» শায়লা সারমিন রিমার গুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত: ২৮. আগস্ট. ২০২০ | শুক্রবার

প্রতীক্ষা

সাদা বেলি- জুঁই অদূরে নয় বুকের কাঁচুলিতে ভর করে ভাজে ভাজে ফোটে ,
শুভ্র আঁচলে রাখা অসামাল জাফরানি রং
শরতে ভেসে ওঠা আকাশে ডাকে।
উড়ে যায় বকপক্ষীর দল, মুচড়ে নেয় মেয়েলি কলেবর ,
ঘাস ফুল পাতা উদ্বিগ্ন।
বারন্দার অগ্রভাগে অথৈ জলে ডুবে যায় নীড়ে ফেরার নাম করে না যে পাখি তার প্রতীক্ষায়।
প্রহর গুণে , শরৎ গুণে।
শামুকের জিহ্বার টানে চলে আসে কামুক মনে
বিহ্বলতায় ঢেকে রাখা পুরোনো সে আসবাবপত্র।

পৃষ্ঠতল

আষাঢ় চলে যায় , বর্ষা পালিয়ে যায় চোখের ফাঁকে।
বিস্তৃর্ণ বালু ভেদ করে ঢুকে যায় শুল্ক মেঘ।
দেয়ালে ভুল শব্দের বিচরন ,
আঙিনায় চেনা পায়ের অচেনা চিহ্ন ,
মশালের মতো অগ্নিবৎ- দেহ ,
মোমের মতো গলতে থাকে।
কতো রাত যাপন করেছি পাশ ছুঁয়ে মনে নেই।
কেবল ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ফিসফিস কথা কানে ভাসে।
আষাঢ় যাক পালিয়ে ,
তুমি আছো।
ছয়টি ঋতু একত্রে এনে দিবে সজীব অঙ্গে,
লুপ্ত জলে তাজা করবে ঝুঁকে যাওয়া পৃষ্ঠতলকে।

স্নান

চলছে…
এলোমেলো অঙ্গরূহ, নড়বড়ে বিদীর্ণ খাট।
অগাছোলা জাজিমের নিনাদ , উপচে পড়া ছলছল জলে
তৃষ্ণার্ত পানকৌড়ি ডুবে যায় অতলে, সদ্য ভোরে- ভোরে স্নানের লোভে।

লোহিতপথ

পিঠের অজ্ঞাত বিবর্ণতা,
উরুর কাটা
লোহিতপথ ,
শ্বেতাভ জোড়া পায়রা ,
পিশিত
মোলায়েম স্থান।
জঠরের প্রত্যেকটা
নিগুঢ় ভাজ ,
অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ জুড়ে
দানাবলের
ছোপ ছোপ ছাঁপ
যা কেউ দেখেনি ,
এমনকি তুমিও না
আলোকহীনে অলিগলি খুঁজে।

নির্জনতা

তোমাকে কোনো বেদনার গল্প শুনাতে আসিনি,
ভয় পেয়ো না ,
ভরসা রেখো
আমরা কথা রাখি-
কোনে বিরহের গান শুনাবো না
বর্ষা জাগাবো নির্জলা দেহে-
কদম কেয়া জুঁই ফুলের গন্ধ শুকাবো না ,
খোলা আকাশে খেচর উড়বে ডানা মেলবে
তুমি ইচ্ছা করেই তাকাবে ,
গহ্বর বুঝবে-
অনাবিল শুনবে-
আমি কোনো জোড় করবো না ,
তুঙ্গে তরঙ্গ তোলার ,
নির্জনতা মেপে হারিয়ে যাবো ,
পরোয়া করো না- আমরা কথা রাখা শিখে গেছি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২২১ বার

Share Button