» সংরক্ষিত বনের জায়গা দখলকারী উন্মত্ত এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর কাহিনী

প্রকাশিত: ২৫. আগস্ট. ২০২০ | মঙ্গলবার

আনহার সামসাদ

২০১২ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ার ফলাহরিয়ার পাহাড়ে ছনের ছাউনি দিয়ে ছোট্ট একটি ঘর বানিয়ে থাকা শুরু করেন শরণংকর থেরো। তখন তিনি স্থানীয়দের জানিয়েছিলেন কিছুদিন ধ্যান করে চলে যাবেন। কিন্তু তিনি আর যাননি। কিছুদিন পর সেখানে টিনের ছাউনি দিয়ে ঘর বানান এবং আশপাশের কয়েক একর বনভূমি দখল করেন। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই দখল করা বনভূমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা শুরু করেন শরণংকর থেরো। এখন পর্যন্ত ৫০ একর বনভূমি দখল করে ‘জ্ঞানশরণ মহাঅরণ্য বৌদ্ধ বিহারের’ নাম দিয়ে ছোটবড় বেশ কিছু বৌদ্ধ মূর্তি, ভিক্ষু-শ্রমণ ট্রেনিং সেন্টার, আবাসিক ভবন মিলিয়ে দুই ডজন স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, আশপাশের আরও অর্ধশতাধিক একর বনভূমি দখল করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন শরণংকর থের; সে সব জায়গায় বন বিভাগের লাগানো লক্ষাধিক চারা গাছ শরণংকর থেরো ও তার সহযোগিরা রাতের আধাঁরে কেটে ফেলেছে বলে বন বিভাগ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বছরের পর বছর ক্রমান্বয়ে বনভূমিতে পাহাড় কেটে পাকা স্থাপনা, রাস্তা নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হলেও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জের সুখবিলাস বিট অফিস ছিল চুপ। স্থানীয়রা তথ্য দিয়েছেন, সুখবিলাস বিট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে ছোট-খাটো স্থাপনা তৈরি করে আসছিলেন শরণংকর। বড়ুয়া সম্প্রদায়ের একজন কর্মকর্তা সুখবিলাস বিটের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বৃহৎ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে দেন তিনি। রাঙ্গুনিয়ার শিলক এলাকার বাসিন্দা ওই বিট কর্মকর্তা অবসরোত্তর ছুটিতে গেলেও অফিস করতেন, যাতে বনভূমিতে শরণংকরের স্থাপনা নির্মাণে বিঘ্ন না ঘটে। সম্প্রতি বনবিভাগের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুত বিভাগ এই অবৈধ বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।

একপর্যায়ে ২০১৯ সালের অক্টোবরের দিকে সুখবিলাস বিটের বিট কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন ফরেস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম। দায়িত্ব নিয়েই তিনি সুখবিলাস বিটের আওতাধীন বনভূমি এক একে পরিদর্শন করা শুরু করেন। সে সময় তিনি দেখতে পান, ফলাহরিয়ায় ‘জ্ঞানশরণ মহাঅরণ্য বৌদ্ধ বিহারের’ নামে ১৫০ বিঘা একর বনভূমি দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। তখন এসব স্থাপনা তৈরি হওয়া নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন ফরেস্টার আশরাফুল ইসলাম। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান। ধর্মীয় স্থাপনা হওয়ায় এসব উচ্ছেদের দিকে না গেলেও ফরেস্টার আশরাফুল ওই বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাতা শরণংকর থের’কে সাফ জানিয়ে আসেন, আগে যা হওয়ার হয়েছে, আমার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে নতুন করে যেন আর কোন স্থাপনা তৈরি করা না হয়।

এদিকে বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ঠেকাতে সেখানে বনায়ন কর্মসূচি হাতে নেয় বন বিভাগ। কিন্তু কে শুনে কার কথা। অবৈধভাবে আবার পাকা স্থাপনা তৈরি শুরু করে দেন শরণংকর থেরো। ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর স্থাপনা নির্মাণের খবর পেয়ে বাধা দিতে যায় ফরেস্টার আশরাফুলসহ সুখবিলাস বন বিটের কর্মীরা। তখন বনকর্মীদের উপর হামলা চালায় শরণংকর থেরো ও তার অনুগত ভিক্ষু-শ্রমণরা। সে সময় বিভিন্ন প্রজাতির ৩ হাজার সরকারি চারা উপড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ৩০ অক্টোবর শরণংকর থেরো ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করে বন বিভাগ।

ফরেস্টার আশরাফুল আলম সুখবিলাস বিটে যাওয়ার পর থেকে নতুন করে বনভূমি দখলে বাধা পেয়ে আসছিলেন শরণংকর থেরো। তার দখল করা ৫০ একর বনভূমির আশপাশে আরও ৫০ একর বনভূমিতে বন বিভাগ বনায়ন করতে গেলে বাধা দেয়া শুরু করেন শরণংকর। এভাবেই বন বিভাগের সঙ্গে শরণংকরের বিরোধ শুরু। এসব বিষয় বন বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে জানানো শুরু করেন ফরেস্টার আশরাফুল। এরই মধ্যে নতুন করে আরও বনভূমি দখলের চেষ্টার অংশ হিসেবে ৩০ হেক্টর সংরক্ষিত বনভূমিতে বন বিভাগের রোপণ করা ৭৫ হাজার চারাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ আসে শরণংকর থেরো ও তার অনুগতদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ১০ জুন রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করে বন বিভাগ।

ফরেস্টার আশরাফুল আলম গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘জীবনে অনেক বৌদ্ধ বিহার দেখেছি। বৌদ্ধ বিহারগুলো কয়েক গন্ডা থেকে ১/২ কানি জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এখন শরণংকর থেরো বৌদ্ধ বিহার করেছেন ১৫০ বিঘা একর জায়গা নিয়ে, তাও সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে। বনভূমি উদ্ধার করতে গেলে তিনি বনকর্মীদের মারধর করেন। তিনি এখন যে অবস্থা শুরু করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর আশপাশের আরও ৫০ একর বনভূমি দখল করে নেবেন। পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই।’
বন বিভাগের সঙ্গে বিরোধ শুরুর বিষয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থেরো গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এক মাস না যেতে বন বিভাগের লোকজন বলে ২০ হাজার টাকা দাও, ৩০ হাজার টাকা দাও। টাকা না দেওয়ায় তারা আস্তে আস্তে আমাদের প্রতি আক্রমণাত্মক ব্যবহার করা আরম্ভ করে। আমরা আর কত দেব? প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দিচ্ছি।’ ঘুষ দেওয়াও অপরাধ, এছাড়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের টাকা ব্যবহারের অনুমতি থাকে না- এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে শরণংকর থেরো বলেন, ‘টাকা তো আমি দিইনি। আমার ভক্তরা দেয়। তারা বন বিভাগকে ম্যানেজ করে।’

এদিকে চলতি বছরের গত ৫ জুলাই ফলাহারিয়ার সংরক্ষিত বনে আরেকটি বৌদ্ধ প্রতিবিম্ব নির্মাণ কাজ শুরু করেন শরণংকর। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্টদের জানান ফরেস্টার আশরাফুল। লোকবল কম থাকায় ও বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকরের আক্রমণাত্মক হয়ে উঠা ও আগে হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি অভিযানের জন্য পুলিশের সহযোগিতা চান। তার অনুরোধ ৮ জুলাই শিলক পুলিশ তদন্তে কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা বনভূমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে যায়, সঙ্গে বন বিভাগের লোকজনও ছিল। সেদিন বন বিভাগ ও পুলিশের নির্দেশনা পেয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ না করে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থেরো। এমনকি সেদিনের কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশকে মারতে তেড়ে যাচ্ছেন শরণংকর থেরো ও তার অনুগত ভিক্ষু-শ্রমণরা।

সেদিন ঘটনাস্থলে যাওয়া শিলক তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এমনিতে বনভূমিতে স্থাপনা তৈরি করে দখল করার নিয়ম নেই। কেউ স্থাপনা তৈরি করতে গেলে বন বিভাগ বাধা দেয়। এখন বন বিভাগের লোকবল সংকট আছে। তাছাড়া বাধা দিতে গেলে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মারধর করে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। এজন্য বন বিভাগকে সহযোগিতা দিতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। বাধা দিতে যাওয়ায় শরণংকর থের আমাদেরকে সরকারের আদেশ দেখাতে বলে। আমরা বলেছি, সরকার তো আইন করেছে বনভূমিতে স্থাপনা করা যাবে না। আমরা আইনের শাসন বাস্তবায়ন করতে এসেছি। কিন্তু তারা কিছুই শুনছিল না, শরণংকর থেরো ও তার অনুসারীরা প্রচন্ড মারমুখী হয়ে উঠে। আমরা সেদিন সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছি। বৌদ্ধ ভান্তে বলে সেদিন আমরা ফিরে এসেছি। অন্য কেউ পুলিশের সাথে এভাবে খারাপ আচরণ করলে বড় ঘটনা ঘটে যেত।’

এভাবে বন বিভাগের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন শরণংকর থেরো। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ৯ জুলাই শরণংকর থের পুলিশের একজন ডিআইজিকে ফোন দেন, যিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। সে সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তা শরণংকরকে সাফ জানিয়ে দেন, পুলিশ নয়, তিনিই পুলিশের সঙ্গে অন্যায় করেছেন। ফোনালাপের এ বিষয়টি শরণংকর থেরো নিজেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

এদিকে বন বিভাগের প্রথম দুটি মামলা দায়েরের পর থেকে তদন্তের প্রয়োজনে গত বছরের শেষের দিক থেকে শরণংকর ভিক্ষুর জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারে যাওয়া-আসা শুরু করেন মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ও শিলক তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মজিবুর রহমান। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারে গেলেই তারা মারমুখী হয়ে উঠে। শরণংকর থেরো কথায় কথায় বলেন আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবেন। রামুর ঘটনার পুণরাবৃত্তি হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। এসআই মজিবুর জানান, বন বিভাগের কর্মকতা-কর্মচারীদের মারধর ও সরকারি চারা নষ্টের অভিযোগে শরণংকর থেরো’র বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছিল, সেটির চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

বনকর্মীদের উপর হামলা, বনভূমি দখল, সরকারি চারাগাছ কেটে ফেলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করে বন বিভাগ। এছাড়া নতুন করে বনভূমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনড় থাকে প্রশাসন। অন্যদিকে ৫০ একর বনভূমিতে দুই ডজন স্থাপনা নির্মাণের পর নতুন করে আর কিছু নির্মাণ করতে না পেরে ও মামলার আসামি হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শরণংকর।

৮ জুলাই বন দখলে বন বিভাগ ও পুলিশের বাধা পাওয়ার পরদিন ৯ জুলাই মধ্যরাতে ফেসবুকে ১৪ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দেন বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থেরো। এতে তিনি রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ার ফলাহারিয়ায় বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে প্রভাবশালীদের নির্যাতন ও তাদেরকে হাটবাজারে যেতে দেয়া হচ্ছে না কাল্পনিক বলে অভিযোগ আনেন। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন শরণংকর। অথচ তার সঙ্গে বিরোধ দায়িত্ব পালনে যাওয়া বন বিভাগ ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে। তবে ধূর্ত শরণংকর পুলিশ ও বন বিভাগের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগই ভিডিওতে আনেনি, উল্লেখ করেনি তার ৫০ একর বনভূমি উজাড় করে স্থাপনা তৈরির কথাও। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তিনি প্রভাবশালীদের কথা বলে তথ্যমন্ত্রীর পরিবার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিকে ইঙ্গিত দেন; যাতে এসব অভিযোগ সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করানো যায় এবং দেশ-বিদেশে এসব অভিযোগ করে ফায়দা তোলা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগের লাগানো লক্ষাধিক চারাগাছ কেটে ফেলা, বনকর্মীদের উপর হামলা করা ও সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় করে দখল করার ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকে রেহাই পেতে বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থের এসব কাল্পনিক অভিযোগ এনেছেন। তারা আরও জানান, বৌদ্ধ ভিক্ষু শরণংকর থেরো সবসময় ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্ক আছে বলে নানাভাবে জাহির করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তার শক্ত অবস্থান থাকার কথা প্রচার করে প্রকারান্তরে এর সুযোগ নেন বনভূমি দখলের নেশায় মত্ত শরণংকর থেরো। এমনকি তাঁর বিহারের সামনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে তাঁর একটি ছবি টাঙ্গিয়ে দিয়ে নীচে লিখে দিয়েছেন “স্বাগতম মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” যাতে মনে হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখানে এসছিলেন। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনও সেখানে যাননি।

তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ফলহারিয়া গ্রামের মনিন্দ্র পাড়ার হিন্দুদের শশ্মান-ভূমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা জানান, ২০০০ সালে পদুয়া ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম চৌধুরী ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃতদেহ সৎকারের সুবিধার্থে শশ্মান ভূমির জন্য নির্ধারিত জায়গা হস্তান্তর ও সীমানা খুঁটির মাধ্যমে শশ্মান ভূমির স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

সেই থেকে এখন পর্যন্ত উক্ত এলাকার সনাতনী সম্প্রদায়ের ৩০টি পরিবারের লোকজন তাদের আত্মীয় স্বজনদের মৃতদেহ দাহ ও সৎকারের কাজ সম্পাদন করে আসছিলেন ওই ভূমিতে। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে শশ্মানে দাহ করতে নিয়ে গেলে শরণংকর থেরো শতাধিক সেবক নিয়ে গিয়ে হিন্দুদের ভয় দেখিয়ে বাধা দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ। বৌদ্ধ স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গাটি ছেড়ে না দেওয়ায় যে কোনও সময় আক্রমণের আশংকাও করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নয়, সংখ্যাগুরু মুসলিম জনগোষ্ঠির কয়েকজনও শরণংকর থেরো’র বিরুদ্ধে জায়গা দখল ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ আছে শরণংকরের বিরুদ্ধে। করেছেন। ফলাহরিয়ার আব্দুল গফুরের স্ত্রী জাইতুন নুর বেগম জানিয়েছেন, তার স্বামীর মৌরশী সূত্রে পাওয়া ৮০ শতক পাহাড়ি জায়গায় খামার করে ও গাছ লাগিয়ে ভোগ দখলে আছেন তিনি। উক্ত জায়গা দখল করার জন্য শরণংকর ভান্তে একের পর এক অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। দখল করতে এলে প্রতিবারই তারা বাধা দিলে গালাগালি, মারধর করছে। এ নিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ করলে এএসআই কবির হোসেনকে তদন্ত করতে দেয়া হয়। কিন্তু তারা কোনো বিচার পাচ্ছেন না।

হাজেরা বেগম নামের ভুক্তভোগী আরেকজন জানালেন, ফলাহারিয়া মৌজার ৪০ শতক নাল জমি পৈত্রিক সূত্রে পেয়ে ভোগ দখলে আছেন তিনি। তার এই জমি দখল করে শরণংকর বৌদ্ধ স্থাপনা করতে চায়। বিভিন্ন সময়ে দখল করতে গেলে তারা বাধা দিলে গালাগালি ও মারধর করে। এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ করলে এএসআই কবির হোসেন তদন্তের দায়িত্ব পান। কিন্তু তিনিও কোনো প্রতিকার পাননি।

এদিকে ফলাহারিয়া গ্রামের শাহ ছুফি পাঠান আউলিয়া মাজারের মোতোয়াল্লী এবং পাঠান আউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ হাকিম উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেছেন, দীর্ঘদিন পর্যন্ত মুসলিম, বৌদ্ধ ও হিন্দু সবাই সম্প্রীতি মাধ্যমে আমরা বসবাস করে আসতেছি। ৭-৮ বছর আগে হাটহাজারী উপজেলার শরণংকর ভান্তে এখানে এসেছেন। তিনি এই এলাকায় একজন বহিরাগত। তিনি আসার পর থেকে উনার বিভিন্ন কার্যক্রমে আমাদের এখানে বড়ুয়া-মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি যেটা ছিল সেটা নষ্ট হতে যাচ্ছে। সারাদিন তিনি মাইক ব্যবহার করেন, এতে স্কুল-মাদ্রাসার পড়ালেখার ক্ষতি হয়। যেদিকে আমরা হাঁটাচলা করি সেদিকে তিনি মূর্তি বসান।

তিনি বলেন, আবদুল গফুর, মুছা, হাজেরা বেগমদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বিহারের গেইট করেছেন শরণংকর ভান্তে। গফুরের বাগানটা তিনি কেটে দিয়েছেন। সেখানে ঘর ছিল, সেটাও ভেঙে দিয়েছেন। ফলাহরিয়ায় প্রবেশপথেও তিনি গেইট নির্মাণ করতে চেয়েছেন। যা বিহার থেকে ১.৫ কি. মি. দূরে। অথচ বিহারের সামনেই একটি গেইট আছে। বিহারে আসাদের মধ্যে প্রায় সবাই বহিরাগত। স্থানীয়রা শরণংকর ভান্তের বিহারে কম যায়। মিয়ানমার থেকেও বিভিন্ন মানুষজন শরণংকর ভান্তের কাছে আসে।

মুহাম্মদ হাকিম উদ্দিন বলেন, শরণংকর ভান্তের শত একর জায়গা দখল করা নিয়ে আমরা বন বিভাগের কাছে গিয়েছি, সেখানে আমরা প্রতিকার পাইনি। পুলিশ প্রশাসনের কাছে গিয়েছি, তারাও কিছু করেনি। শেষ পর্যন্ত আমরা তথ্যমন্ত্রী মহোদয়ের কাছে গিয়েছি, উনাকে বিস্তারিত বলেছি। তিনি স্থানীয়ভাবে মেম্বার/চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেন। মন্ত্রী মহোদয় আমাদের এলাকার পারাপারের জন্য যে একটা ব্রিজ করে দিয়েছেন, সেই ব্রিজের রেলিংও ভান্তের গাড়ি এসে ভেঙে দিয়েছে। সেগুলো আমরা অবহিত করেছি। এভাবে চলতে থাকলে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।

শরণংকর থেরো ফেসবুকে যে ১৪ মিনিটের ভিডিও ছেড়েছেন, সেটা দেখেছেন জানিয়ে হাকিম বলেন, বড়ুয়া সপ্রদায়কে হাট-বাজারে যেতে দিচ্ছে না বলে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি মনে করি এটা দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। করোনার মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে অনেক বড়ুয়ার লাশ দাফন করছে গাউছিয়া কমিটি, আল মানাহিল। এমন অবস্থায় দেশে বৌদ্ধরা নির্যাতিত হচ্ছে বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছেন শরণংকর থেরো। তিনি বলেন, আমরা সবাই আগে শান্তিতে ছিলাম। শরণংকর ভান্তে আসার পর থেকে নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই।
জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারের গেট নির্মাণ করতে গিয়ে শরীফুল ইসলাম নামের একজনের আহত হওয়ার যে তথ্য শরণংকর দিয়েছেন সেটার প্রতিবাদ জানিয়ে হাকিম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে তিনি যখন গ্রামে ঢোকার মুখে বড় করে মেইন গেইট করছেন, মুসল্লিরা সবাই বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। গেইট হলে সবার আসা-যাওয়ার সমস্যা হবে, এখানে আড়াইশ’ বছরের পুরনো মাজার আছে, বেশিরভাগ মানুষ মুসলিম। তখন প্রশাসন বাধা দিয়েছে। যার কারণে তারা গেইটের কাজ বন্ধ রেখেছেন। সেখানে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করেনি, হামলাও হয়নি। শরীফুল ইসলাম নিয়ে যা বলেছেন সেটা পুরোপুরি মিথ্যা। তাঁর অন্যান্য অভিযোগুলিও ডাহা মিথ্যা।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে শনিবার সকালে জ্ঞানশরণ বৌদ্ধবিহার থেকে ভিক্ষু-শ্রমণদের নিয়ে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রাম নগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন শরণংকর থেরো। ভান্তের এই যাত্রাকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন- পলায়ন। এদিকে যাত্রাপথে ‘জ্ঞানশরণ বৌদ্ধইজম’- আইডি থেকে ফেসবুক লাইভে শরণংকর থেরো বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষ আমাকে খোদার মতো পূজা করে। অথচ কোন বৌদ্ধ ভিক্ষু কোন দিন এমন দাবী করেনি’। এসময় পাশে থাকা অপর শিষ্য বলেন, ‌‌‌‘এবার তারা এলে আমাদের উল্টো রিয়েকশন করতে হবে’।

এদিকে ৯ জুলাই রাতে ফেসবুকে শরণংকর থেরো’র ১৪ মিনিটের আলোচিত-সমালোচিত ভিডিও বার্তাটির পর রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এ নিয়ে ফেসবুকে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতারা পর্যন্ত গণমাধ্যমে বলা শুরু করেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা থাকেন বৈষয়িক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, জাগতিক বিলাসব্যসনের উর্দ্ধে। প্রকৃত সাধক ও ধর্মীয় গুরুদের কথা শোনা দূরের কথা, সাক্ষাৎ পাওয়াও কঠিন। সেই জায়গায় ধর্মীয় লেবাসে শরণংকর থেরো উগ্র, উচ্ছৃঙ্খল আচরণে পুলিশের সাথে কথা বলছেন, চিৎকার, চেঁচামেচি করে পুলিশকে শাসাচ্ছেন। শত শত একর সরকারি জমি দখল করছেন, বনবিভাগের গাছ উপড়ে ফেলছেন, ব্যক্তিবিশেষের জায়গা দখল করে নিচ্ছেন ধর্মীয় লেবাস পরে। এটি বৌদ্ধ ধর্মের যে শিক্ষা, সে শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বরং বৌদ্ধ ধর্মকে খাটো করেছেন।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ১১ জুলাই সকাল থেকে শরণংকর থেরো’র ছবিযুক্ত ‘রুমন হিমু’ ও ‘রানা সাধু’ নামের দুটি ফেসবুক আইডি থেকে রাসূল (সা.) ও ইসলামকে কটূক্তি ও অবমাননামূলক পোস্ট ও কমেন্ট করা শুরু হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠি। এ পরিস্থিতি তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কঠোর অবস্থায় নেয় পুলিশ প্রশাসন। একইদিন সন্ধ্যায় উক্ত দুই ফেসবুক ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা রেকর্ড করে দৃশ্যমান তদন্তে নেমে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে রাঙ্গুনিয়া থানায় পুলিশ। অন্যদিকে তথ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাঙ্গুনিয়ায় সম্প্রীতি বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নেয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। নয়তো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া অসম্ভব ছিল না। এমনকি আরেকটি রামু ট্র্যাজেডিও ঘটতে পারতো। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর তৎপরতায় অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি। শুধু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে মাত্র।

এদিকে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ১১ জুলাই সকালে জ্ঞানশরণ বৌদ্ধবিহার থেকে ভিক্ষু-শ্রমণদের নিয়ে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রামের রাউজানের একটি বৌদ্ধ বিহারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন শরণংকর থের। ভান্তের এই যাত্রাকে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলেছেন- পলায়ন। এদিকে যাত্রাপথে ‘জ্ঞানশরণ বৌদ্ধইজম’- আইডি থেকে ফেসবুক লাইভে শরণংকর থেরো বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের ত্রিশ লক্ষ মানুষ আমাকে খোদার মতো পূজা করে। এসময় পাশে থাকা অপর শিষ্য বলেন, এবার তারা এলে আমাদের উল্টো রিয়েকশন করতে হবে।

এদিকে শরণংকর থেরো রাঙ্গুনিয়া ত্যাগ করার পর তার দখলকৃত বন বিভাগের সরকারি জায়গায় আবার সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় বন বিভাগ। যদিও আগে বন বিভাগ অনেকবার সাইনবোর্ড লাগালেও শরণংকরের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এসব সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বনবিভাগ ২৮/০৭/২০২০ ইং তারিখ পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় সেই বৌদ্ধ ভিক্ষু সংরক্ষিত বনের কোন কোন দাগের ৫০ একর (১৫০ বিঘা) দখল করেছে এবং আরো ১৫০ বিঘা দখল করার যে পায়তারা করেছে সেটাও বনবিভাগের গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বনবিভাগ এই বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য শরনাংক যে দেশে-বিদেশে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারও প্রতিবাদ জানায়। এসব বিষয় তদন্তে নেমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, জ্ঞানশরণ বৌদ্ধবিহারের দুই শ্রমণই ‘রুমন হিমু’ ও ‘রানা সাধু’ নামে দুটি ফেইক আইডি থেকে পবিত্র ধর্ম ইসলাম ও রাসূলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। আর এতে ইন্ধন ও সাহস জুগিয়েছেন ওই বিহারের অধ্যক্ষ শরণংকর ভান্তে নিজেই। মূলত এর মধ্যদিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টি করে প্রকারান্তরে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করেছিলেন শরণংকর থেরো।

একটি গোয়েন্দা সংস্থার চট্টগ্রামের শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে সে সময় বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে ওই ভিক্ষু অনিয়মতান্ত্রিকভাবে গড়ে তোলা নিজের সাম্রাজ্য ধরে রাখার ভয়ঙ্কর চেষ্টায় মেতেছিলেন। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেটি ভেস্তে গেছে।’

কে এই শরণংকর থেরো

৩৫ বছর বয়সী শরণংকর থেরো’র বক্তব্য অনুযায়ী তার পৈত্রিক বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা গ্রামে। তবে তিনি বেড়ে উঠেছেন রাঙ্গুনিয়ার শিলক এলাকায় মামার বাড়িতে। পশ্চিম শিলকপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০০১ সালে ব্যুচক্র হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। এরপর দারিদ্র্যতার জন্য লেখাপড়া আর করতে পারেননি বলে শরণংকর থেরো জানান।

২০০৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ছোট-খাটো চাকরি করেছেন। ২০০৪ সালের ২৪ অক্টোবর তিনি ভান্তে হয়েছেন। এরপর চার বছর তিনি হরিণা বৌদ্ধ বিহারে ছিলেন। তিন বছর রাউজানের আধারমানিক বৌদ্ধ বিহারে ছিলেন। ২০১২ সাল থেকে ফলাহরিয়ার পাহাড়ে থাকা শুরু করেছেন শরণংকর। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জের অধীনে উক্ত সংরক্ষিত বনে ৪০০-৫০০ ফুট দূরত্ব রেখে একের পর এক বৌদ্ধ ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করে চলেছেন তিনি। বৌদ্ধ ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নজিরবিহীন এ কৌশলে ফলাহারিয়া এলাকার প্রায় ৫০ একর বনভূমি দখল করে গড়ে তুলেছেন ‘জ্ঞানশরণ মহাঅরণ্য বৌদ্ধ বিহার।’
জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির জন্য তারই ছেলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে আলোচনায় আসা লোহাগাড়ার সেই রকি বড়ুয়ার সঙ্গেও কানেকশন রয়েছে শরণংকর থেরো’র। লোহাগাড়ার চরম্বায় রকি বড়ুয়ার প্রতিষ্ঠিত বিবিবিলা শান্তি বৌদ্ধ বিহারে গত বছরের ৬ নভেম্বর গিয়েছিলেন তিনি। সন্ত্রাসবিরোধী আইন, অস্ত্র, মাদকসহ ডজনখানেক মামলার আসামি হয়ে কারাবন্দি থাকা প্রতারক রকি বড়–য়ার সঙ্গে অনেক কিছুতে শরণংকর থেরো’র মিল পাওয়া যায় বলে বৌদ্ধ-নেতারা বলছেন। নিয়ম অনুযায়ী ভিক্ষু হওয়ার ২০ বছর পর ‘মহাথের’ পদবি ব্যবহার করতে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। কিন্তু শরণংকর থেরো ভিক্ষু হওয়ার ১২ বছর পর থেকে নিজেকে ‘মহাথের’ পরিচয় দিয়ে আসছেন। গত ১১ আগস্ট জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারের জন্য নিজের নামে ভূমি বরাদ্দ চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন শরণংকর। সেখানে নামের শরণংকর নামের শেষে ‘মহা’ পদবি ব্যবহার করেছেন তিনি। অন্যায়ভাবে তার মহাথের দাবি করার বিষয়ে বিস্মত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে পাহাড়ে একাকি ধ্যানমগ্ন থাকা, পায়ে হেঁটে ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়ার আধ্যাত্মিক গল্প সাজিয়ে তা কখনো পুস্তকাকারে, কখনো বা নিজস্ব লোকদের দিয়ে প্রচার করলেও প্রকৃতপক্ষে শরণংকর ভান্তের চলাফেরা এমন নয়। বেশভুশার আড়ালে তার আছে অন্য জগত। পাহাড়-চূড়ায় ‘বাংলো’ বানিয়ে থাকেন তিনি; সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসানো হয়েছে। অথচ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিলাসী জীবনযাপন করতে পারেন না। শরণংকর থেরো মাম বোতল ছাড়া পানি খান না। ভিক্ষু শরণংকর থেরো’র হাতে আইফোন সিক্সপ্লাস শোভা পায়। ব্যক্তিজীবনে বিলাসব্যসন ও আয়েশী জীবনে বিশ্বাসী শরণংকর থেরো। বিহারে ৫০ জন শ্রমণের মধ্যে অন্তত ১০ জনই আছেন, যারা সার্বক্ষণিক শরণংকর থেরো’র সেবায় নিয়োজিত।

শরণংকরের ভিক্ষু-শ্রমণ কারা?
জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করে অর্ধশতাধিক ভিক্ষু-শ্রমণ নিয়ে সেখানে বসবাস করা শুরু করেন শরণংকর থেরো। ফলাহারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মায়ানমার থেকে আসা কিছু লোকজন জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারে থাকেন। সেখানে যে স্থাপনাগুলো তৈরি করা হয়েছে সেগুলোর নির্মাণ কাজের সঙ্গে মায়ানমার থেকে আসা লোকজন যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের আরও জানান, জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারে থাকা ভিক্ষু-শ্রমণদের প্রায় সবাই অচেনা, তাদের আচরণ উচ্ছৃঙ্খল। গভীর রাতে তাদেরকে কারাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বনভূমি দখলে বাধা দেওয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে এসব ভিক্ষু-শ্রমণরা। এসব ঘটনায় বন বিভাগ মামলাও করেছে।
শরণংকরের শিষ্যরা যে সন্ত্রাসী আচরণ করে তার আরেকটি বাস্তব প্রমাণ, গত ২০-২১ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সৈয়দবাড়ি শান্তিময় বিহারের মহাথের বরণ অনুষ্ঠানে কাতালগঞ্জ বিহারের ভিক্ষু তহনাঙ্কর ভান্তেকে মারতে এসে গণধোলাইয়ের শিকার হয় শরণংকর থেরো’র বাহিনী। পরে শরণংকর থেরো মুচলেখা দিয়ে তার অনুসারীদের মুক্ত করে নেন। শরণংকর ভান্তের অনলাইন বক্তব্য মুখরোচক ও সাজানো, যার সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। উগ্রপন্থি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত শরণংকর ও তার অনুসারীরা। স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়েরও অনেকে শরণংকর ও তার বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ।
শরণংকরকে নিয়ে যা বললেন বৌদ্ধধর্মীয় নেতৃবৃন্দ

এদিকে শরণংকর থেরো’কে উগ্রপন্থি উল্লেখ করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, বৌদ্ধ ধর্মে উগ্রতার কোনো স্থান নেই। বুদ্ধ হচ্ছেন বিনয়ের আধার। শরণংকর থেরোকে উগ্রপন্থি, লোভী। মহাকারুনিক বৌদ্ধ রাজার ছেলে কিন্তু রাজ্য, ধন-সম্পদ পরিবার ত্যাগ করে অরণ্যে গিয়ে কঠোর তপস্যা করে মানবমুক্তির পথ আবিষ্কার করেছিলেন। শরণংকর থেরো জ্ঞানশরণ মহারণ্য বিহার করার নামে বন বিভাগের ১০০ একর জায়গা দখল করে গাছ নিধন করে পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের অবর্ণনীয় ক্ষতিসাধন করছেন। তাহলে ধর্মের উল্টো হলো না? তাহলে তিনি কী বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী নাকি বিভ্রান্তকারী?

তিনি বলেন, একটা বৌদ্ধ মন্দির করতে চার-পাঁচ গন্ডা জায়গা হলে যথেষ্ট। সর্বোচ্চ আধা কানি জায়গা লাগে। বন বিভাগের জায়গা দখল করে, এখানে-ওখানে দখল করে প্রতিষ্ঠান করার দরকার কী? রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বৌদ্ধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ওর (শরণংকর থেরো) কথায় কী ধরনের উগ্রতা। আর বুদ্ধের কথায় কী ধরনের সাম্যতা। যাদের ভিতরে কিছু আছে তারা খুব মোলায়েম। তারা কাউকে কটাক্ষ করবে না, দুঃখ দেবে না। অমায়িক স্বভাবের, সদালাপি হবে। কিন্তু শরনংক তার উল্টো।
তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় তালিকাভুক্ত ৮৫টি বৌদ্ধ বিহার আছে। সেখানে শরণংকর থেরো’র বিহারের নাম নেই। সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিহার। তার বিহারে লোকাল মানুষ যায় না।
শরণংকর ভান্তের অনাকাঙ্খিক্ষত বক্তব্য হতবাক করেছে উল্লেখ করে রঞ্জন বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেছেন, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কথা বলে আমাদের চরম অপমান করা হয়েছে। তার বিব্রতকর বক্তব্যে আমরা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজন প্রত্যাখ্যান করছি। ত্যাগ যদি ভোগ হয় তাহলে ওনার ভিক্ষু গুণ থাকে না। বন বিভাগের জায়গা অন্যায়ভাবে দখল করে মন্দির করার কী প্রয়োজন? এত মন্দিরে প্রার্থনা করার উপাসক নেই। নিজের স্বেচ্ছাচারিতা চরিতার্থ করতে এই ঘৃণ্য মিথ্যাচার। পাপ চাপা থাকে না। অহেতুক বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কথা বলে বিভ্রান্ত না করার জন্য রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বৌদ্ধ সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবি জানাচ্ছি।

জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বৌদ্ধ সমিতি রাঙ্গুনিয়া শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক আশীষ বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, আমি আগে জ্ঞানশরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এখন নেই। শরণংকর ভান্তে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা আমাদের জন্য শুভ নয়। তার একক সিদ্ধান্তের কারণে, মেজাজের কারণে আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি বৌদ্ধ সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তাকে রুখে দিন। নয়তো দ্বিতীয় রামু হবে তার বিভ্রান্তির কারণে, উগ্র মেজাজের কারণে। সে কারও কথা শুনে না। সে বয়সে অনেক ছোট। কিন্তু কথা বলবে, বুদ্ধের আগের। সে যে কথাগুলো বলছে, নিশ্চয়ই বিএনপির ইন্ধনে করতেছে। তার কথাগুলো আমাদের এখানে কেউ পছন্দ করে না। কারণ তিনি একতরফা কথা বলেন। তিনি মনগড়া কথা বলেন। আমি সাবধান করে দিচ্ছি উনাকে। উনি যদি বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন, তাহলে রাঙ্গুনিয়ায় আসার ক্ষেত্রে তাকে আমরাই রুখবো। কাউকে লাগবে না। আমরাই প্রতিহত করবো। ভান্তের কাপড় নিয়ে মিথ্যাচার না করার জন্যও শরণংকর থেরো’র প্রতি আহ্বান জানান আশীষ বড়ুয়া।
শরণংকর থেরো’র মারমুখী, উচ্ছৃঙ্খল ও মিথ্যা বক্তব্যে রীতিমতো হতবাক বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহ সভাপতি স্বজন কুমার তালুকদার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শরণংকর থেরো এ কী শোনালেন! বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা থাকেন বৈষয়িক প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, জাগতিক বিলাসব্যসনের উর্দ্ধে। প্রকৃত সাধক ও ধর্মীয় গুরুদের কথা শোনা দূরের কথা, সাক্ষাৎ পাওয়াও কঠিন। সেই জায়গায় ধর্মীয় লেবাসে শরণংকর থেরো উগ্র, উচ্ছৃঙ্খল আচরণে পুলিশের সাথে কথা বলছেন, চিৎকার, চেঁচামেচি করে পুলিশকে শাসাচ্ছেন। শত শত একর সরকারি জমি দখল করছেন, বনবিভাগের গাছ উপড়ে ফেলছেন, ব্যক্তিবিশেষের জায়গা দখল করে নিচ্ছেন ধর্মীয় লেবাস পরে। এটি বৌদ্ধ ধর্মের যে শিক্ষা, সে শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বরং বৌদ্ধ ধর্মকে খাটো করেছেন। তাছাড়া বৌদ্ধদের নিপীড়ন, নির্যাতনের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকারান্তরে তিনি দেশদ্রোহী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। কারণ বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রমের ফসল বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। এই সতির গল্প বিশ্বদরবারে আজ প্রশংসিত। এটি শেখ হাসিনা সরকারের বড় অর্জন, আমরা যারা সংখ্যালঘু তাদের জন্য গর্ব এবং আশা জাগানিয়া।
স্বজন কুমার তালুকদার বলেন, শত বছর ধরে রাঙ্গুনিয়ায় সকল ধর্মের শান্তিপূর্ণ বসবাসে রাঙ্গুনিয়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চলে আসছিল। আমাদের নেতা ড. হাছান মাহমুদ ২০০৮ সালে রাঙ্গুনিয়ার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর হাত ধরে সেই সম্প্রীতি আরও বেশি উজ্জ্বল্য পেয়েছে। জননেতা ড. হাছান মাহমুদের নেতৃত্বে রাঙ্গুনিয়ার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যখন নবদিগন্ত সূচিত হয়েছে, ঠিক তখনই শরণংকর ভান্তের সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য আমাদেরকে আহত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মহল বিশেষের ইন্ধনে শরণংকর ভান্তে এমন বক্তব্য দিয়েছেন কিনা আমার সন্দেহ হয় -বলেন স্বজন কুমার তালুকদার।

প্রবাসী বৌদ্ধদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টায় শরণংকর

শরণংকর থেরো কর্তৃক ৫০ একর বনভূমি জবরদখল, লাক্ষাধিক গাছ কেটে ফেলা, বনকর্মীদের মারধর ও পুলিশকে শাসানোর বিষয় জানতে পেরে দেশে অবস্থানরত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ তার বিরুদ্ধে চলে যায়। তারাও শরণংকরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে। তখন উপায়ন্তর না দেখে রাউজানের একটি বৌদ্ধ বিহারে অবস্থান করে প্রবাসী বৌদ্ধদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করে শরণংকর। বিশাল বনভূমি জবরদখলকে ভিন্ন খাতে নিতে ও নানা অপরাধ আড়াল করা জন্য তথ্যমন্ত্রী ও তার এক ভাইকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার শুরু করেন শরণংকর থেরো ও তার অনুসারীরা। এক্ষেত্রে যারা সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম সরকারের বিরুদ্ধে এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও কটুক্তি করে তাদেরকে কাজে লাগান এবং সমস্ত বানোয়াট কাহিনী প্রচার করেত থাকে। ক্ষমতাসীনদের হাতে বৌদ্ধরা নির্যাতিত হওয়ার ভুয়া অভিযোগ তুলে এবং বৌদ্ধ মূর্তি ভাংচুর হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিদেশিদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টাও করে তারা। অথচ সেখানে বন বিভাগ, পুলিশ কিংবা অন্য কেউ বৌদ্ধ মূর্তিতে হাত দেননি এবং কোন বৌদ্ধ নির্যাতিত হওয়ার কথাটি সর্বৈব মিথ্যা। এই মিথ্যার প্রতিবাদ বৌদ্ধ সমাজের নেতৃবৃন্দও করেছেন। এসব অপচেষ্টা চলার সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের একজন (ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার) ও বিভিন্ন সময় আদালতে সরকারবিরোধী অবস্থান নেয়া ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার কাছ থেকেও সহযোগিতা নেন শরণংকর।

একপর্যায়ে গত ৬ আগস্ট বিলাসী প্রাডো গাড়ি নিয়ে ঢাকায় রওনা দেন শরণংকার থেরো। উদ্দেশ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাত দেশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে সহায়তা আদায় ও নির্যাতনের ভুয়া অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করা। তবে তার এসব উসকানিমূলক কর্মকান্ডে সম্মতি দেননি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ। একপর্যায়ে ১১ আগস্ট শরণংকরকে নিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের বাসায় যান বৌদ্ধধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। তবে সেই সময়ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী দলের সদস্য ব্যরিষ্টার ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়াকে সাথে নিয়ে যান। ভুলের জন্য অনুতাপ জানিয়ে সেদিন হাতজোড় করে তথ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান শরণংকর। সেদিন জ্ঞানশরণ বৌদ্ধ বিহারের জন্য ভূমি বরাদ্দ চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী বরাবর লেখা শরণংকর থেরো’র লেখা একটি দরখাস্তে সুপারিশ করে দেন রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তবে এতদসত্ত্বেও রাঙ্গুনিয়ায় মৌলভী সমাজ ও বিভিন্ন ইসলাম ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং তারা যে কোন মূ্ল্যে তাকে রাঙ্গুনিয়ায় ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দেয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৯ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031