শিরোনামঃ-


» শীতে সায়াটিকার ব্যথা ও করণীয়

প্রকাশিত: ২৩. জানুয়ারি. ২০১৬ | শনিবার

এসবিএন ডেস্ক: রাসেল সাহেব ব্যাংকার, শীতের আয়োজন পুরোপুরিই উপভোগ করছেন। লেপ দিয়ে মোড়ানো ঘুম তার সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। সমস্যা একটাই তার সায়াটিকার সমস্যা আছে, যা শীত এলেই শুরু হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ব্যথা বাড়া বা কমার সম্পর্ক আছে। শীতে ব্যথা বাড়ে। যাদের ব্যথা আছে তাদের দৈনন্দিন জীবনধারণে কষ্ট হয়। এ সময় কোমরের ও পায়ের ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে। শীতে মাংসপেশী ও নার্ভ শক্ত হতে পারে কারণ এ সময় শরীরে রক্ত চলাচল কম হয়। শীতে কোমর বা অন্যান্য জয়েন্টের মাংসপেশীতে ক্র্যাম্প বা টান বেশি লাগে। এতে মেরুদণ্ডের মাংসপেশী ইমব্যালেন্স হয় বা ভারসাম্যতা কমে যায়। ফলে মেরুদণ্ডের ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ডিস্ক প্রলাপ্স হয় এবং ব্যথা পায়ে চলে যায় এবং সায়াটিকার উৎপত্তি হয়।

সায়াটিকার কারণ

* মেরুদণ্ডের হাড় সরে (স্পনডাইলোলিসথিসিস) গিয়ে যদি সায়াটিক নার্ভে চাপ দেয়।

* পাইরিফরমিস মাংসপেশী শক্ত হয়ে গেলে।

* ডিস্ক প্রলাপ্সের কারণে কোমর থেকে জেলি বের হয়ে নার্ভের ওপর চাপ দিলে।

* ডিজেনারেশন বা স্পনডাইলোসিস হলে (কোমরের হাড় ক্ষয় বা বেড়ে যাওয়া)।

* মেরুদণ্ডের নার্ভ চলাচলের রাস্তা (স্পাইনাল ক্যানেল স্টেনসিস) সরু হলে।

* গর্ভাবস্থায় সায়াটিকার ব্যথা হতে পারে।

* আঘাতজনিত কারণে সায়াটিক নার্ভের ব্যথা হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার সায়াটিকা হয়েছে

* ব্যথা কোমর থেকে নিচ দিকে গেলে।

* পা ঝিনঝিন, জ্বালাপোড়া, ভারী ভারী এবং অবস অবস ভাব হলে।

* বেশিরভাগ সময়ে হাঁটতে গেলে ব্যথা বৃদ্ধি পায়। তবে রাতে ঘুমে অথবা বসে থাকলেও সায়াটিকার ব্যথা হতে পারে।

* শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠলে সায়াটিকার ব্যথা বেশি হয় এবং কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করলে কমে যায়।

* পা দুর্বল লাগা সায়াটিকার সতর্ক সংকেত।

* কাশি দিয়ে কোমর বা পায়ে চিলকানো ব্যথা হতে পারে। পায়ে টান লাগতে পারে।

* ব্যথা বাড়তে পারে- শরীরের অতিরিক্ত ওজন, হাই হিল অথবা উঁচু জুতা পরলে, অতিরিক্ত নরম বিছানা ব্যবহার করলে।

শীতে সায়াটিকার জন্য টিপস

* বাহিরে বের হওয়ার আগে মাংসপেশী অথবা জয়েন্টের স্ট্রেচিং করতে হবে।

* অতিরিক্ত চাপ দিয়ে হঠাৎ কাজ না করা। এতে পায়ের শিন শিন ব্যথা বা ঝিন ঝিন ভাব হতে পারে।

* পায়ে মোজাসহ সঠিক শীতের পোশাক পরতে হবে। যাতে শরীর এবং পা স্বাভাবিক গরম থাকে। এতে রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হয়।

* প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা।

* শরীরের ওজন সঠিক রাখা এবং পায়ের ব্যথা অবস্থায় বেশি হাঁটাহাঁটি না করা।

* তোষকের বিছানা ব্যবহার করা।

* পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, বেশি করে শীতের সবজি খাওয়া, নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করা, তবে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন যাতে সায়াটিকার ব্যথা বৃদ্ধি না পায়।

চিকিৎসা

নিম্নলিখিত চিকিৎসা সায়াটিকার জন্য কার্যকর, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নিতে হবে

* ম্যানুয়াল থেরাপি

* ম্যানুপুলেশন থেরাপি

* মেডিসিন বা অপারেশন

লেখক : কন্সালটেন্ট, ম্যানুয়াল অ্যান্ড ম্যানুপুলেশন থেরাপি, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫০৫ বার

Share Button