» শ্রীমঙ্গলে পালিত হলো কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১৮. জানুয়ারি. ২০২০ | শনিবার


পংকজ কুমার নাগ শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গলে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা, তেভাগা আন্দোলনের নেতা, ৭১’এর মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক, আজীবন বিপ্লবী ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী । 
এ উপলক্ষে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক স্মরণ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌর শাখা । এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মৌলভীবাজার জেলা শাখার সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সভাপতি দেওয়ান মাসুকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সভাপতি শেখ জুয়েল রানা । 
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রীমঙ্গল পৌর শাখার সদস্য মো: রিপন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে ছিলোকমরেড অমল সেন স্মরণে উনার প্রতিকৃতিতে পুষ্প মাল্য অর্পন, শ্রদ্ধা নিবেদন, এবং স্মরণ সভা । 
১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে গিয়ে কমরেড অমল সেন সম্পর্কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, অারপি নিউজের প্রধান সম্পাদক ও কলামিস্ট সৈয়দ অামিরুজ্জামান বলেন, “অাজ কমরেড অমল সেন চলে গেছেন ১৭ বছর হয় । ব্রিটিশ আমল, পাকিস্তান যুগ ও বাংলাদেশ সময়-এই তিন কাল ধরে তাঁর সংগ্রামী জীবন বিস্তৃত । এ দেশের রাজনীতি, সমাজ-সম্পর্ক ও আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন। তিনি অনন্য বিপ্লবী জীবনের অধিকারী।”
“কমরেড অমল সেন তাঁর তেভাগার সমীক্ষায় কিছু কথা লিখে গেছেন । বস্তুত কোনো আন্দোলন রাজনীতি ও সমাজ-সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তার সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষগুলোকে কীভাবে বদলে দেয়, নড়াইলের তেভাগা আন্দোলন তার প্রমাণ । অমল সেন ওই কৃষকদের সংগঠিত করতে কৃষকের সবচেয়ে নিম্নবর্গের মানুষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে তাঁর কাজ শুরু করেছিলেন। নড়াইলের এগারখান অঞ্চলের এই মানুষগুলো মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করলেও সমাজ-সভ্যতার কিছুই তাদের জানা ছিল না । অমল সেন কৃষকের দাবি নিয়ে সংগ্রাম সংগঠিত করতে গিয়ে ওই মানুষগুলোকে সেই উচ্চমানের জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত করেছিলেন তেভাগা আন্দোলনের সময়েই ভারত ভাগ হয়ে দুটি রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হয় । আর পাকিস্তানে তেভাগা সংগ্রামী কমিউনিস্টদের জায়গা হয় জেলখানায় অথবা আন্ডারগ্রাউন্ডে । তখন সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে পড়েছিলো সর্বত্র । অমল সেনরা সচেষ্ট হলেন নতুন সংগ্রাম গড়ে তুলতে। ভাষা আন্দোলন এ দেশের মানুষকে আবার বদলে দিল । জেলখানায় বসে তিনি স্বস্তিবোধ করলেন ঘটনাবলির এই মোড় পরিবর্তনে । কিন্তু ওই পাকিস্তানের জেলখানায় কমরেডদের এই জীবনশিক্ষা দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার উপায় থাকেনি অমল সেনের জন্য। তবে ওই জেলখানাকেই আদর্শ বিদ্যাপীঠ বানিয়েছিলেন তিনি কমিউনিস্ট ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব কর্মীর জন্য । কেবল রাজনীতি নয়, রাজনীতি, সংস্কৃতি, নাটক, নাচ, গান, বাঁশি বাজানোর সবটাতেই মাতিয়ে রাখতেন কর্মীদের”।
সৈয়দ আমিরুজ্জামান আরো বলেন, “একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ইপিসিপির (এম-এল) ভ্রান্ত লাইনকে প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে দৃঢ় ভূমিকা রেখেছেন । এ ক্ষেত্রে কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের পূর্ব বাংলার সমন্বয় কমিটি এবং অন্যান্য কমিউনিস্ট ও বামপন্থী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’ গড়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন”। 
তিনি বলেন, “ওয়ার্কার্স পার্টিতে তাঁর যাত্রা সরলরৈখিক ছিল না । এই ওয়ার্কার্স পার্টিকেও দুই দফা বিভক্তির মুখে পড়তে হয় । কিন্তু কমিউনিস্ট আন্দোলনের যে ঐক্যের ধারা অমল সেন অনুসরণ করতেন, তার ধারাবাহিকতায় ওয়ার্কার্স পার্টি আবার ঐক্যবদ্ধ হয় এবং এবার তিনি সভাপতি হিসেবে পার্টির প্রধান হন । অমল সেন কেবল একজন বিপ্লবীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী জীবনের অধিকারী । বিপ্লব ও বিপ্লবী আদর্শের প্রতি তিনি যেমন একনিষ্ঠ ছিলেন, একই সময়ে মানুষ হিসেবে তাঁর জীবনবোধ, রসবোধ, জীবনকে উপভোগ করার শক্তি ছিল অতুলনীয় । তাঁর সংস্পর্শে এসে যেকোনো মানুষ আনন্দ পেত । বিপ্লবের প্রয়োজনে অমল সেনকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ত্যাগ করতে হয়েছিল । কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় কেবল মার্ক্সীয় দর্শন ও তত্ত্বই নয়; সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান এমনকি চিকিৎসাশাস্ত্র সম্পর্কেও তাঁর পারদর্শিতা ছিল । ইতিহাস থেকে শুরু করে আধুনিক সবকিছুই তাঁর মনোযোগ পেয়েছে । এই বিনয়ী নম্র মানুষটি আবার সংগ্রামে ছিলেন দৃঢ়চিত্ত-সে রাজনৈতিক সংগ্রামই হোক, তাত্ত্বিক সংগ্রামই হোক । অমল সেন চলে গেছেন। রেখে গেছেন এমন আদর্শ, যার মৃত্যু ঘটে না। তিনি বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন । কমরেড অমল সেন লাল সালাম । কমরেড অমল সেনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সমতা ন্যায্যতার জন্য বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংগ্রামকে জোরদার করতে হবে”।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৫ বার

Share Button

Calendar

February 2020
S M T W T F S
« Jan    
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829