শিরোনামঃ-


» লুইস এলিজাবেথ গ্লুক নোবেল বিজয়ী ষোলতম নারী

প্রকাশিত: ১২. অক্টোবর. ২০২০ | সোমবার

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী
১৯০১ সালে নোবেল পুরষ্কার ঘোষিত হবার পরে ষোলতম নারী হিসেবে এই পুরষ্কার ঘরে তুলেছেন লুইস এলিজাবেথ গ্লুক। আমেরিকান এই কবি জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিউ ইয়র্ক শহরে ১৯৪৩ সালে। ২০২০ সালে সাহিত্যের নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন মার্কিন এই কবি। জীবন তার সহজ-সরল পথে এগোয়নি। পেয়েছেন পুলিতজার প্রাইজও। আরোও অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন। সকালে কফির কাপে যখন চুমুক পরছে তখন টেলিফোনে জানলেন তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।
লুইস গ্লুকের মা ছিলেন একজন রাশিয়ান ইহুদি। তার বাবা লেখক হতে চেয়েছিলেন। হননি সেটা। সংসার জীবন সুখের ছিলো না। তাই সংসার টেকেনি লুইস গ্লুকের। ছোটবেলায় মানসিক চাপে কৈশোরকাল কেটেছে তার। ভুগেছেন মানসিক সমস্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছেন কিছুদিন তবে গ্রাজুয়েশন সার্টিফিকেট লাভ করেননি। আত্মজীবনী মুলক কবিতা লিখেন লুইস গ্লুক। প্রকৃতির মাঝে মানুষের সংগ্রাম চিরায়ত। লুইস গ্লুক ১৯৭২ সালে লিখেছেন প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফার্স্টবর্ন’। তারপর একে একে বারো খন্ডের কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন।
সুইডিস কবি ট্রমাস ট্রান্সট্রুমার ২০১১ সালে পেয়েছিলেন সাহিত্যের নোবেল পুরষ্কার। অনেক বছর পর আরেকজন কবির ঘরে সাহিত্যের নোবেল পুরষ্কারটি ঢুকলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় শৈশবকাল কেটেছে লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের। জার্মানির নোবেল বিজয়ী গুন্টার গ্রাস বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধবন্দি হয়েছিলেন। কিশোর ছিলেন তিনি। বাড়ির পাশে চকলেট কারখানাটি চোখের সামনে পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য ভুলবেন কি করে এক কিশোর। আমেরিকানরা বোমা দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছিলো চকলেট ফেক্টরিটি। এক কিশোর দাড়িয়ে তা দেখছে। ছেলেবেলায় সেই ছেলেটি ঐ ফেক্টরির গেটে দাড়াতো চকলেট এর জন্য। গুন্টার গ্রাস তা লিখলেন তার বিখ্যাত উপন্যাস পিলিং দ্যা অনিয়নে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বুকে নিয়ে গ্রাস, ট্রান্সট্রুমার, গ্লুক সকলেই এগিয়েছেন স্ব-স্ব জীবনে। তার প্রভাব পরেছে তাদের জীবনে ও সাহিত্য কর্মে। জার্মানির আরেক সাহিত্যিক হার্তা মোয়েলার, নোবেল পেয়েছিলেন কয়েক বছর আগে। তার পিতার কথা তিনি এভাবেই লিখেছিলেন যে জার্মান সৈনিক পিতা অদূরে এক ভুট্টা ক্ষেতে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করছেন, আর হার্তা মোয়েলার তার পিতাকে দেখছেন। দেখেছিলেন বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা। কি বিভৎস যুদ্ধ হতে পারে মানুষে মানুষে।
এই শতাব্দীর ইতিহাসে সন্ত্রাসবাদ গোটা পৃথিবীকে যেভাবে আতঙ্কিত করেছে সেটা মানব সভ্যতায় যুক্ত করেছে এক নতুন মাত্রা। বিগত শতাব্দীতে দশক পেরোতে না পেরোতেই শুরু হয়েছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯০৮ সালে ইংল্যান্ডের সিংহাসন হারালেন অষ্টম এডওয়ার্ড। শতাব্দীর শুরু থেকেই স্থিতিশীল ছিল না পৃথিবীর জলসীমা আর স্হলভূমি। পঞ্চাশের দশকে পূজিবাদী সমাজের উত্থান দেখা গেলো। যুদ্ধ পরবর্তী সংস্কার সেই শ্রেনীকে অনেক সুযোগ করে দিলো। ঠিক এই পূজিবাদী সমাজের উত্থান পর্বে কৈশোরকাল কাটে লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের। নিউ ইয়র্ক শহর তিনি বেড়ে উঠেছেন। যে সমাজে এলভিস প্রিসলি, মাইকেল জ্যাকসন, বিজিত বাত্রো, ম্যানরিল মোনরোরা বিচরণ করছেন এসময়। এজন্যই হয়তো আত্মজীবনীমুলক ভাবনা আর মিথ মিলেমিশে যায় লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের ভাবনায়। অভিনন্দন লুইস এলিজাবেথ গ্লুক কে। বিশ্ব মহামারীটিও তার জীবনে যুক্ত হলো। মহামারীতে মানুষের দুঃখ ও নিজ জীবনের সফলতা লুইস এলিজাবেথ গ্লুকের জীবন ক্যানভাসে এঁকে দিয়েছে এক অনন্য চিত্র।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২১ বার

Share Button