» সাকিবের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি : পাপন

প্রকাশিত: ২৬. অক্টোবর. ২০১৯ | শনিবার

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: ক্রিকেটারদের ধর্মঘট শেষের পর যখন টাইগার ভক্তরা খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করেছিলেন, তখনই এলো আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ। বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও ওয়ানডে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম কোম্পানি গ্রামীণফোনের সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত চুক্তি করার অভিযোগে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তিনি নাকি চুক্তি করার আগে বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নেননি বলে জানা গেছে। বোর্ডের কাছে ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট ডাকার ঠিক একদিন পর গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেন সাকিব। বিসিবির চুক্তি অনুযায়ী নাকি একজন জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো খেলোয়াড় টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না। গণমাধ্যমে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘সে (সাকিব) কোনো টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারে না। এবং কেন পারে না তা আমাদের চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা আছে।’ তিনি বলেন, ‘রবি (টেলিকম) আমাদের টাইটেল স্পন্সর ছিল এবং গ্রামীণফোন বিড না করেও ১ কোটি কিংবা ২ কোটি টাকা দিয়ে কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এতে কি হলো? তিন বছরে বোর্ড ৯০ কোটি টাকা হারালো। কয়েকজন খেলোয়াড় লাভ করবে আর বোর্ড ভুগবে, এটা হতে পারে না। এজন্য তাদের চুক্তিতে সব উল্লেখ করা আছে।’ ‘আমার ধারণা, এমনকি মন্ত্রণালয় থেকেও তাদের না জানিয়ে টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে খেলোয়াড়দের চুক্তি স্বাক্ষরে নিষেধ করা হয়েছে। তাহলে সে কীভাবে আমাদের না জানিয়ে চুক্তি করলো? আর টাইমিংটা দেখুন। এটা (চুক্তি স্বাক্ষর) এমন সময় করে হয়েছে যখন (ধর্মঘটের কারণে) ক্রিকেট বন্ধ,’। পাপন বলেন, ‘আমরা তার (সাকিব) বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না। আমরা জবাব চাইবো। আমরা কোম্পানি ও খেলোয়াড় দুই পক্ষের কাছেই জবাব চেয়ে নোটিশ দিতে বলেছি। অর্থাৎ আমরা সাকিবকে একটা সুযোগ দিতে চাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দিতে পারলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এদিকে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন জানিয়েছেন, গ্রামীণফোনের সঙ্গে সাকিবের চুক্তির বিষয়টি তারা জানতেন না। তাছাড়া যেকোনো বিজ্ঞাপন বা চুক্তি করার আগে সব খেলোয়াড়কেই বোর্ডের অনুমতি নিতে হয়। তিনি বলেন, ‘সাধারণত যা হয়, জাতীয় স্পন্সরদের সঙ্গে কোনো ঝামেলা এড়াতে আমরা খেলোয়াড়দের কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে নিষেধ করি। এখন আমাদের জাতীয় দলের স্পন্সর ইউনিলিভার। তবে তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ। এখন আমাদের কোনো খেলোয়াড় যদি কোনো টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে, তাহলে অন্য কোনো টেলিকম কোম্পানি বিড করার আগ্রহ হারাবে।’ ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। পরে বিসিবির সঙ্গে ক্রিকেটারদের বৈঠকের পর সংকটের আপাতত অবসান হওয়ায় আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে অনুশীলনে ফিরেছেন ক্রিকেটাররা। কিন্তু সাকিবকে দেখা না যাওয়ায় তা নিয়ে ক্রিকেট পাড়ায় সবার মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে যায়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩৮ বার

Share Button

Calendar

October 2020
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031