» সরকারের উন্নয়নে কালিমা লাগালে সহ্য করা হবে না

প্রকাশিত: ২০. সেপ্টেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

সরকারের উন্নয়নে কালিমা লাগালে সহ্য করা হবে না । দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সাফ জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদচ্যুত করার পর যুবলীগের ঢাকার এক নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেছেন, আমি ছাত্রলীগের পর এখন যুবলীগকে ধরেছি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্যের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা গণভবনে দেখা করতে যান । সেখানে শেখ হাসিনা তার এই কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের বলেন, সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময় বিব্রত হতে হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠলে কঠোর মনোভাব দেখান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশের পর পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতা। ওই বৈঠকে যুবলীগের কয়েক নেতার কর্মকাণ্ডেও অসন্তোষ ঝরে তার কণ্ঠে।

এরপর যুবলীগের নেতাদের জুয়ার আখড়া চালানোর খবর চাউর হওয়ার মধ্যে বুধবার ঢাকায় চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতাকে।

ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথায় প্রধানমন্ত্রী অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর প্রসঙ্গও তোলেন।

তার বরাত দিয়ে হাসান জাহিদ তুষার বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্যাসিনো নিয়ে মারামারি, খুনোখুনি সহ্য করব না।

ক্যাসিনোর সাথে যারা যারা জড়িত, তারা এদেশে কীভাবে আসল? কীভাবে ভিসা পেল? তাদের বেতন কীভাবে দেওয়া হয় ক্রেডিট কার্ডে নাকি ক্যাশে? কে ভিসা দিয়ে আনল, সবকিছু তদন্ত করা হচ্ছে।

সংগঠনের ভাবমূর্তি ও দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে ছাত্রলীগকে কাজ করার তাগিদ দেন তাদের ‘সাংগঠনিক নেত্রী’ শেখ হাসিনা। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

ছাত্রলীগের নেতাদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছেন, মোটর সাইকেল নিয়ে চলতে হবে, প্রটোকল নিয়ে চলতে হবে, ক্ষমতার সাথে চলতে হবে, এগুলো করা যাবে না। এগুলো করলে সাময়িকভাবে কিছু টাকা-পয়সা হবে। কিন্তু হারিয়ে যাবে। সেটা হবে দুঃখজনক। এটা আমি তোমাদের কাছে চাই না।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কাছে নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধুকন্যা হাসিনা।

যত প্রতিকূল অবস্থা আমার জীবনে মোকাবেলা করতে হয়েছে, এটা বাংলাদেশে আর কারও মোকাবেলা করতে হয়নি। আমাকে অনেক অফার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জীবনে কখনও কম্প্রোমাইজ করিনি।

এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে জানিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সজাগ থাকার আহ্বানও জানান শেখ হাসিনা।

মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়, এমন কোনো কাজে যুক্ত না থাকতে ছাত্রলীগ নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি।

মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দিতে হবে। পাওয়ারে গিয়ে পাওয়ার শো আপ করা ছাত্রনেতাদের থেকে আশা করি না। তাদের বিনয়ী হতে হবে। সাধারণ মানুষ বিরক্ত হলে সরকার যে সুন্দর পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেটা নষ্ট হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের কারণে এক সময় বাংলাদেশের সমালোচনা করত যারা, তারাই এখন প্রশংসা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যারা বলেছিল এদেশ বটমলেস বাস্কেট হবে..পাকিস্তান বলেছিল বাংলাদেশে নাকি বোঝা। আজকে তাদের ওখানে আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশে এখন এমন হলো কীভাবে।

ছাত্রলীগকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে চলার পরামর্শ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “সত্যিকারে নীতি-আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে সংগঠন একটা শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। তাহলে মানুষের আস্থা বিশ্বাস ছাত্রলীগের উপর অনেক বাড়বে।”

ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমাদের উপর বিশ্বাস-আস্থা নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছি। নীতি, আদর্শ, সততা, সংযম নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। যদি সেটা না কর, একটি আদর্শ নিয়ে যদি না চল, তাহলে ভবিষ্যতে দেশকে কার কাছে রেখে যাব?”

বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের মতো আচরণ না করতে ছাত্রলীগের নেতাদের পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।

“(বিএনপি) সরকারে আসার পর ছাত্রদল যেমন আচরণ করেছিল, তেমন করা যাবে না। সরকারে থাকার সময় যদি ওদের মতো আচরণ করা হয়, তাহলে আমাদের অবস্থাও তাদের মতো হবে।”

এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি এম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৮৫ বার

Share Button