ১২১ রান তুলে ফেলেছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে ৩৫ রানের ভেতর আরও ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদ ডেকে আনে সরফরাজের দল। সপ্তম উইকেটে শাদাব খান আর ইমাদ ওয়াসিম ৫০ রানের জুটিতে আবারও দলকে লড়াইয়ে ফেরান।

এই জুটিটা ভাঙে শাদাবের (১১) দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে। তবে ইমাদ ওয়াসিম একটা প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন। শেষ দুই ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৬ রান। রশিদ খানের ওভারের প্রথম বলটি মিস করলেও পরের বলেই বড় এক ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন ওয়াহাব রিয়াজ। ওই ওভারে ১০ রান নেয় পাকিস্তান।

শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৬ রান। আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব বেশ টাইট বোলিংই করছিলেন। প্রথম তিন বলে একটি ওভার থ্রো হওয়ার পরও ৪ রানের বেশি আসেনি। কিন্তু চতুর্থ বলে ঠিকই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দেন সেট ব্যাটসম্যান ইমাদ ওয়াসিম। উল্লাসে মেতে উঠে পাকিস্তান শিবির।

৫৪ বলে ৫ বাউন্ডারিতে শেষ পর্যন্ত ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন ইমাদ ওয়াসিম। ৯ বলে ১৫ রান নিয়ে তার সঙ্গে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছেড়েছেন ওয়াহাব রিয়াজ। আফগানিস্তানের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মুজিব উর রহমান আর মোহাম্মদ নবী।

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেটে ২২৭ রানেই থেমে যায় আফগানিস্তানের ইনিংস। পাকিস্তান বোলারদের তোপে একসময় ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া আফগানরা এই সংগ্রহ পায় আসগর আফগান ও নাজিবুল্লাহ জাদরানের ব্যাটিং দৃঢ়তায়।

আগে ব্যাট করতে নামা আফগানিস্তান তাদের ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। ইনিংসের ৪র্থ ওভারে পরপর দুই বলে দুই উইকেট হারায় তারা। উইকেট দুটি নেন পেসার শাহিন আফ্রিদি। বাঁহাতি এই পেসার প্রথমে ফেরান গুলবাদিন নাইবকে। পরের বলেই হাশমতউল্লাহ শহিদিকেও সাজঘরে ফেরান তিনি।

আফ্রিদির করা প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে ১৫ রান করা গুলবাদিন ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে থাকা সরফরাজ আহমেদের গ্লাভসে। যদিও আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। তবে পাকিস্তান রিভিউ নিলে দেখা যায় বল ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে প্রবেশ করে সরফরাজের গ্লাভসে। আম্পায়ার তাই সিদ্ধান্ত বদল করে নাইবকে আউট দিতে বাধ্য হন।

এরপরের বলেই হাস্যকর এক শট খেলে নিজের মৃত্যু ডেকে আনেন শহিদি (০)। অহেতুক শট খেলতে গেলে বল এডজ হয়ে সোজা চলে যায় মিড-অফে। সোজা ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি সেখানে থাকা ইমাদ ওয়াসিম।

তৃতীয় উইকেটে রহমত শাহ ও ইকরাম আলি খিল প্রতিরোধের আভাস দিলেও ইমাদ ওয়াসিম এসে ভেঙে দেয় আফগানদের সেই পরিকল্পনা। ৩৫ রান করা ওপেনার রহমত শাহকে তিনি বানান বাবর আজমের তালুবন্দী। চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ আসগর আফগান ও ইকরাম আলি খিল মিলে দলীয় স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৪ রান।

ফিফটির পথে থাকা আসগরকে ৪২ রানে ফিরিয়ে দিয়ে ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া এই জুটি ভাঙে শাদাব খান। দারুণ এক ডেলিভারিতে সাবেক আফগান অধিনায়ককে বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন তিনি। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের বিদায় হতে না হতে বিদায় নেন ইকরাম আলিও (২৪ রান)। তার উইকেটটি তুলে নেন ইমাদ, বানান লং-অনে থাকা মোহাম্মদ হাফিজের ক্যাচ।

আফ্রিদি-রিয়াজ-ইমাদ ওয়াসিমদের বোলিংয়ে তখন ২০০ রানই আফগানদের জন্য অনেক বড় সংগ্রহ বলে হচ্ছিল। তবে আসগরের পর আফগানদের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে যান নাজিবুল্লাহ জাদরান। বাকিরা একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও, তিনি খেলেন দায়িত্বশীল এক ইনিংস। আসগরের মতো তিনিও ফিফটি না করার আক্ষেপ নিয়ে আউট হন। ফেরেন সমান ৪২ রান করে। তবে এই ইনিংসেই ২০০ পার করার মতো শক্তি পেয়ে যায় আফগানিস্তান।

নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২২৭ রান তোলে দলটি। পাকিস্তানের হয়ে সেরা বোলিং পেসার শাহিন আফ্রিদির। ৪৭ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। এ ছাড়াও ইমাদ ওয়াসিম ও ওয়াহাব রিয়াজ পান ২টি করে উইকেট।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৫৫ বার

Share Button

Calendar

November 2019
S M T W T F S
« Oct    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930