শিরোনামঃ-


» লুইস গ্লিক পেলেন এবারের নোবেল সম্মান

প্রকাশিত: ০৯. অক্টোবর. ২০২০ | শুক্রবার

আহমাদ মাযহার 

নিউ ইয়র্কের বাঙালি কবি শামস আল মমীন পঁচিশ বছর আগে যাঁর কবিতা অনুবাদ করেছিলেন সেই লুইস গ্লিক পেলেন এবারের নোবেল সম্মান!
যেসব আন্তর্জাতিক মাধ্যমে সমকালীন তাৎপর্যপূর্ণ লেখকদের খবর জানা যায় সেই মাধ্যমের প্রতি কৌতূহল পৌঁছানোর সুযোগ আমাদের স্বল্প বলে খুব কম ক্ষেত্রেই নোবেল পুরস্কার পেতে পারেন এমন লেখকদের সম্পর্কে বাংলাদেশের সাহিত্যামোদীরা আগে থেকে জানতে পারেন। সাম্প্রতিক কালে অবশ্য পরিস্থিতির বদল ঘটতে শুরু করেছে। এই যেমন মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঘোষিত ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত কবি লুইস গ্লিকের (নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে তাঁর নামের সঙ্গে ‘ক্লিক’ শব্দের “রাইম” হয়, বাংলাদেশে দেখলাম কেউ তাঁর নামের উচ্চারণ ‘গ্লাক’ লিখেছেন, কেউ লিখেছেন ‘গ্লুক’) দুটি কবিতা আমাদের বন্ধু বাংলা ভাষার মার্কিন কবি শামস আল মমীন ২০০৯ সালের আগেই অনুবাদ করেছিলেন। কবিতাদুটি তাঁর অনূদিত কবিতা-সংকলন ‘সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতা’ (২০০৯) বইয়ে সংকলিত আছে। বইটি প্রকাশও করেছেন আমার বন্ধু, কলেজ-সহপাঠী অনন্যা প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক। আমি বাংলাদেশে থাকাকালে আমার সম্পাদিত ‘বইয়ের জগৎ’ পত্রিকায় (দ্বিতীয় সংকলন, ফেব্রুয়ারি ২০১০) বইটির ফকির ইলিয়াস কৃত একটি আলোচনাও প্রকাশ করেছিলাম। আমাদের আরেক বন্ধু শিশুসাহিত্যিক নসরত শাহ মনে করিয়ে দিল, লুইস গ্লিক জন্মেছেন ও বড় হয় উঠেছেন লং আইল্যান্ডে, আমার বাসস্থান থেকে আধাঘণ্টা ড্রাইভের দূরত্বে; নসরত শাহের বর্তমান নিবাস কানেকটিকাট থেকে ৪০ মিনিট ড্রাইভ দূরত্বের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর বর্তমান কর্মস্থল! নসরত বলল, মমীন ভাই, তুমি আর আমিই তো দেখি ভাগাভাগি করতে পারছি এবারের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার!
কবি লুইস গ্লিকের ছোটবেলা ছিল শারীরিক অসুস্থতায় নাজুক! কিন্তু ৭ বছর বয়সের পর থেকে ধীরে ধীরে অসুস্থতা কাটিয়ে উঠে তিনি ক্রমশ উজ্জ্বল জীবনের অধিকারী হয়ে উঠতে থাকেন। ২০০৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পোয়েট লরিয়েট’ হন। ২০০৯ সালে মমীন ভাই যখন তাঁর অনূদিত বইটি প্রকাশ করেন তখন গ্লিকের কবিতা-সংকলনের সংখ্যা ছিল অাটটি; আর এখন নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময় ১২টি। পারিবারিক জীবনের প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাকে উপজীব্য করে উপস্থাপিত তাঁর কবিতাভুবন ‘দ্য ওয়াইল্ড আইরিস’ কবিতা-সংকলনের জন্য ১৯৯৩ সালে তিনি পুলিৎজার পুরস্কার এবং মৃত্যু ও শোকভাব নিয়ে মলাটবদ্ধ ‘ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চুয়াস নাইট’ কবিতা-সংকলনের জন্য ২০১৪ সালে পান ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড’।
নোবেল পুরস্কারের শংসাবচন অনুসারে তাঁকে এ সম্মান জানানো হয়েছে ‘অনাবিল সৌন্দর্যের অভ্রান্ত কবিকণ্ঠের কারণে, যা তাঁর ব্যক্তি অস্তিত্বকে সর্বজনীন করে তোলে।’
করোনাকালীন বন্দিদশার আগে আমার আর মমীন ভাইয়ের মার্কিন সাহিত্যিক-সন্ধান যেভাবে চলছিল হয়তো লুইস গ্লিকের সঙ্গেও আমাদের দেখা হয়ে যেতে পারত। তাঁর সঙ্গে দেখা না হলেও এবারের নোবেলবিজয়ী কবির সঙ্গে এতগুলো বিষয়ে আমাদের নৈকট্যে আমি খুব ছেলেমানুষী আনন্দ পেয়েছি। ভাবলাম এই মজাটুকুই ভাগ করে নিই বন্ধুদের সঙ্গে! আমাদের বন্ধু মার্কিন বাঙালি কবি শামস আল মমীনের অনুবাদদুটোও দিয়ে দিচ্ছি আনন্দকে আরেকটু উত্তীর্ণ করে তোলার জন্য! আর হাঁ, এর পর সমকালীন মার্কিন কবিদের প্রতি যদি কারো আরো কৌতূহল জাগে তাহলে জ্যাকসন হাইটসের মুক্তধারা নিউইয়র্ক থেকে ‘সাম্প্রতিক আমেরিকান কবিতা’ বইটিও সংগ্রহ করে নিতে পারেন মনে করিয়ে দিচ্ছি সে কথাও!

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৮৮ বার

Share Button