» শরত বন্দনায় মুখরিত শান্তি ও সম্প্রীতির কবিতা

প্রকাশিত: ০৯. অক্টোবর. ২০১৯ | বুধবার

জোহরা রুবী
বেশ কদিন ধরে শরতের আকাশ খুঁজে পাই না। চারিদিক যখন শরত বন্দনায় মুখরিত তখনই অভিমানী আষাঢ়ের ধারা দখল করে নিল চারদিক। ছাইরঙা মেঘে ঢেকে যায় অন্তরীক্ষ। বেতাল প্রকৃতির মাঝে কোনরকম দিনাতিপাত। সারাটা শহর ব্যস্ত। চারিদিকে হৈচৈ। বৃষ্টির কারণে যে যার মত করে গন্তব্যে পৌঁছার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমিও তাই। দেরি করতে না চাইলেও উপায় নেই। ছুটছি শাহবাগের দিকে। উদ্দেশ্য জন্মদিন পালন, আবৃত্তি ও গুনীজনদের বয়ান শোনা। আজকের দিনটা মেঘলা হলেও থেমে থাকা যাবে না। প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন বলে কথা।অনুভূতি আর ঔৎসুক্যে গদগদ। আমাকে যেতে হবে জাতীয় যাদুঘরে। পেয়েট্রি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়েজিত প্রধানমন্ত্রীর ৭৩তম জন্মদিন পালন। শান্তি ও সম্প্রীতির কবিতা । সৌভাগ্যের চনমনে ভাব আপ্লুত করে রাখলো সারাটা অনুষ্ঠান জুড়ে।জাতীয় যাদুঘর বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে। যাক কপাল ভাল সঠিক সময়ে হাজির হয়েছি।একই কারণে অতিথিদের আগমন বিলম্ব হওয়ায় রক্ষে।সভাপতি কবি সৌমিত্র দেব অডিটোরিয়াম এর প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে থাকায় বুঝতে পারলাম একটু পরেই শুরু হবে। সভাপতি সপরিবারে সঠিক সময়ে হাজির। চোখে মুখে মিষ্টি এক হাসির রেশ ধরে রেখেছেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের সাদরে গ্রহণ করার জন্য প্রধান ফটকে তার অবস্থান।

  ৫.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হল। প্রথমেই জাতীয় সংগীত।  শিল্পী সানাম সুমির সুরেলা ও মধুর কন্ঠে। সুরের যাদুতে কিছুক্ষণ আটকে  ছিলাম। মা তোর বদনখানি মলিন হলে.....  কোথায় যেন প্রাণটা হুহু করে উঠে। অতিথিদের আসন গ্রহণ আলেকিত করেছিল মঞ্চটিকে।কবি আনিস মুহম্মেদের স্বাগত ভাষণ থেকে প্রধানমন্ত্রীর  সদ্য ঘটে যাওয়া মূল্যবান তথ্য সম্পর্কে আমরা জেনেছি। 


চমৎকারভাবে দেশ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে গড়া বাংলাদেশ দেখার আশা পোষণ করেছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন। জননেত্রী  দেশরত্ন শেখহাসিনার সংগ্রামী জীবনগাঁথা তুলে ধরেছেন চমৎকারভাবে।আয়োজনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। অনবদ্য এক কথামালায় জড়িয়ে নিয়েছিলেন দর্শক শ্রোতাদের। মানবতার জননী বঙ্গবন্ধু কন্যা  দেশকে উন্নতির শিখরে গড়ে তোলার প্রাণপণ চেষ্টার নানাবিধ চিত্র তিনি তুলে ধরছেন।


 প্রধান আলোচক জাতিসত্বার কবি নুরুল হুদার  আকর্ষনীয় বক্তৃতা মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল উপস্থিত সকলকে। "বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা, বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ" সহজ সরল যুক্তিতে উপস্থাপন করেছিলেন। দৃঢ়ভাবে নিজের কথাগুলো প্রকাশ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর শহীদী মৃত্যুই স্বাধীন দেশের  জন্ম গাঁথা। চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছেন তার আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের। এভাবেই গড়িয়ে যাচ্ছিল

ছন্দোবদ্ধ সময়।

পারভেজ চৌধুরীর আবৃত্তি ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল মিলনায়তনময়। তার কন্ঠে কবিতা খেলে যায় অথবা কবিতা নিয়ে তিনি খেলেন। শব্দগুলো যেন প্রাণ পায় সজীব হয়ে
উঠে।

ফুলের পাপড়ির মত সজ্জিত আয়োজনটির খুশবু ছড়িয়ে পড়ছিল উপস্থিত সকলের মাঝে। মমতাময়ী, শান্তিময় দেশবরেণ্য নেত্রী শেখ হাসিনা যেন প্রজাপতির মত উড়ে উড়ে ঘুরেঘুরে বেড়াচ্ছিলেন আমাদের মাঝে। । খুব জানতে ইচ্ছে করছিল বাবার সাথে তার শেষ জন্মদিনটা কেমন ছিল, জন্মদিনে বাবা পাশে থাকতেন কিনা, থাকলে কি করতেন, প্রথম সন্তানের জন্মদিনের অনুভূতি, জন্মদিন পালন কিভাবে করতেন, জন্মদিনে কেক কাটা হতো কিনা ইত্যাদি নানান প্রশ্ন বারবার মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছিল। তার সেই সময়ের অনুভূতি বড্ড জানতে ইচ্ছে করছিল।প্রত্যেক বাবা মার কাছে তার প্রথম সন্তান প্রশান্তির শীর্ষ স্হান দখল করে নেয়।


একের পর এক মহামূল্যবান বক্তৃতার ভাঁজে ভাঁজে বাংলা ভাই, ওয়ান ইলেভেন, সন্ত্রাস দমন,জঙ্গিবাদ যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং রোহিঙ্গা বিষয়ও উঠে এসেছিল।বিশ্বজনীন, বিশ্ব নন্দিত জননেত্রী শেখ হাসিনার উদারতা, মহানুভবতা ও মমতার পরিচয়ও বিশ্বের দরবারে অভাবনীয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রধান অতিথি কামাল চৌধুরী আয়োজনটির উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেছেন।এর সাথে তিনি বলেছেন, বিশ্ব নন্দিত শীর্ষ স্হানীয় নেত্রীর জন্মদিন আরও আড়ম্বরপূর্ণ ও প্রাণবন্ত হওয়া দরকার ছিল।সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তার বীরত্ব গাঁথা, তিনি আমাদের রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।বাঙালির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক তনয়া বলে কথা।

কবি কামাল চৌধুরীর লেখা কবিতা ইংরেজি ও আরবী ভাষায় আবৃত্তি করেছিলেন দুজন আমন্ত্রিত আবৃতিকার। মনিপুরী ভাষায়ও অনবদ্য কবিতা আবৃত্তি করেছেন শ্যাম সুন্দর সিনহা । রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল(অবঃ) মোহাম্মদ আলী শিকদার ও বিশিষ্ট ব্যাংকার নুসরাত হোসেন রেখেছিলেন তাদের মূল্যবান বক্তব্য। এরই মাঝে স্বরচিত কবিতা পাঠ করলেন কাকলি চৌধুরী ও জোহরা রুবী। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছেন সৈয়দ মহসিন আলী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা সানজিদা শারমিন।
বিএসএমএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডাঃ মামুন আল মাহতাব এর অনবদ্য এক কথামালা আমাদের মুগ্ধ করেছিল। নারীদের উন্নয়নে নানা ধরনের অগ্রণী ভূমিকায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরেছেন। সর্বক্ষেত্রে নারীর পদচারণা নিশ্চিত করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের কোটা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করেছেন। এরকম নানাবিধ উন্নয়নেরর জীবন্ত প্রতীক আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা। সবশেষে কেক কেটে, নেত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।ফিরে আসুক এইদিন বারবার নুতন আঙ্গিকে নতুন ভঙ্গিতে। শুভকামনা।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু

৭.১০.১৯

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৬ বার

Share Button

Calendar

October 2019
S M T W T F S
« Sep    
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031