শিরোনামঃ-


» সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারছে না, অভিযোগ ফখরুলের

প্রকাশিত: ২৭. মে. ২০১৯ | সোমবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার :

নানা রকম আইন ও কালাকানুনের কারণে সাংবাদিকরা তাদের মহান পেশার দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করে সরকার সাংবাদিকদের স্বাধীনতা হরণ করেছে। অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটার পর একটা পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছে, টিভি চ্যানেলগুলো বন্ধ করা হয়েছে, অসংখ্য সাংবাদিকরা চাকরিচ্যুত হয়েছে। অনলাইনগুলোও বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্টের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের সমস্ত স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। সোমবার (২৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের আয়োজন প্রায় সম্পন্ন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। এটি এখন সম্পূর্ণভাবে পরনির্ভরশীল স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের কবলে পড়ে একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এটা শুধু আমাদের কথা নয়, আজকে আন্তর্জাতিকভাবে একথা স্বীকৃত হয়েছে যে, বাংলাদেশ একনায়কতন্ত্রের অন্যতম।

তিনি বলেন, আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি করতে শুরু করেছিলাম, যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অর্জন করেছিলাম একে একে তাকে ধবংস করে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশের যে এখন বিচার ব্যবস্থা, সেই বিচার ব্যবস্থাকে তারা দলীয়করণ করেছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তারা তাদের নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে।

সম্পূর্ণ অর্থনীতির ওপরে সরকার লুটের রাজত্ব কায়েক করেছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এরা সব সময় বড়াই করে বলে যে, উন্নয়ন হচ্ছে, অনেক উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু আমরা খবরের কাগজ খুললে দেখতে পাই, সন্তানের ঈদের কাপড় কিনে দিতে না পারার জন্য মা আত্মহত্যা করেছে। এক ভদ্রলোক তিনি তার সন্তানকে লিচু কিনে দিতে পারেনি, বাচ্চা যখন কাঁদতে শুরু করেছে তখন সে রাগে ক্ষোভে বাচ্চাকে হত্যা করেছে। খবরের কাগজ খুললে দেখবেন, কিভাবে সামাজিক সমস্ত মূল্যবোধ ভেঙ্গে পড়ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন আর আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। আমাদের সন্দেহ হয়, আসলে সরকার বলতেও কিছু আছে কিনা। এখন মূল কথা দাঁড়িয়েছে, জবাবদিহিতা তো কারো নেই এখন। সেই জবাবদিহি করতে হয় না বলে যে যার মতো ইচ্ছা করে যে যার মতো লুট করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে না। বিচার বিভাগ, শিক্ষকরা, চিকিৎসকরা তাদের দায়িত্ব করতে পারছে না। সবখানে একটা অস্বস্তিকর, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরনে সকলকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ যে আন্দোলন ও সংগ্রাম সেই আন্দোলন-সংগ্রামের কাছে কখনোই কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না। তার পতন অবশ্যই হবে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ উত্থান সূচিত হবে সেই উত্থানে স্বৈরাচার, একনায়কতন্ত্র, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা গুঁড়িয়ে যাবে। জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটা সংসদ ও সরকার তৈরি করতে পারবে। এজন্য দেশে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় একটি নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে ইফতারে বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক তাসনীম আলম প্রমূখ। এছাড়া সিনিয়র সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১২ বার

Share Button