» সত্যবাদী রাজু আলাউদ্দিন

প্রকাশিত: ১১. অক্টোবর. ২০২০ | রবিবার

 

কামরুল হাসান 
যতদূর মনে পড়ে তার সাথে প্রথম দেখা হয় মঙ্গলসন্ধ্যার আড্ডায়। নীলক্ষেত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে প্রথম ছাত্রাবাসটির নাম এফ রহমান হল। একশ বছরের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম বাঙালি উপাচার্য এফ রহমানের নামে হলটি প্রতিবেশি সূর্যসেন ও মহসিন হলের তুলনায় আনইম্প্রেসিভ। অনেকে খেয়ালই করেন না ওখানে একটি ছাত্রাবাস আছে। সেই এফ রহমান হলের পশ্চিম পার্শ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রেস ‘উস প্রেস’ বলে যে একটি লেটার প্রেস আছে তা জানে খুব কম লোকই। আমিও জানতাম না যদি না সরকার আমিন নামের এক নায়কোচিত চেহারা ও স্বভাবের কবির সাথে দেখা করতে উস প্রেসে যেতাম। সরকার আমিন মঙ্গলসন্ধ্যা নামে একটি কবিতাকেন্দ্রিক আড্ডা বসাতেন উস প্রেসে আর ওই নামেরই একটি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতেন। ১৯৯২ সালের বইমেলায় মঙ্গলসন্ধ্যার কবিরা সাদা আর্টপেপারে কালো কালির ছাপ নেওয়া প্রচ্ছদের পাঁচটি ক্ষীণকটির কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছিলেন। ওই পাঁচ গ্রন্থ সিরিজে একটিই ব্যতিক্রম ছিল আর তা হলো রাজু আলাউদ্দিনের অনুবাদে গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা। অস্ট্রিয়ার কবি গেয়র্গ ট্রাকলের কবিতা দূরে থাক, তার নামও আমরা কেউ তখনো শুনি নি। এর দুবছর পরেই তিনি মিশরে বসবাসরত যে গ্রিক কবি সি পি কাভাফির কবিতা অনুবাদ করেছেন সেই সি পি কাফাভির নামও আমাদের সম্পূর্ণ অজানা। সেই যে রাজু আলাউদ্দিন আমাদের অচেনা বিদেশি কবি ও লেখকের সাথে পরিচিত করাতে শুরু করলেন, তা আজো অব্যাহত। দুটি বিষয় পরিস্কার হলো, রাজু আলাউদ্দিন বিদেশি সাহিত্য বিষয়ে ওয়াকিবহাল আর তিনি অনুবাদে দক্ষ।
কী করে বাংলা সাহিত্যের বিপুল ও সমৃদ্ধ ভাণ্ডার ছাড়িয়ে তার দৃষ্টি দূর দেশের সাহিত্যের মণিমাণিক্যের দিকে গেল তা এক রহস্য। প্রথাগত সার্টিফিকেট পাওয়ার পড়াশোনায় তার বিবমিষা নজরুলের মতো বিপুল, জয় গোস্বামীর মতো প্রবল। রাজু আলাউদ্দিনকে পুরোপুরি স্বনির্মিত মনে হয়। তার পাঠের ব্যপ্তি ও গভীরতা উচ্চতর সার্টিফিকেটধারীদের লজ্জিত করবে। এমন সাহিত্যকেন্দ্রিক জীবনও সহজে দেখা যায় না। বস্তুত রাজু আলাউদ্দিন জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে যা কিছু করেছেন- তার সবটাই সাহিত্যকে ঘিরে। তিনি একসময় ভাগ্যান্বেষণে মেক্সিকো চলে যান। সেটা ১৯৯৯ সাল। আমরা ভেবেছি রাজু আর ফিরবে না। কিন্তু দশ বছর পরেই সে ফিরে আসে মাতৃভূমিতে। কেননা সে অনুধাবন করে এমনকি স্প্যানিশ সাহিত্যের চর্চা ও খোদ স্পেন বা লাতিন আমেরিকায় বসে হবে না, তা করতে হবে বাংলার মাটিতে বসেই। কারণ তার কাজ হলো বাংলা ভাষার পাঠকের কাছে সুমহান স্প্যানিশ সাহিত্য তুলে ধরা, সংযোগ ঘটানো এবং বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কীর্তিগুলো হিসপানিক অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়া।
দীর্ঘ দুশ বছরের ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে আমরা বিদেশি সাহিত্য বলতে ইংরেজি সাহিত্য বুঝেছি। আমাদের সাহিত্যের রথীমহারথীগণ ইংরেজী সাহিত্যের রথীমহারথীগণ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ইংরেজি সাহিত্য ছাড়িয়ে আমাদের দৃষ্টি প্রসারিত হয়েছে রুশ ও ফরাসি সাহিত্য তক। বস্তুত অনুবাদের কল্যাণে ইংরেজি সাহিত্যের পরেই আমরা সবচেয়ে বেশি ঋণী হয়েছি রুশ সাহিত্যের কাছে। কিন্তু ওই ইউরোপেই যে আরেক অত্যন্ত সমৃদ্ধ সাহিত্য – স্প্যানিশ সাহিত্য পড়ে আছে, যার বিস্তার স্পেনের সাবেক উপনিবেশ গোটা ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে আমরা তা কমই জানতাম। স্প্যানিশ সাহিত্যের সাথে আমাদের পরিচিত করান ওপাড়ে মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, এপাড়ে রাজু আলাউদ্দিন। এ এক বড়ো কাজ রাজু আলাউদ্দিনের।
কবি তিনি, কিন্তু কবিতা নিয়ে তেমন কাজ করতে পারেননি। বিদেশি সাহিত্যের পাশাপাশি তার উৎসাহের আরেক অঞ্চল প্রতিভাবান মানুষ। রাজু তাদের সাথে বন্ধুর মতো মিশেছেন, এন্তার গালগপ্পো করেছেন, পরে সেসব সংকলিত করে সাক্ষাতকার গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। রাজুর সাথে আমার একটি অচ্ছেদ্য বন্ধন কী করে যেন তৈরি হলো, এটা এ কারণে নয় যে আমরা একই অঞ্চল শরীয়তপুরের মানুষ, বরং এই সত্য বহুপরে আবিস্কৃত হয়েছে, এবং দেখছি আবু ইসহাকের পরে ওই ভাটির অঞ্চলে সাহিত্যে সক্রিয় বলতে রাজু আলাউদ্দিন ও আমি। সাক্ষাতকার নিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা সাত, যার তিনটি হলো অনুবাদ। মণীষার নির্যাস ধরা পড়ে সাক্ষাতকারে, আর আলাপচারিতা তুলে আনে লেখকের এমন সব দিক যা তাদের রচনার ব্যাককভারেও পাওয়া যায় না। লাতিন আমেরিকার অনেক বিখ্যাত লেখকের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, এমনকি সরাসরি সাক্ষাৎ ঘটেছে তার। সে প্রতিভাবিলাসী, প্রতিভারাও তাকে ঘনিষ্ঠ কাছে ডেকে নেয়।
রাজু আলাউদ্দিন, কেন জানি না, আমার রচনায় আস্থাশীল। কী করে যেন তার মনে হলো আমি নিবন্ধ লিখতে পারবো। মেক্সিকো থেকে ফিরে এসে তিনি যোগ দিয়েছেন বিডিনিউজ২৪ডটকমে। সেখানে ‘মতামত বিশ্লেষণ’ নামে একটি উপসম্পাদকীয় গোছের পাতা তিনি সম্পাদনা করেন। আমাকে বললেন সে পাতায় লিখতে। আমি বল্লাম, ‘আমি কখনো কলাম লিখিনি। আমি কি পারবো?’ তিনি অভয় দিলেন, ‘আপনি পারবেন।’ সেটা ২০১০ সাল, প্রথম নিবন্ধটি লিখলাম ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার উপর; নিবন্ধের শিরোনাম ‘শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ’। তখন বিশ্বকাপ ফুটবল চলছে, দ্বিতীয় নিবন্ধ লিখলাম ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্রে নামগন্ধহীন বাংলাদশের মানুষদের সুদূরের দুটি দেশ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল নিয়ে মাতোয়ারা হওয়ার গল্প ‘খেলছে ওরা, কাঁপছি আমরা’ শিরোনামে। রাজু আলাউদ্দিনের প্রশ্রয়ে সেই আমার গদ্য লেখার শুরু। পরে এক এক করে সাড়ে তিনবছরে লিখলাম ৪৭টি নিবন্ধ- যার সিংহভাগ ছাপা হলো বিডিনিউজ২৪ডটকমে, বাকিটা দৈনিক সকালের খবরে। দুটি নিবন্ধ দৈনিক কালের কণ্ঠে। আমি যে এখন প্রচুর গদ্য লিখি, বিশেষ করে ভ্রমণগদ্য, তার সূচনা কিন্তু ওই কলাম লেখা থেকে। আর সে উৎসমুখ খুলে দিয়েছিলেন রাজু আলাউদ্দিন। ‘প্রহরের প্রস্তাবনা’ বইটি তাকে উৎসর্গ করেই আমার ঋণ শোধ হয়েছে বলে মনে করি না, বস্তুত রাজু আলাউদ্দিনের কাছে আমার ঋণ অপরিশোধ্য।
যেমন স্প্যানিশ সাহিত্যের অনুবাদকর্মে তিনি আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন। সে সাহিত্যের এক মহারথী হর্হে লুই বোর্হেসের গল্প, প্যারাবল, কবিতা, প্রবন্ধ ও সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনি যখন পাঁচটি বাংলা অনুবাদগ্রন্থ প্রকাশের উদযোগ নেন, তখন তাতে আমাকে সম্পৃক্ত করেন। রাজু আলাউদ্দিন বলার আগে আমি বোর্হেস সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। এমনিভাবে তিনি পরিচিত করিয়েছেন ওক্তাভিও পাজ, ফুয়েন্তেস ও মারিও ভারগাস ইয়োসার সাহিত্যকর্মের সাথে। সাধারণত ফরমায়েশি লেখা আমি লিখতে পারি না, কিন্তু সত্যি হলো রাজু আলাউদ্দিন আমাকে দিয়ে অনেক ফরমায়েশি লেখা লিখিয়ে নিয়েছেন। সেসবের বেশিরভাগ স্প্যানিশ সাহিত্যের অনুবাদ, কিছু সেলিব্রিটি কবি লেখকদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা। একদিন এসব লেখা নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশের ইচ্ছা আমার।
এখন রাজু আলাউদ্দিনকে বাংলায় স্প্যানিশ সাহিত্যের একজন দিকপাল মনে করা হয়। কেবল অনুবাদকর্মে মেতে থাকলে তিনি ওই উচ্চতায় যেতে পারতেন না। তিনি স্প্যানিশ সাহিত্য নিয়ে যেসব বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ লিখেছেন তার গভীরতা উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে। এক অননুকরণীয় ভাষা শুধু নয়, তার দেখবার চোখটি মৌলিক। প্রথাগত প্রবন্ধ তিনি লিখেন না, যা লিখেন তাতে মৌলিক ভাবনা সন্নিবেশিত থাকে। রাজু নতুন করে চিনিয়ে দিচ্ছেন লাতিন আমেরিকার প্রতিভাসমূহকে। তার আগ্রহের পরিধি বহুমাত্রিক, তা রবীন্দ্রনাথ থেকে টেড হিউজ পর্যন্ত বিস্তৃত। লাতিন আমেরিকায় রবীন্দ্রনাথ চর্চা নিয়ে তার কাজটি মূল্যবান।
রাজু আলাউদ্দিনের চরিত্রের দুটি বিরল দিক হলো সে সাহসী ও সত্যবাদী। কোদালকে সে কখনো সোনার তৈরি রাজযন্ত্র বলবে না। যে সকল কোদাল রাজযন্ত্র হতে গেছে তাদের প্রতি তার প্রবল ঘৃণা। বস্তুত স্তুতিভরা আপোষকামীদের যে বিপুল স্রোত তৈরি হয়েছে সাম্প্রতিক সাহিত্যাঙ্গণে, রাজু তার বাইরে। অন্যায়কে অন্যায়, অপশাসনকে অপশাসন বলার সাহস ও সত্যবাদিতা তার আছে, ফলে ক্ষমতাসীনদের সাথে তার যদিওবা সৌজন্য বজায় থাকে, সখ্য হয় না। স্পষ্টবাদীতার জন্য অনেক ‘বড়ো’ মানুষের সাথে বন্ধুত্ব ভেঙে গেছে, রাজু আলাউদ্দিন তোয়াক্কা করেন নি। অনেক প্রতিষ্ঠানের সাথে তার বিরোধ প্রকাশ্য। রাজু আলাউদ্দিনের চেতনা তাই আদর্শিক। একবার ভেঙে গেলে তা আর জোড়া লাগে না, বড়োর চারিত্রিক ভঙুরতা তাকে কষ্ট দেয়, মুখোশের আড়ালে মুখটি দেখে সে সরে আসে। যারা রাজু আলাউদ্দিনের প্রতিভাকে জানে ও শ্রদ্ধা করে তারা কিন্তু তার সঙ্গ ছেড়ে যায় না। প্রকাশ্যে ও গোপনে রাজুর প্রশংসা করে।
প্রবল আড্ডাবাজ, পান ও প্রেমপ্রিয় রাজু আলাউদ্দিন আজীবন প্রেমে পড়ে গেলেন, কিন্তু তার প্রধান প্রেম সাহিত্যের সাথেই। নিভৃতে প্রচুর কাজ করে চলেছেন তিনি। স্প্যানিশ ভাষার প্রেমে পড়ে শিখে নিলেন সে সাঙ্গীতিক সুরমাধুর্যের ভাষাটি। মেক্সিকোর তিগুয়ানা অঞ্চলে বসবাসের সুবাদে সে আয়ত্ত্ব করে নেয় স্প্যানিশ ভাষা। এর দ্বিমুখী সফলতা। এক, সে সরাসরি মূল স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে পারে; দুই, সে স্প্যানিশ সাহিত্য অবিকৃতভাবে পড়তে পারে। এই পাঠ সেই অতলান্তিক গভীরতার সাহিত্যসম্ভার থেকে নতুন নতুন সব আলো দেখায়, তিনি চমকে দেবার মতো সব সম্পর্ক, যোগসূত্র তুলে আনেন, বিবাহ ঘটান বাংলার সাথে স্প্যানিশের। ভাষাটি তাকে এতই মুগ্ধ করে যে তিনি সে ভাষায় কথা বলা নারীকে বৈবাহিকীসূত্রে জড়ান আর নিয়ে আসেন বাংলাদশে। মেক্সিকোর মেয়ে মরিসলের বাঙালি বঁধূ হয়ে ওঠা রাজু আলাউদ্দিনের প্রেমের জয়। বস্তুত ভেতরে বাইরে বোহেমিয়ান রাজু আলাউদ্দিনের দীর্ঘকাল ধরে চুপচাপ সংসার করাটা তার বন্ধুদের কাছে বিস্ময়! রাজুর ছেলে নিজার এখন ১৮ বয়সের যুবক, মেয়ে মায়া ৮ বছরের বালিকা। নিজার ভীষণ মায়াশীল শান্ত স্বভাবের এক ছেলে। মায়া সভ্যতার অনুরক্ত রাজুর মেয়ে মায়া জন্মগ্রহণ করেছে অঙ্কনপ্রতিভা নিয়ে। বালিকার আঁকাআঁকি সেই শৈশব থেকেই যখন সৃজনশীলতায় আগ্রহী মাতাপিতা ঘরের দেয়ালগুলোকে তার কল্পনা বিস্তারের জন্য ড্রয়িং খাতার পাতা বানিয়েছিল।
আর্টের প্রতি রাজুর তীব্র আকর্ষণ। প্রথাগত পড়া নয় চিত্রকলার প্রদর্শনী দেখতে দেখতে চিত্রকলার প্রেমিক হয়ে ওঠা। এ জায়গাটা আমার সাথে তার মিলে যায়। যা মিলে না তা হলো বড়ো বড়ো শিল্পীদের সাথে তার সখ্য, যা আমার নেই। শিল্পী মুর্তজা বশীরের সাথে আমৃত্যু বন্ধুত্ব ছিল তার। তাঁর সাথে দীর্ঘ আালাপচারিতা নিয়ে রাজুর বই ‘আমি আনন্দ ছাড়া আঁকতে পারি না’। এছাড়া শিল্পী শাহাবুদ্দীন ও শিল্পী রফিকুন নবীর সাথে শিল্প বিষয়ক আলাপচারিতার দুটো গ্রন্থ আছে। এসব আলাপচারিতায় রাজুর শিল্পবোধ ও শিল্পজ্ঞান দেখলে বিস্মিত হতে হয়। বস্তুত রাজু আলাউদ্দিনের কাজের পরিধি বিস্ময়কর!
আগেই বলেছি অনুবাদ আর গদ্য নিয়ে তার সুবিস্তৃত কাজ থাকলেও তিনি নিজেকে কবি হিসেবে পরিচয় দিতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। বিদেশি কবিদের কবিতা প্রচুর অনুবাদ করলেও তার নিজের কাব্য মাত্র একখানা। ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘আকাঙ্ক্ষার মানচিত্র গোপনে এঁকেছি’ কাব্য। এর একটি আলোচনা লিখে আমি রাজুর প্রতি আমার ঋণ কিছুটা পরিশোধ করার প্রয়াস পাই। প্রথাগত কবিদের মতো তিনি ভুরিভুরি কবিতা রচনা করেন না – এ যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি গদ্যের বিপুল প্রবাহে তার কাব্যধারার ক্ষীণ হয়ে ওঠা। তার কবিতায় সুগভীর দেশপ্রেম টের পাওয়া যায় আর অনুভব করা যায় নিজেকেই পুনরাবৃত্ত না করার দৃঢ়তা। ফলে প্রতিটি কবিতাই আলাদা স্বাদ আনে।
অনুবাদ, সম্পাদনা, প্রবন্ধ, গদ্য, সাক্ষাৎকার, কবিতা মিলে রাজু আলাউদ্দিনের গ্রন্থসংখ্যা ত্রিশ। অনুমান করি অনেক পাণ্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায়। নিভৃতে ও প্রায় নীরবে বড়ো মাপের কাজ করে চলেছেন প্রচারবিমুখ রাজু আলাউদ্দিন। তাকে মূল্যায়ন করা এখন জরুরী।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩৭ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031