» শেখ হাসিনা স্বপ্ন পূরণের জীবন্ত কিংবদন্তি

প্রকাশিত: ৩০. ডিসেম্বর. ২০১৯ | সোমবার

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরী

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হিসেবে পরিচিত। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশের অভিযাত্রায় এদেশের প্রতিটি মানুষের তীক্ষ্ম নজর লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় নিয়ে কথা কম হলেও ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমি ধ্বস বিজয়ের আজ এক বছর পূর্ণ হলো। এই এক বছরের শেষের তৃতীয় দিনে (২৮-১২-২০১৯) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন এর পাশাপাশি দুটো উড়োজাহাজ এর উদ্বোধন করেছেন। তৃতীয় টার্মিনালটি দিয়ে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি বিশ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি সপ্তাহেই নেত্রকোনা সফরে গিয়ে প্রায় একশটি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন। গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে সদ্য কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে। গিয়েছিলেন যশোরে বিমান বাহিনীর সদ্য কমিশন প্রাপ্ত অফিসারদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে। এভাবে সারা বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রতিটি ছোট-বড় অগ্রগতির সাথে দেশের আপামর জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে বাংলাদেশকে ২০৪০ সালের উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জনের দিকে পরিচালিত করছেন। একাদশ সংসদ গঠিত হবার পর প্রতিটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে গনতান্তিক অধিকার সুনিশ্চিত করেছেন বিএনপির সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা থেকে শুরু করে সকলেই। বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মাননীয় স্পিকারের কাছে সর্বোচ্চ সময় পেয়েছেন কথা ও মত প্রকাশের, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। চলতি বছর বাজেট অধিবেশন বাংলাদেশের সাধারন জনগনকে নানাবিধ তীর্যক প্রশ্নের মুখোমুখি করলেও বাজেট পাস হয়েছে পর্যাপ্ত আত্মতৃপ্তির মধ্যে দিয়ে। চলতি বাজেটের একটি বড় অংশের বরাদ্দ পদ্মা সেতুর পেছনে ব্যয় হলেও বাংলাদেশ সফল ভাবেই পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চলতি ডিসেম্বর মাসে ১৯ তম খুঁটি বসানোই সেটা প্রমান করে।

গত ডিসেম্বরে নির্বাচন সফল ভাবে সম্পন্ন হলে জানুয়ারি মাসে সরকার গঠিত হয়েছে। নির্বাচন ও সরকার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা লক্ষ্য করা গেলেও তর্কপ্রিয় মহল মোটেও শক্তিশালী অবস্থানে পৌছাতে সামর্থ্য লাভ করেনি। শেখ হাসিনা বিগত নবম ও দশম জাতীয় সংসদ পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়ে একাদশ সংসদের অভিযাত্রাকে সফল করেছেন প্রথম থেকেই। শেখ হাসিনার রাষ্ট্রীয় সফরগুলো মূলত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রতিই অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। যা বৈশ্বিক রাজনৈতিক টেবিলে বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশে মাদকবিরোধী অভিযান ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শেখ হাসিনার জয়যাত্রাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে। দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা গেলেও পেঁয়াজ এর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ সারা বছর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলো।
শেখ হাসিনার সরকার মানেই দেশে কৃষি বিপ্লব । এবারও সেটা লক্ষ্য করা যায় তবে কৃষক তার ন্যায্য মূল্য থেকে চরম ভাবে বঞ্চিত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডেঙ্গু জ্বর মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ। এ বছর নেপালেও হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু ঘটেছে।

রোহিঙা সমস্যা নিয়ে জাতিসংঘের ইতিবাচক ভূমিকা চলতি বছর বাংলাদেশকে আরো সাহসী করে তুলেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ মায়ানমার এ গনহত্যা সংগঠিত হয়েছে কিনা সেজন্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। দেশের পাটশ্রমীক, পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের দেশ জুড়ে প্রতিবাদ- বিক্ষোভ-আন্দোলন করতে দেখা গিয়েছে যা সরকার যৌক্তিক ভাবে মীমাংসা করেছে।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মুজিব বর্ষে এমন এক অবস্থানে পৌছে দিতে চান যা কিনা ২০২১ সালে বিশ্বে বাংলাদেশ আবির্ভূত হবে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি ভাষনেই শোনা গিয়েছিল দারিদ্র শ্রেনীর ও দরিদ্রতার বিরুদ্ধে আমরন সংগ্রাম ও লড়াইয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বাংলাদেশের জনগন আজ সেটা উপলব্ধি করছে। দেশে দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ১৭ এর নিচে এবং হতদরিদ্র শ্রেনীর হার ১২ এর নিচে। উওরাঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার পরিবর্তন হয়েছে। দক্ষিণের জেলাগুলো জেগে উঠেছে শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারনে। চলতি বছরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনে পরিবর্তন এসেছে। ঐতিহাসিক পথ চলায় আওয়ামী লীগ সবসময়ই তার সংগ্রাম ও লড়াইয়ের ইতিহাসকে স্মরন করে থাকে। এবারেও তাই ঘটেছে।
স্বৈরাচারী সামরিক শাসক লেঃ জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ চলতি বছর মারা গেলে সেই শূন্য আসনে সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। শেখ হাসিনাকে বড় কোনো সংকটের মুখোমুখি না হতে হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বর্তমান সরকার ও আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে নিরাপদ সম্ভাবনার প্রসংগটি বারবার সামনে নিয়ে আসবেন এতে কোন সন্দেহ নেই। শেখ হাসিনাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের উপর নির্ভর না করে রাজনৈতিক ভাবেও সমাধানের পথ বেছে নিতে পারেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে আগামীতে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিদেশের মাটিতে করা হলে বর্তমানে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে এ বিষয়টি নিশ্চিত। বর্তমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও জনসন্তুষ্টির মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন পূরণের জীবন্ত কিংবদন্তি।

লেখক: সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৬৫ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031